জেরুজালেম:
শনিবার সন্ধ্যায় ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ডিমোনায় আঘাত হানায় অন্তত ৪৭ জন আহত হয়েছেন। শহরটি তার পারমাণবিক কেন্দ্রের উপর থাকা গম্বুজ আকৃতির স্থাপনার জন্য পরিচিত এবং জনপ্রিয়ভাবে “লিটল ইন্ডিয়া” নামে পরিচিত, বলে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি জানিয়েছে।
আহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক ছেলেও রয়েছে, যার শরীরে শেল বা ধাতব টুকরো (শ্র্যাপনেল) ঢুকে গুরুতর জখম হয়েছে বলে ম্যাগেন ডেভিড আদম (এমডিএ) উদ্ধার পরিষেবা ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
একজন ত্রিশোর্ধ্ব নারী কাচের টুকরোতে মাঝারি আঘাত পান, এবং আরও ৩১ জন শ্র্যাপনেলের আঘাতে বা আশ্রয়কেন্দ্রে দৌড়ে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে সামান্য আহত হন। এছাড়া আরও ১৪ জনকে বেয়ারশেবার সোরোকা হাসপাতালে তীব্র উদ্বেগজনিত সমস্যার জন্য চিকিৎসা দেওয়া হয়।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি কমিউনিটি ভবনের উপর পড়ে, এবং আশেপাশের পুরনো বাড়িগুলি আঘাতে ভেঙে পড়ে। অধিকাংশ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকায় বড় ক্ষতি হয়নি, শুধু ওই কিশোরটি বাইরে থাকায় গুরুতর জখম হয়েছে।”
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেনাবাহিনী জানায়, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটি ঠেকানোর চেষ্টা করলেও সেটিকে ভূপাতিত করতে ব্যর্থ হয়।তারা জানিয়েছে, “এই ঘটনার তদন্ত করা হবে।”জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা আইএইএ হামলার পর “সর্বোচ্চ সামরিক সংযম” বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
আইএইএ এক বিবৃতিতে জানায়, “ডিমোনা শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর আমরা পেয়েছি, তবে নেগেভ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রে কোনো ক্ষতির ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।”
ইরান জানিয়েছে, নাতাঞ্জ পারমাণবিক সমৃদ্ধিকরণ কেন্দ্রে আগের হামলার “প্রতিক্রিয়া” হিসেবেই ডিমোনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে আইডিএফ দাবি করেছে, ওইদিন নাতাঞ্জে হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
ডিমোনায় একটি বড় ভারতীয়-ইহুদি সম্প্রদায় বসবাস করে, যাদের বেশিরভাগই মহারাষ্ট্র থেকে আসা এবং তারা ভারতের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এই কারণেই শহরটি “লিটল ইন্ডিয়া” নামে পরিচিত।
শহরজুড়ে ভারতীয় দোকান ছড়িয়ে রয়েছে এবং সর্বত্র মারাঠি ভাষা শোনা যায়। প্রায় ৭,৫০০ জনের ভারতীয় সম্প্রদায় শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ। এখানে ক্রিকেট খুবই জনপ্রিয়, এবং নতুন প্রজন্ম সোনপাপড়ি, গুলাব জামুন, পাপড়ি চাট, ভেলপুরির মতো ভারতীয় খাবারের সঙ্গে বেশ পরিচিত, যা স্থানীয় অনেক দোকানে বিক্রি হয়।