হরমুজে অচলাবস্থা, বিশ্বে জ্বালানি সঙ্কট, ইরানকে ঘিরে কড়া বার্তা ছয় শক্তিধর দেশের

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 1 d ago
হরমুজে অচলাবস্থা, বিশ্বে জ্বালানি সঙ্কট, ইরানকে ঘিরে কড়া বার্তা ছয় শক্তিধর দেশের
হরমুজে অচলাবস্থা, বিশ্বে জ্বালানি সঙ্কট, ইরানকে ঘিরে কড়া বার্তা ছয় শক্তিধর দেশের
 
নয়া দিল্লি 

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। তেলের দাম লাগামছাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে, গ্যাস সরবরাহেও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
 
এই সঙ্কট মোকাবিলায় একযোগে এগিয়ে এসেছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং জাপান। এই ছয় দেশ যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি-বোঝাই জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে তারা সক্রিয় পদক্ষেপ নেবে।
 
বিবৃতিতে সরাসরি ইরান-এর সমালোচনা করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, তেহরানের ‘অবিবেচনামূলক’ সামরিক পদক্ষেপের ফলেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে জোটভুক্ত দেশগুলি।
 
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা গিয়েছে, কাতার ও সৌদি আরব-এর তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলিতে হামলার ঘটনাতেও ইরানের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
 
এদিকে কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কাতার এনার্জি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলার কারণে তাদের প্রায় ১৭ শতাংশ এলএনজি রফতানি ক্ষমতা কমে গিয়েছে। এর ফলে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক গ্যাস বাজারে আরও চাপ সৃষ্টি করবে।
 
বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে শতাধিক জাহাজ আটকে পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই পথ দিয়েই বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়। ফলে এর অচলাবস্থা সরাসরি প্রভাব ফেলছে এশিয়া, ইউরোপ-সহ একাধিক দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার উপর।
 
শুধু সমুদ্রপথে হামলাই নয়, ইরানের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন তেল ও গ্যাসক্ষেত্রে আঘাত হানার অভিযোগও উঠেছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
 
এই প্রেক্ষাপটে ছয় দেশের জোট শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে, যাতে জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এমন সঙ্কট এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণের কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না হলে এই সঙ্কট বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।