দুর্গাপুরের আদিবাসী মেয়ে শ্রেয়া কর বাংলা ও ভারতীয় দলে খেলার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন

Story by  Shanti Roy Chowdhury | Posted by  Aparna Das • 17 h ago
দুর্গাপুরের আদিবাসী মেয়ে শ্রেয়া কর বাংলা ও ভারতীয় দলে খেলার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন
দুর্গাপুরের আদিবাসী মেয়ে শ্রেয়া কর বাংলা ও ভারতীয় দলে খেলার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন
 
শান্তিপ্রিয় রায়চৌধুরী 

ভারতের আদিবাসী মেয়েরা দারিদ্র্য, কুসংস্কার ও প্রতিকূলতাকে জয় করে খেলাধুলায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছেন। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি থেকে শুরু করে অ্যাথলেটিক্সে তারা রাজ্য,জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। বাংলার বাঁকুড়া-বর্ধমান বা ঝাড়খণ্ডের প্রত্যন্ত গ্রামের আদিবাসী মেয়েরা দারিদ্র্য, কুসংস্কার ও প্রতিকূলতাকে জয় করে খেলাধুলায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছেন। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি থেকে শুরু করে অ্যাথলেটিক্সে তারা রাজ্য, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে রাজ্য ও দেশের নাম উজ্জ্বল করছেন।

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া, বর্ধমান ও জঙ্গলমহল এলাকায় ফুটবল এখন আদিবাসী মেয়েদের জয়জয়াকার। রাজু ও ললিতা ওরাওঁ-এর মতো উদ্যোগতারা গ্রামীণ মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের জেলা,রাজ্য ও জাতীয় দলের স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করছেন। হকিতে তো ঝাড়খণ্ডের জয়জয়াকার। এই জেলার আদিবাসী মেয়ে সাবিত্রী পূর্তি ১৯৮৩ সালে ভারতীয় মহিলা হকি দলে সুয়োগ পেয়ে ইতিহাস তৈরি  করেছিলেন, যা আজও হাজারো মেয়েকে অনুপ্রাণিত করে। 
 

ক্রিকেটে কেরালার ওয়েনাডের আদিবাসী মেয়ে মিন্নু মণি ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। এই মিন্নু ওই অঞ্চলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছেন।এদিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের মণিকা চাকমা, রিতু চাকমা, রূপনা চাকমা সহ আরো অনেক আদিবাসী ফুটবলার মেয়ে ভারতের মহিলা ফুটবলে বিশেষ সাফল্য পেয়ে চলেছেন। 
 
আর এদের পথ ধরেই এগিয়ে আসছেন দুর্গাপুরের তীর্থ চট্টোপাধ্যায়ের উখড়া কোচিং ক্যাম্প থেকে শ্রেয়া  কর। সে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মেয়ে। শ্রেয়ার বাবা সন্ন্যাসী করা প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী ও মা সরস্বতী করা একজন সাধারন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। একমাত্র দাদার টিউশনির টাকা আর মায়ের সামান্য উপার্জনে চলে সংসার। এই সংসারের মেয়ে খেলাধুলা করবে সে তো এক বিলাসিতার ব্যাপার। কিন্তু শ্রেয়া সে সব শুনতে চায় না। সে ফুটবল খেলে বাংলা ও ভারতীয় দলে খেলবে এটাই তার স্বপ্ন।
 
শ্রেয়া কর
 
আসলে ছোটবেলা থেকে বাবা ও দাদার ফুটবল খেলা দেখতে দেখতে শ্রেয়ার ফুটবলের সঙ্গে হয় প্রেম। তার ভাগ্যটা আরো খুলে যায় যখন স্থানীয় এক খেলার ময়দানে তার খেলা দেখে পছন্দ হয়ে যায় উখড়া কোচিং ক্লাবের কোচ তীর্থ চট্টোপাধ্যায়ের। তারপর থেকে শ্রেয়া কিন্তু তীর্থ বাবুর কোচিং ক্যাম্পে কোচিং নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। 
 
অনেকটা দূর এগিয়ে গেছেন শ্রেয়া। ইতিমধ্যে ২০২৩ সালে কোচবিহারে পশ্চিম বর্ধমানের হয়ে ডিস্ট্রিক্ট খেলে সেখান থেকে জাতীয় স্তরে খেলার সুযোগ পান। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় অনূর্ধ্ব ১৯ বাংলা দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। ওই বছরেই কলকাতার সার্দান সমিতির হয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ রিলায়েন্স কাপে খেলেন। ২০২৫ এ রিলায়েন্স কাপ ও কন্যাশ্রী বি প্রতিযোগিতায় খেলেন। এবছর কলকাতা মৈত্রী সংঘের এ ক্লাবের হয়ে কন্যাশ্রী কাপে খেলবেন শ্রেয়া।
 
শ্রেয়া তার দলের সঙ্গে
সংসারের দারিদ্রতা উপেক্ষা করে শ্রেয়া এগিয়ে চলেছেন। তার ইচ্ছা আগামী দিনে বাংলা ও ভারতীয় দলে খেলা। সে কিছু করবেই, সেই সংকল্প আর দৃঢ়তা তার মনের মধ্যে আছে। 
 
শ্রেয়ার স্কুল ছিল বর্ধমানের পুলিন বিহারী বালিকা বিদ্যালয়। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ঈশিতা দে কখনো তার খেলার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ান নি,বরং উৎসাহ দিয়েছেন।বর্তমানে সে পশ্চিম বর্ধমান খান্দ্রা  কলেজ থেকে শরীর শিক্ষা বিভাগে ফার্স্ট সেমিস্টারের পরীক্ষা দিয়েছে।  তার তীর্থ স্যর খেলাধুলা এবং পড়াশোনার দিক দিয়ে তাকে আর্থিক সাহায্য করেন।