খামেনি হত্যার ‘সমুচিত জবাব’ দেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের প্রেসিডেন্টের

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 d ago
খামেনি হত্যার ‘সমুচিত জবাব’ দেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের প্রেসিডেন্টের
খামেনি হত্যার ‘সমুচিত জবাব’ দেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের প্রেসিডেন্টের
 
ইরান ঃ
 
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–কে হত্যার ঘটনাকে ‘মহা অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।

প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, “আমাদের শীর্ষ নেতার পবিত্র রক্ত এক গর্জনময় ঝরনার মতো প্রবাহিত হবে এবং আমেরিকান-জায়নবাদী নিপীড়ন ও অপরাধকে নির্মূল করবে।” পেজেশকিয়ান আরও বলেন, মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্বের স্বাধীনচেতা মানুষের সমর্থনে দায়ীদের অনুতপ্ত হতে বাধ্য করা হবে।

শনিবার ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

গভীর রাতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তেহরানে খামেনির কম্পাউন্ডে হামলায় তার নিহত হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেন, খামেনি নিহত হয়েছেন বলে তার ধারণা। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম খামেনির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে এবং দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। অতিরিক্ত সাত দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর এক বিবৃতিতে ইরানের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক সামরিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, অচিরেই দখলকৃত ভূখণ্ড ও আমেরিকান ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।

১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি–র মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাকে এই পদে নির্বাচিত করে। দীর্ঘ প্রায় চার দশক তিনি ইরানের সরকার, সামরিক বাহিনী ও বিচার ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব বজায় রাখেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় খামেনির কন্যা, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন। এছাড়া তার শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব আলি শামখানিও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

খামেনির মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিল–এর একজন সদস্য। পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব এখন বিশেষজ্ঞ পরিষদের হাতে। তবে চলমান সংঘাতের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।