ঐতিহাসিক মুহূর্ত গারো পাহাড় ও অঞ্চলের ক্যাথলিকদের : পোপের রাষ্ট্রদূতের নজিরবিহীন তুরা সফর

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 13 h ago
ঐতিহাসিক মুহূর্ত গারো পাহাড় ও অঞ্চলের ক্যাথলিকদের : পোপের রাষ্ট্রদূতের নজিরবিহীন তুরা সফর
ঐতিহাসিক মুহূর্ত গারো পাহাড় ও অঞ্চলের ক্যাথলিকদের : পোপের রাষ্ট্রদূতের নজিরবিহীন তুরা সফর
 
তুরা: 
 
গভীর আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্যের এক মুহূর্তে গারো পাহাড় প্রথমবারের মতো স্বাগত জানাতে চলেছে ভ্যাটিকানের এক উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূতকে। ভারতের ও নেপালের জন্য পোপের রাষ্ট্রদূত তথা অ্যাপোস্টলিক নুনসিও, মোস্ট রেভারেন্ড লিওপোল্ডো জিরেল্লি  আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত তুরা সফর করবেন। তিনি অঞ্চলের গির্জার ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায় রচনা করতে চলেছেন।

এই ঐতিহাসিক সফর গারো পাহাড়ে ভ্যাটিকানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরছে। এর আগে ১৯৮৪ সালে পোপ জন পল দ্বিতীয়ের শিলং সফরই ছিল উত্তর-পূর্বে ভ্যাটিকানের একমাত্র উচ্চপ্রোফাইল সফর— যা আজও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

অ্যাপোস্টলিক নুনসিও শনিবার সকালে গুয়াহাটি বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে তিনি মধ্যাহ্নভোজের জন্য মেনদাল যাবেন এবং বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে তুরার বিশপ হাউসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পথে বাজেংদোবা, মেনদাল, জেংজাল ও রংখোন প্যারিশে জাঁকজমকপূর্ণ স্বাগত তোরণ ও ব্যানার প্রস্তুত করা হচ্ছে। ঐতিহাসিক এই মুহুতের জন্য ব্যাপক উৎসাহ ও গর্ব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

এই সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হবে সেদিন সন্ধ্যায় ক্যাথেড্রালে অনুষ্ঠিত যৌথ পবিত্র প্রার্থনা (কনসেলিব্রেটেড পবিত্র মাস), যেখানে সকল যাজকদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। ধর্মোপদেশের সময় অ্যাপোস্টলিক নুনসিও যাজকদের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, যা অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি প্রয়াত বিশপদের সমাধিতেও প্রার্থনা নিবেদন করবেন।

পরে সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে চান্দমারির সেক্রেড হার্ট চার্চে এক ঐতিহ্যবাহী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এরপর তিনি সেক্রেড হার্ট শ্রাইন ও অ্যাডোরেশন চ্যাপেল পরিদর্শন করবেন এবং শ্রাইনে একটি সর্বজনীন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে।

রবিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে সেক্রেড হার্ট শ্রাইন গেটে পন্টিফিকাল মাস অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ঐতিহাসিক সমাবেশের সাক্ষী থাকবে তুরা। মাসের আগে একটি বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে এবং পরে শ্রাইনে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এরপর নুনসিও গুয়াহাটির উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।

এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তুরার সহকারী বিশপ হোসে চিরাক্কাল সকলকে রবিবারের প্রার্থনায় আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বিবেচনায় তুরার অন্যান্য প্যারিশের নিয়মিত প্রার্থনা বাতিল করা হয়েছে, যাতে যাজক ও ভক্তরা পবিত্র প্রার্থনায় অংশ নিতে পারেন। তবে তুরার বাইরে অন্যান্য প্যারিশে নিয়মিত প্রার্থনা যথারীতি চলবে, যদিও ভক্তদের তুরার এই ঐতিহাসিক উদযাপনে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়েছে।

এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিক নয়— এটি গারো পাহাড়ের বিশ্ব ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে স্বীকৃতি দেয়। অঞ্চলের ক্যাথলিকদের জন্য এটি এক প্রজন্মে একবার আসা আধ্যাত্মিক মাইলফলক, যা বহু বছর ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।