প্যারিস
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) রবিবার ঘোষণা করেছে যে সংস্থার সদস্য দেশগুলি এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে অবস্থিত জরুরি তেল ভাণ্ডার “তাৎক্ষণিকভাবে” বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে ইউরোপ ও আমেরিকার ভাণ্ডার থেকে তেল মার্চ মাসের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হবে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
IEA-র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় যৌথ জরুরি তেল মুক্তির উদ্যোগ, যা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সংস্থার মতে, এই জরুরি ভাণ্ডারে কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে, যা সরবরাহে হঠাৎ ঘাটতি বা সংকট দেখা দিলে বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।
IEA জানিয়েছে, এশিয়া ও ওশেনিয়ার সদস্য দেশগুলি দ্রুত তেলের জরুরি ভাণ্ডার ছাড়বে, যাতে এই অঞ্চলে জ্বালানির ঘাটতি বা উচ্চ তেলের দামের প্রভাব দ্রুত কমানো যায়। অন্যদিকে ইউরোপ ও আমেরিকার ভাণ্ডার থেকে তেল সরবরাহ মার্চের শেষ থেকে শুরু হবে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে পর্যাপ্ত তেল পৌঁছাতে পারে।
এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। IEA বলেছে, এমন যৌথ জরুরি ব্যবস্থা শুধু তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে না, বরং তেল সরবরাহে সম্ভাব্য যে কোনও বাধাও কমিয়ে আনবে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে জরুরি ভাণ্ডার ব্যবস্থাপনায় দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ছে।
প্যারিস-ভিত্তিক এই সংস্থা আরও জানিয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এই জরুরি ভাণ্ডার উন্মুক্ত করা আন্তর্জাতিকভাবে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার অংশ। গত কয়েক মাসে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং সরবরাহে অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতি ও তেল আমদানিকারক দেশগুলির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, IEA-র সদস্য দেশগুলির এই যৌথ উদ্যোগ বাজারে আস্থা বাড়াবে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা দেবে। পাশাপাশি এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও নমনীয় করে তুলবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তেলের দামের অতিরিক্ত ওঠানামা রোধে সহায়তা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, IEA-র এই কৌশল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে একদিকে যেমন ভোক্তা দেশগুলি কিছুটা স্বস্তি পাবে, তেমনি তেল উৎপাদনকারী দেশগুলিও হঠাৎ দামের বড় পতনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে। ফলে বৈশ্বিক তেল বাজারে এটি যৌথ সহযোগিতা ও সরবরাহ নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠছে।