রামচন্দ্রের ছবির অবমাননার অভিযোগ ঘিরে বাংলাদেশে বিক্ষোভ, দোষীদের শাস্তির দাবিতে পথে হিন্দু সম্প্রদায়
ঢাকা:
গাইবান্ধা জেলায় প্রস্তাবিত বিশ্বের সর্বোচ্চ ভগবান রামের মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার আবহে এবার ভগবান রামের ছবির অবমাননার অভিযোগে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ কর্মসূচি জোরদার হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামপন্থী কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রামচন্দ্রের প্রতিকৃতিকে অসম্মান করার অভিযোগ ওঠার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
শুক্রবার রাতে ঢাকায় হাজার হাজার সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ মশাল মিছিল করে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিতে দিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ বাংলাদেশি সংবাদপত্র ব্লিটজ-এর সম্পাদক সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী দাবি করেন, গাইবান্ধার সনাতন কমপ্লেক্সকে ঘিরে ইসলামপন্থীদের কর্মকাণ্ড এবং ভগবান রামের প্রতিকৃতির অবমাননার প্রতিবাদে হিন্দুরা দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির প্রাঙ্গণে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভগবান রামের মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি প্রশাসনের নির্দেশে সেই নির্মাণকাজ স্থগিত করা হয়েছে। মন্দিরের উপদেষ্টা শ্যামল কুমার মহন্ত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সমালোচকদের অভিযোগ, ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর চাপের মুখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ঢাকার জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মশাল মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদের সমাজকল্যাণ সম্পাদক রামপ্রসাদ সাহা টপু বলেন,“ভগবান রাম হিন্দুধর্মের অন্যতম শ্রদ্ধেয় দেবতা। সম্প্রতি একদল উগ্রপন্থী রামচন্দ্রকে নিয়ে অপপ্রচার চালানোর পর অন্য একটি গোষ্ঠী তাঁর প্রতিকৃতিকে জুতো দিয়ে আঘাত করেছে, যা হিন্দু সমাজের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।”
তিনি আরও বলেন,“আমরা সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই। কিন্তু একটি বিশেষ গোষ্ঠী বিভাজনের রাজনীতি করছে, যার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদও ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে গাইবান্ধার রাধাগোবিন্দ মন্দিরে স্থাপিত ভগবান রামের মূর্তি ও প্রতিকৃতির বিরুদ্ধে হুমকি এবং অবমাননার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বজায় রাখতে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।