ঈদে ট্রেন্ডি কাশ্মীরি ঝুমকা: ফ্যাশন ও পরম্পরার মিলন
Story by atv | Posted by Aparna Das • 1 Months ago
প্রতীকী ছবি
অর্চলা খান / নয়া দিল্লি
ঈদ মানেই আনন্দ, সাজসজ্জা আর নতুনত্বের এক বিশেষ অনুভূতি। এই বিশেষ সময়ে ফ্যাশনের জগতেও দেখা যাচ্ছে এক নতুন ধারা। পোশাকের দোকানের পাশাপাশি গহনার দোকানগুলোতেও ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ঝুমকার দোকানগুলোতে তরুণীদের দৃষ্টি যেন আটকে যাচ্ছে। যেখানে কাশ্মীরি ঝুমকা সবার জন্য একটি আকর্ষণীয় পছন্দ হয়ে উঠেছে। সূক্ষ্ম কারুকাজ ও অনন্য ডিজাইনের এই ঝুমকাগুলো শুধু অলংকার নয়, বরং ঐতিহ্য ও রুচির এক সুন্দর প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই এবারের ঈদের আগে কাশ্মীরি ঝুমকা বিশেষ আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন ডিজাইনের এই ঝুমকাগুলো বিভিন্ন শহরের বাজারে দ্রুত বিক্রি হচ্ছে।
ঝুমকা ভারতীয় অলংকারের মধ্যে অন্যতম প্রাচীন গহনা হিসেবে পরিচিত। এর উৎপত্তি বহু প্রাচীন কাল থেকেই হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, ঝুমকার প্রচলন প্রাচীন ভারতের সঙ্গে যুক্ত। সিন্ধু সভ্যতার মূর্তি এবং পরবর্তী বহু শিল্পকর্মে নারীদের কানে ঝুমকার মতো অলংকার দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই গহনা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজস্ব স্থান করে নিয়েছে। মোগল যুগেও ঝুমকার কারিগরি ও নিখুঁততা আরও উন্নত হয়েছিল। কারণ এতে জটিল নকশা খোদাই করার পাশাপাশি মুক্তার ব্যবহারও বেড়েছিল। ধীরে ধীরে এই অলংকার ভারতীয় সংস্কৃতি ও পোশাকের একটি স্থায়ী অংশ হয়ে ওঠে।
এই ঐতিহ্যের একটি বিশেষ রূপ দেখা যায় কাশ্মীরি ঝুমকায়। কাশ্মীরের কারিগরি বহুদিন ধরেই তার সূক্ষ্মতার জন্য পরিচিত। সেখানে কারিগররা ধাতু ও রূপার উপর অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে কাজ করেন। এই সূক্ষ্মতা কাশ্মীরি ঝুমকাতেও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এর ডিজাইনগুলো ঐতিহ্যবাহী হলেও এতে একটি আলাদা মনোমুগ্ধকর আকর্ষণ রয়েছে।
এবার ঈদের জন্য বাজারে কাশ্মীরি ঝুমকার চাহিদা বেড়েছে। দিল্লি, লখনউ, জয়পুরসহ বিভিন্ন শহরের বাজারে ঝুমকার নানা ডিজাইন দেখা যাচ্ছে। দোকানদারদের মতে, তরুণীরা এই ঝুমকাগুলোর প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট। তাদের কথায়, ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে কাশ্মীরি ঝুমকা দারুণ মানায়। তাই ঈদের মতো উৎসবে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঝুমকা কিনছেন।
কাশ্মীরি ঝুমকার বিশেষত্ব লুকিয়ে আছে এর ডিজাইনে। এতে নানা ধরনের আকার পাওয়া যায়। রূপালি কাশ্মীরি ঝুমকা সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই রূপালি ঝুমকাগুলোতে সূক্ষ্ম নকশা খোদাই করা থাকে। পাশাপাশি বাজারে অক্সিডাইজড ঝুমকাও বেশ জনপ্রিয়। একটু গাঢ় রঙের এই ঝুমকাগুলো ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে অনন্য সৌন্দর্য এনে দেয়।
কিছু কাশ্মীরি ঝুমকায় রঙিন পুঁতি ও ছোট পাথরের ব্যবহার করা হয়, যা এগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। অনেক ডিজাইন ঘণ্টার মতো আকৃতির হয়, যাকে ঘণ্টা আকৃতির ঝুমকা বলা হয়। এগুলোর আকার তুলনামূলক বড় এবং হাঁটার সময় হালকা ঝংকার শোনা যায়। আবার অনেকেই ছোট ও হালকা ডিজাইনের ঝুমকা পছন্দ করেন, যা দৈনন্দিন পোশাকের সঙ্গেও মানিয়ে যায়।
বাজারের পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও কাশ্মীরি ঝুমকা ব্যাপকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন ই-কমার্স ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়া স্টোরে নতুন নতুন ডিজাইন পাওয়া যাচ্ছে। এখানে মানুষ নিজের পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী ঝুমকা বেছে নিতে পারেন। তবে এখনও অনেকেই সরাসরি বাজারে গিয়ে গহনা কিনতে পছন্দ করেন, কারণ তাদের মতে গহনার আসল সৌন্দর্য কাছ থেকে দেখলেই বোঝা যায়।
ঈদের উৎসব আনন্দ ও সৌন্দর্য প্রকাশের এক বিশেষ উপলক্ষ। এই সময়ে ছোট ছোট অলংকারও পুরো সাজে আলাদা মাত্রা যোগ করে। সেই কারণেই কাশ্মীরি ঝুমকা এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী কারুকাজ ও আধুনিক ফ্যাশনের এই মিশ্রণ ঈদের জন্য এক নতুন আকর্ষণ তৈরি করেছে। তাই এবারের ঈদের আগে বাজারে কাশ্মীরি ঝুমকার উজ্জ্বল উপস্থিতি স্পষ্টভাবে নজরে পড়ছে।