নিউ ইয়র্ক:
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি একে “অবৈধ আগ্রাসনের যুদ্ধে ভয়াবহ উত্তেজনা বৃদ্ধি” বলে অভিহিত করেন।শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মামদানি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান।
— Mayor Zohran Kwame Mamdani (@NYCMayor) February 28, 2026
তিনি লেখেন, “শহরে বোমাবর্ষণ। বেসামরিক মানুষকে হত্যা। যুদ্ধের নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত করা। আমেরিকানরা এটা চান না। শাসন পরিবর্তনের লক্ষ্যে আরেকটি যুদ্ধ তারা চান না।”তিনি আরও বলেন, “মানুষ মূল্যবৃদ্ধির সংকট থেকে মুক্তি চায়। তারা শান্তি চায়।”
মামদানি তাঁর পোস্টে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মাধ্যমে ইরানে আজকের সামরিক হামলা একটি অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধে ভয়াবহ উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। শহরে বোমাবর্ষণ, বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা এবং নতুন যুদ্ধক্ষেত্রের সূচনা— আমেরিকানরা এটা চান না।”
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে “বৃহৎ সামরিক অভিযান” শুরু করেছে, যার উদ্দেশ্য শাসন পরিবর্তনে উৎসাহ দেওয়া। তিনি ইরানের জনগণকে হামলা শেষ হলে নিজেদের সরকারের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এই নিন্দা জানানো হয় ট্রাম্পের সঙ্গে মামদানির হোয়াইট হাউসে বৈঠকের মাত্র দু’দিন পর। সেখানে নিউ ইয়র্ক সিটির আবাসন উন্নয়নসহ বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বৈঠকের আগে মামদানি বলেন, তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পের “গঠনমূলক” আলোচনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা রয়েছে।
হোয়াইট হাউস বৈঠক ও ইরান হামলার সমালোচনার মধ্যে পার্থক্য দেখায় যে, মামদানিকে একদিকে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক সমর্থকদের মনোভাবের প্রতিও সাড়া দিতে হচ্ছে।বিদেশনীতি নিয়ে মামদানির মন্তব্য মাঝে মধ্যেই রিপাবলিকানদের সমালোচনার মুখে পড়েছে।
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র ইরানি বংশোদ্ভূত নিউ ইয়র্কবাসীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “আপনারা এই শহরের অবিচ্ছেদ্য অংশ— আপনারা আমাদের প্রতিবেশী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ছাত্র, শিল্পী, শ্রমিক ও সমাজনেতা। এখানে আপনারা নিরাপদ থাকবেন।”
মেয়রের বিবৃতির কয়েক ঘণ্টা আগে নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানায়, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তারা কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাসহ সংবেদনশীল এলাকায় টহল বৃদ্ধি করেছে।