প্যারিস
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মঙ্গলবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তার দেশ প্রস্তুত থাকলেও এই উদ্যোগ পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে।
ম্যাক্রোঁর এই মন্তব্য আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বানের প্রেক্ষিতে। তিনি জানান, ফ্রান্স সরাসরি কোনও আঞ্চলিক সংঘাতে জড়াবে না। এমনকি যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালীকে “মুক্ত” করার মতো সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ারও কোনও পরিকল্পনা নেই প্যারিসের।
প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ইরান-এর সঙ্গে সংলাপ ও উত্তেজনা প্রশমনের বিকল্প নেই। তার মতে, হরমুজ প্রণালীতে ফ্রান্সের যে কোনও ভূমিকা শুধুমাত্র নিরাপত্তা রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং তা চলমান বোমাবর্ষণ বা যুদ্ধ অভিযানের সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত হবে না।
ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, ফ্রান্স এবং ইউরোপীয় দেশগুলির দায়িত্ব হচ্ছে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এর আগে ইউরোপীয় দেশগুলি মার্কিন আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিল। তবে ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোনও আন্তর্জাতিক অভিযানে যোগ দেওয়ার আগে ফ্রান্স পরিস্থিতি ভালোভাবে মূল্যায়ন করবে এবং শুধুমাত্র নিরাপত্তা ও মানবিক কারণেই পদক্ষেপ নেবে।
ফরাসি কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগ মূলত সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালী বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস পরিবহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট, ফলে এখানে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে তা বৈশ্বিক বাজার ও জ্বালানি নিরাপত্তার উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
ম্যাক্রোঁ আরও স্পষ্ট করে বলেন, ফ্রান্স এমন কোনও পদক্ষেপের অংশ হবে না যা আঞ্চলিক সংকটকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। বরং তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য শান্তি প্রতিষ্ঠা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপ জোরদার করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রান্সের এই অবস্থান উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। একইসঙ্গে এটি আঞ্চলিক দেশ ও বিশ্ব শক্তিগুলির মধ্যে উত্তেজনা কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
এই ঘোষণার মাধ্যমে ফ্রান্স পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে তাদের উপস্থিতি কোনও সংঘাতের জন্য নয়, বরং শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে।