দুর্গাপূজার আগে নিরাপত্তা নিয়ে সরব হিন্দু নেতারা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ‘ফোকাল পয়েন্ট’ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার দাবি
ঢাকা:
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের শীর্ষ নেতারা। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুর্গাপূজাকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার, সংখ্যালঘুদের উদ্বেগ এবং দীর্ঘমেয়াদি আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মার নেতৃত্বে আট সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। উপস্থিত ছিলেন সংখ্যালঘুবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারও।
বৈঠকে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা প্রস্তাব দেন, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দ্রুত জানানো এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন নির্দিষ্ট ‘ফোকাল পয়েন্ট’ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হোক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
সরকারি সূত্রের দাবি, এবারের দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে আগাম নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নজরদারি, স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় এবং পূজা মণ্ডপগুলিতে বাড়তি নিরাপত্তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে অর্পিত সম্পত্তি আইন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমন্দির নির্মাণ এবং সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত বক্তব্যের প্রসঙ্গও উঠে আসে। হিন্দু নেতারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তিনি রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান এবং সামাজিক শান্তি বিনষ্ট করতে পারে এমন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গাপূজার কয়েক মাস আগে সরকার ও পূজা উদযাপন পরিষদের মধ্যে এই ধরনের সরাসরি আলোচনা পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বৈঠক করে সংখ্যালঘু অধিকার, নিরাপত্তা এবং দুর্গাপূজায় বাড়তি সরকারি ছুটির দাবি তুলেছিলেন।
পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকারের সহযোগিতায় এবার দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতেই বাংলাদেশের বহুত্ববাদী ঐতিহ্য আরও সুদৃঢ় হতে পারে।