সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে; তিন হিন্দু শ্রমিকের মৃত্যুর দাবি

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে; তিন হিন্দু শ্রমিকের মৃত্যুর দাবি
সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যু, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে; তিন হিন্দু শ্রমিকের মৃত্যুর দাবি
 
চট্টগ্রাম: 

বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় একাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে স্ক্র্যাপ জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা পাঁচে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

স্থানীয় সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত ফেরদৌস স্টিলে সকাল ৯টার দিকে শ্রমিকরা একটি পুরোনো জাহাজে কাজ করছিলেন। জাহাজের একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করলে কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রথম দিকের প্রতিবেদনে তিন শ্রমিকের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল এবং অন্তত সাত থেকে দশজন আহত হওয়ার কথা বলা হয়। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও জানানো হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে নিহতদের মধ্যে সানি জলদাস (২২) ও পলাশ জলদাস (২৭)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের পাশাপাশি মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)-এর পরিচয়ও পাওয়া গেছে।

তবে নিহতদের মধ্যে ঠিক কতজন হিন্দু ছিলেন, সে বিষয়ে সরকারি বা পুলিশের নিশ্চিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। সানি ও পলাশ জলদাসের নাম প্রকাশিত হলেও তাঁদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। তাই তিনজন হিন্দু নিহত হয়েছেন—এই দাবিটি এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

এদিকে দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, গ্যাসের গন্ধ এতটাই তীব্র ছিল যে আশপাশের জেলেদেরও সমস্যায় পড়তে হয়।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ইয়ার্ডে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


শেহতীয়া খবৰ