কোভিডের উৎস নিয়ে নতুন বিতর্ক, গোপন নথি প্রকাশ করলেন মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান; ফাউচির বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
কোভিডের উৎস নিয়ে নতুন বিতর্ক, গোপন নথি প্রকাশ করলেন মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান; ফাউচির বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ
কোভিডের উৎস নিয়ে নতুন বিতর্ক, গোপন নথি প্রকাশ করলেন মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান; ফাউচির বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ

 

ওয়াশিংটন: 

 
কোভিড-১৯ মহামারির উৎপত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের (ODNI) প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড। একগুচ্ছ গোপন নথি প্রকাশ করে তিনি দাবি করেছেন, এই নথিগুলি মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা, চীনের উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি এবং প্রাক্তন শীর্ষ স্বাস্থ্য আধিকারিক ড. অ্যান্থনি ফাউচির ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনছে।

নথি প্রকাশের সময় গ্যাবার্ড বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারি আমেরিকাসহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবনে দুর্ভোগ ও ক্ষতির কারণ হয়েছে। বহু বছর ধরে মিথ্যা, তথ্য গোপন এবং সেন্সরশিপের পর জনগণ সত্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা পাওয়ার অধিকার রাখে।”জাতীয় গোয়েন্দা দফতরের দাবি, প্রকাশিত নথিগুলির মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ, হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ এবং মহামারির উৎস নিয়ে গোয়েন্দা তদন্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য।

তুলসি গ্যাবার্ড আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে কংগ্রেসের সামনে শপথ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ড. ফাউচি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিলেন। গোয়েন্দা দফতরের মতে, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (NIAID)-এর পরিচালক থাকাকালীন ফাউচি কোভিডের উৎস সংক্রান্ত গোয়েন্দা পর্যালোচনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে বাদুড়জাতীয় করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তা তত্ত্বাবধান করেছিলেন।

তবে ড. ফাউচি অতীতেও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০২৪ সালের জুনে কংগ্রেসের শুনানিতে তিনি এই অভিযোগগুলিকে “অযৌক্তিক” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ভাইরাসটির প্রাকৃতিক উৎস এবং গবেষণাগার থেকে দুর্ঘটনাবশত ছড়িয়ে পড়া—দুটি সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না, যদিও উপলব্ধ তথ্য প্রাকৃতিক সংক্রমণের দিকেই বেশি ইঙ্গিত করে।

এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও এখনও পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি যে ভাইরাসটি ল্যাবরেটরি থেকে ছড়িয়েছিল, নাকি প্রাকৃতিকভাবে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছিল। সদ্য প্রকাশিত নথিগুলিও এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হয় SARS-CoV-2 ভাইরাস, যা পরবর্তীতে কোভিড-১৯ মহামারির রূপ নেয়। ২০২০ সালের মার্চ মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এটিকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় এবং স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে নজিরবিহীন সংকট সৃষ্টি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিডের উৎস নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও গোয়েন্দা তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও সময় লাগতে পারে। তবে নতুন নথি প্রকাশের ফলে মার্কিন রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক মহলে এই বিতর্ক আবারও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।