বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ন্যায়বিচারের দাবিতে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক, ভারত সরকারের হস্তক্ষেপের আবেদন
কলকাতা:
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করলেন বিভিন্ন মানবাধিকার ও সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীরা। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর কথিত হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগের পাশাপাশি কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও অধিকারকর্মীর বিরুদ্ধে চলা মামলা এবং তাঁদের কারাবন্দি থাকার বিষয়ও সামনে আনা হয়। তাঁদের দাবি, বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশের সরকারের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ভারত সরকারকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
সাংবাদিক বৈঠকে বিশেষভাবে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী, লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকত এবং মানবাধিকারকর্মী রানা দাশগুপ্তের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। তাঁদের সমর্থকদের অভিযোগ, সংখ্যালঘু অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে সরব হওয়ার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় চাপ ও আইনি পদক্ষেপের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
লেখিকা তসলিমা নাসরিনও এই বিষয়গুলিতে ভারত সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন। কলকাতায় আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে তাঁর বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নে ভারত সরকারের কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
সাংবাদিক বৈঠকে বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা, আইনের সমান প্রয়োগ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের দাবি, কোনও সম্প্রদায়ের উপর হামলা বা নির্যাতনের অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং অভিযুক্ত বা বন্দিদের ক্ষেত্রেও আইনি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন।
ভারতের পক্ষ থেকেও সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের সরকারের দায়িত্ব এবং তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
কলকাতার এই সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে বক্তারা ভারত সরকারের কাছে মূলত কূটনৈতিক উদ্যোগ, মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর নজরদারি এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও মানবাধিকারকর্মীদের ন্যায়বিচারের প্রশ্নে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কাছেও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের পরিসরেও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ফলে কলকাতার এই সাংবাদিক বৈঠক শুধু সংখ্যালঘু অধিকার নয়, দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।