বিড়ি শ্রমিকের কন্যা হাসিবাতুনের NEET জয়! অভাবকে ঠেলে মুর্শিদাবাদের এই মেধাবী ছাত্রীর সাফল্যে স্যালুট ঠুকছে গোটা বাংলা
তরুণ নন্দী / কলকাতা
অভাবকে গুরুত্ব না দিয়ে মেধার জোরে সাফল্যের মুখ দেখলেন মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ব্লকের ধুলিয়ান লক্ষীনগরের কন্যা হাসিবাতুন নেশা। আর্থিক সীমাবদ্ধতা যে অদম্য ইচ্ছাশক্তির সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে যেতে পারে, তা দেখিয়ে দিলেন এই মেধাবী ছাত্রী। জাতীয় স্তরের অত্যন্ত কঠিন মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় (NEET) অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ১০৮৪৯ অর্জন করেছেন। হাসিবাতুনের এই অভাবনীয় সাফল্যের খবর পৌঁছতেই আনন্দের পরিবেশ গোটা এলাকায়।
একান্ত সাধারণ এক পরিবারে বড় হওয়া হাসিবাতুনের সাফল্যের পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। তাঁর বাবা মোঃ শাহাদাত হোসেন পেশায় একজন বিড়ি শ্রমিক। অভাবের সংসারে দু-মুঠো অন্ন জোগাতে পাশাপাশি তিনি গ্রামীণ চিকিৎসক হিসেবে এলাকার সাধারণ মানুষের সেবা করেন। নিজের সীমিত আর্থিক সামর্থ্য সত্ত্বেও মেয়ের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নকে তিনি কখনো হারিয়ে যেতে দেননি। সংসারের হাজারো টানাপোড়েন থাকা স্বত্ত্বেও নিজের সমস্যাগুলোকে আড়াল করে রেখেছিলেন মেয়ের পড়াশোনার জগৎকে বাঁচিয়ে রাখতে।
বাবার স্বপ্নকেও প্রাধান্য দিয়ে মেধাবী ছাত্রী হাসিবাতুন NEET পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করলেন। এই দুর্দান্ত সাফল্যের খবরে আনন্দের জোয়ার মেতেছে গোটা লক্ষীনগর এলাকা। খবর শোনা মাত্রই ধুলিয়ানের বিশিষ্ট শিল্পপতি তথা বিশিষ্ট সমাজসেবী রবিউল আলম ছাত্রীর বাড়িতে ছুটে গিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানান।
হাসিবাতুনের ইচ্ছের কথা শুনে রবিউলবাবু আশ্বাস দেন, আগামীতে যাতে তাঁর উচ্চশিক্ষার পথে কোনো আর্থিক অনটন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তিনি নেবেন। রবিউল বাবু উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, হাসিবাতুনের এই লড়াই পথ দেখাবে আগামী প্রজন্মকে। অর্থের অভাবে ওর স্বপ্ন থমকে যাবে না, আমরা ওর পাশে আছি।
সাফল্যের পথে খুঁজে পেলেও হাসিবাতুন বললেন, আমি একজন দক্ষ চিকিৎসক হয়ে সবার আগে নিজের এলাকার প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। সঠিক চিকিৎসার অভাবে যাতে কোন মানুষ কষ্ট পান, সেদিকে আমার লক্ষ্য থাকবে। তিনি জানান, এই সাফল্যের আসল কারিগর তাঁর বাবা। বাবার আত্মবিশ্বাস ছাড়া আমি আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে পারতাম না।
মেয়ের রেজাল্টের খবর শোনার পর থেকেই বাবা মোঃ শাহাদাত হোসেনের চোখে দেখা গেল আনন্দের কান্না। তিনি বলেন, আমার রোজগারের সীমিত সামর্থ্যে অনেক কষ্ট হয়েছে, কিন্তু আজ মেয়ের এই জয় আমার জীবনের সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা হাসিবাতুনের এই সাফল্য বুঝিয়ে দিল জেদ, পরিশ্রম আর লক্ষ্যস্থির থাকলে স্বপ্নপুরণ হওয়া সম্ভব।