নয়া দিল্লি ঃ
ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের ১৪তম দিনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দিলেন চাঞ্চল্যকর খবর। এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বিবৃতি দেন ইসরায়েলি হামলায় ইরানের একাধিক শীর্ষ পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পকে মারাত্মক আঘাত দিয়েছি। শীর্ষ বিজ্ঞানীদের হত্যা করা হয়েছে, যারা এই কর্মসূচির মূল চালিকাশক্তি ছিলেন।” এই দাবি যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলের লক্ষ্য স্পষ্ট করে দিয়েছে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা।
নেতানিয়াহু আরও বলেছেন, যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান ইরানকে তার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক প্রকল্পগুলোকে ভূগর্ভস্থ করতে বাধা দিয়েছে। “ইরান আর আগের ইরান নেই,” তিনি জোর দিয়ে বলেন।এই সংবাদ সম্মেলন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নেতানিয়াহুর প্রথম বড় বক্তৃতা। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের সামরিক ঘাঁটি, বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি), বাসিজ বাহিনী এবং পারমাণবিক স্থাপনায় একের পর এক হামলা চালিয়েছে।
নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, এই হামলাগুলো ইরানের নেতৃত্ব, সামরিক শক্তি ও ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিকে গুরুতর ক্ষতি করেছে। তিনি ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ মোজতাবা খামেনিকে “রেভল্যুশনারি গার্ডের পুতুল” বলে অভিহিত করেছেন, যিনি জনসমক্ষে আসতে ভয় পান। ইরানের জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “এখন নতুন স্বাধীনতার পথ। ভবিষ্যৎ আপনাদের হাতে। আমরা শাসনের পতনের জন্য সর্বোত্তম পরিস্থিতি তৈরি করছি।”
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও আমেরিকার জন্য বড় হুমকি। ইরান বলে আসছে এটি শান্তিপূর্ণ, কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো সন্দেহ করে এতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চলছে। অক্টোবর ২০২৪-এ ইসরায়েল একটি পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করেছিল, কিন্তু স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছিল ইরান তা পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক হামলায় সেই স্থাপনায় আবার আঘাত হেনেছে ইসরায়েল।
নেতানিয়াহু বলেছেন, বিজ্ঞানীদের হত্যা ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পকে বছরের পর বছর পিছিয়ে দিয়েছে। তবে বিজ্ঞানীদের নাম বা সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলেননি শুধু বলেছেন “শীর্ষ বিজ্ঞানী” ও “একাধিক”।ইরানের পক্ষ থেকে এখনও এই দাবির বিরুদ্ধে কোনও বিবৃতি আসেনি, কিন্তু তারা হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে নতুন মিসাইল হামলা শুরু হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা এগুলো প্রতিরোধ করছে। এই যুদ্ধে ইরানের নেতৃত্ব, সামরিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।