জেনেভা:
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা আজ জেনেভায় পারমাণবিক আলোচনাের তৃতীয় দফার বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। এর মধ্যেই ওয়াশিংটন তেহরানের তেল বাণিজ্য ও অস্ত্র নেটওয়ার্কের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আলোচনার আগে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার একটি সম্ভাব্য মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত হতে পারে। এক জনসভায় তিনি বলেন, আলোচনাগুলো আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দিকনির্দেশনায় এগোচ্ছে এবং এর লক্ষ্য “না যুদ্ধ, না শান্তি”—এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তি নাগালের মধ্যেই রয়েছে এবং বর্তমান মুহূর্তকে তিনি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, অগ্রগতি নির্ভর করবে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর—যা অনেকের মতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের সামরিক পদক্ষেপের হুমকির প্রতি ইঙ্গিত। যদিও ট্রাম্পও বলেছেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধানকেই প্রাধান্য দেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম এশিয়ার দিকে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে এবং অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, জেনেভার আলোচনা ব্যর্থ হলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা সামরিক সংঘাত ও পশ্চিম এশিয়ায় নতুন অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়াবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ৩০-টিরও বেশি ব্যক্তি, কোম্পানি ও জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে, যাদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের অভিযোগ—তারা ইরানের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর মাধ্যমে তেল বিক্রিতে সহায়তা করছে।
এই পরিস্থিতি এক সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ইঙ্গিত দেয়—একদিকে আলোচনা এগোচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।