লালকেল্লা বিস্ফোরণ আল-কায়দার ভারতীয় শাখার সঙ্গে যুক্ত, রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে দাবি

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 3 d ago
লালকেল্লা বিস্ফোরণ আল-কায়দার ভারতীয় শাখার সঙ্গে যুক্ত, রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে দাবি
লালকেল্লা বিস্ফোরণ আল-কায়দার ভারতীয় শাখার সঙ্গে যুক্ত, রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে দাবি
 
নয়াদিল্লি: 

গত বছরের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লা এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা আল-কায়দা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS)-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সন্ত্রাসবিরোধী নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী একটি সংস্থার নতুন রিপোর্ট।

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা কমিটির কাছে জমা দেওয়া অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের ৩৮তম রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লা এলাকায় হওয়া হামলাটি AQIS-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কিত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০২৫ সালের নভেম্বরে লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি ট্রাফিক সিগন্যালে ধীরগতিতে চলা একটি গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় প্রায় ১৫ জনের মৃত্যু হয় এবং আরও বহু মানুষ আহত হন।

নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে, AQIS ধীরে ধীরে একটি বিচ্ছিন্ন সংগঠন থেকে আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে পরিণত হওয়ার চেষ্টা করছে। বড় সংগঠিত ইউনিটের পরিবর্তে তারা ছোট, বিচ্ছিন্ন ও বিকেন্দ্রীভূত সেলের মাধ্যমে কাজ করছে এবং নিজেদের জন্য আর্থিক ও রসদ সরবরাহের নেটওয়ার্ক তৈরি করছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে বাংলাদেশকে ব্যবহার করে AQIS সেখানে নিজেদের সেল তৈরি করার চেষ্টা করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির কার্যকলাপ এবং তাদের আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ নিয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

রিপোর্টে একইসঙ্গে আল-কায়দা এবং ইসলামিক স্টেট বা আইএসআইএল-এর রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির প্রতি দীর্ঘদিনের আগ্রহের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে এখনও পর্যন্ত তারা এই ধরনের অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে বড় বাধার মুখে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, আইএসআইএসের খোরাসান শাখা গত এক বছরে বিষাক্ত পদার্থ রিসিন তৈরির পদ্ধতি সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রচার করেছে। ২০২৫ সালের শেষদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ একজন চিকিৎসক-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে বিদেশে থাকা একটি আইএসআইএল-সংযুক্ত সেলের নির্দেশে রিসিন তৈরির দায়িত্ব নেওয়ার অভিযোগ ছিল।

রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে অনলাইন সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কে রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র তৈরির নির্দেশনা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় আঞ্চলিক উত্তেজনা এখনও ‘উচ্চ’ বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিবান আফগানিস্তানে কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে অস্বীকার করলেও, রাষ্ট্রপুঞ্জের সদস্য দেশগুলির আশঙ্কা—চলমান সংঘাত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসবাদী হুমকির পরিস্থিতিতে বড় কোনও পরিবর্তন হয়নি। দেশটিতে একাধিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের কার্যক্রম প্রতিবেশী দেশ এবং মধ্য এশিয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে।

রিপোর্টে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সাংগঠনিক পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বার্ষিক নেতৃত্ব পরিষদের বৈঠকের পর টিটিপি নতুন কাঠামো ঘোষণা করে।

নতুন কাঠামোয় বালুচিস্তান ও মধ্যাঞ্চল এবং কাশ্মীর ও গিলগিটকে কেন্দ্র করে দুটি নতুন বিভাগ তৈরি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ‘টিটিপি এয়ার ফোর্স’ নামে একটি নতুন বিভাগ তৈরির কথাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

লালকেল্লা হামলার সঙ্গে AQIS-এর যোগসূত্রের উল্লেখ এবং বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে ঘিরে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের বিস্তারের আশঙ্কা—রাষ্ট্রপুঞ্জের নতুন রিপোর্টে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা উঠে এসেছে।



শেহতীয়া খবৰ