পশ্চিম এশিয়ায় নতুন উদ্বেগ, কাতারের রাস লাফান গ্যাস হাবে ভয়াবহ বিস্ফোরণ; বিশ্ব জ্বালানি বাজারে প্রভাবের আশঙ্কা
দোহা:
পশ্চিম এশিয়ার অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) প্ল্যান্টে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। রবিবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজদের সন্ধানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে কাতারের জরুরি পরিষেবা ও নিরাপত্তা বাহিনী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যে আগুন গোটা প্ল্যান্ট জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনী শিল্পাঞ্চলের অন্যান্য স্থাপনা থেকে প্ল্যান্টটিকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালায়, যাতে বিপর্যয় আরও বড় আকার না নেয়।
কয়েক সপ্তাহ আগেই ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে রাস লাফান অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো হামলার মুখে পড়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রের কার্যক্রম আংশিকভাবে বন্ধ ছিল। সম্প্রতি প্ল্যান্টটি পুনরায় চালু করে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজি রপ্তানি শুরু করার প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক সেই সময়েই এই বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলির মধ্যে অন্যতম কাতার। ফলে রাস লাফানের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস হাবে উৎপাদন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের বহু দেশ কাতারের গ্যাসের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে গ্যাসের দাম বাড়তে পারে।
বিস্ফোরণের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, পূর্ববর্তী হামলার ক্ষতির প্রভাব নাকি অন্য কোনও কারণ—সব দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে কাতারের প্রশাসন। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসার জন্য দোহা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার একাধিক হাসপাতালে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত ও জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, রাস লাফানের এই ঘটনা তা আরও বাড়িয়ে দিল। বিশ্ব অর্থনীতি যখন স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহের উপর নির্ভরশীল, তখন কাতারের এই বিপর্যয় আন্তর্জাতিক বাজার ও ভূ-রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।