শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আবেদন খতিয়ে দেখছে ভারত, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই হবে সিদ্ধান্ত

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 3 d ago
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আবেদন খতিয়ে দেখছে ভারত, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই হবে সিদ্ধান্ত
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আবেদন খতিয়ে দেখছে ভারত, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই হবে সিদ্ধান্ত
 
নয়াদিল্লি

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার আনুষ্ঠানিক আবেদন বর্তমানে ভারতের বিবেচনাধীন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আবেদনটি আইনি বিধান ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
 
শুক্রবার (১৭ জুলাই) নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণের আবেদন ভারত পেয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
 
রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা প্রত্যর্পণের একটি আবেদন পেয়েছি। আগেও যেমন জানিয়েছিলাম, আবেদনটি বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয় এবং বিচারিক প্রক্রিয়াগুলি বিবেচনায় নিয়ে আবেদনটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”
 
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন ব্যাপক আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রত্যর্পণ চায়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের ভারত সফরেও একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এই প্রত্যর্পণ আবেদনে বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে।
 
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের এই মন্তব্য এমন সময় সামনে এল, যখন কয়েক দিন আগে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য গ্রেফতারের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তিনি আগামী ডিসেম্বর নাগাদ স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরতে চান।
 
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সি শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরে তিনি আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন।
 
তিনি বলেন, “দেশে ফিরলে আমাকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি আমাকে হত্যা পর্যন্ত করা হতে পারে। তবুও আমাকে ফিরতেই হবে।”
 
একই সঙ্গে তিনি জানান, সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে ঢাকার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ হয়নি।আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, দলের নেতাকর্মীরা চরম দমন-পীড়নের মুখে রয়েছেন। জীবন ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকলেও নিজের মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
 
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের আবেদনটি এসেছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর। ২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলন দমনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। রায়ে বলা হয়, আন্দোলনের সময় সংঘটিত প্রাণহানির জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন অথবা তা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছিলেন, যার ফলে তাঁর সরকার পতন ঘটে।
 
একই রায়ে বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
 
তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়ে ভারত কবে সিদ্ধান্ত নেবে, সে সম্পর্কে এখনও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রচলিত আইন এবং বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নিষ্পত্তি করা হবে।


শেহতীয়া খবৰ