বাংলাদেশে রথযাত্রা উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তা, গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারে সতর্ক থাকার আহ্বান
ঢাকা:
আগামী ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে চলা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা উপলক্ষে বাংলাদেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, রথযাত্রা এবং ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত উল্টো রথযাত্রা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমন্বয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, শোভাযাত্রার রুটজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দা, সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ছাদে নজরদারি দল, মোবাইল প্যাট্রোল, ট্রাফিক পুলিশ এবং সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। আয়োজকদেরও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন এবং সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা বস্তু দেখলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং ধর্মীয় উত্তেজনার বিভিন্ন দাবি ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীন বা সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নাগরিকদের গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে রথযাত্রা একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে প্রশাসন আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বড় জনসমাগম হওয়ায় নিরাপত্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং নজরদারির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীদের একাংশের মতে, সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই শুধু উৎসবের দিন নিরাপত্তা মোতায়েন নয়, সামাজিক মাধ্যমে বিদ্বেষমূলক প্রচার, উসকানি এবং গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধেও দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রথযাত্রা যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষ নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।