ভুটানে হড়পা বানে ক্ষয়ক্ষতি, সংকোশের জল না বাড়ায় স্বস্তি ডুয়ার্সে

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 2 h ago
ভুটানে হড়পা বানে ক্ষয়ক্ষতি, সংকোশের জল না বাড়ায় স্বস্তি ডুয়ার্সে
ভুটানে হড়পা বানে ক্ষয়ক্ষতি, সংকোশের জল না বাড়ায় স্বস্তি ডুয়ার্সে

জলপাইগুড়ি:

ভুটানে হিমবাহ হ্রদ থেকে জল নেমে আসার জেরে হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক এলাকা। ভেসে গিয়েছে গাসার বিখ্যাত উষ্ণ প্রস্রবণ, পাথর ও কাদায় ঢেকেছে জাতীয় সড়কের একাংশ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুনাখা জেলার একটি সৌরচালিত সেচ প্রকল্পও। তবে এখনও পর্যন্ত প্রাণহানির কোনও খবর নেই।

 

ভুটানের এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ ছড়ায় উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে। বিশেষ করে সংকোশ নদীর জলস্তর বেড়ে বন্যার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার রাতে নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয় প্রশাসন। তবে নদীর জল বিপজ্জনক উচ্চতায় না পৌঁছনোয় আপাতত স্বস্তি ফিরেছে ডুয়ার্সে। শুক্রবার সকাল থেকে আশ্রয়শিবির ছেড়ে বাসিন্দাদের বাড়ি ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার রাতে ভুটানের মো চু নদীতে হড়পা বানের জেরে পুনাখা জেলার গুমা গেওগের দোছুখা-জোমলিংথাং-রিৎসা এলাকায় সৌরচালিত জল উত্তোলন ও সেচ প্রকল্পটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, প্রকল্পটির কাজ আপাতত বন্ধ। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। এলাকার সেচের সমস্যা মেটাতে চলতি বছরের গোড়ায় প্রকল্পটি তৈরি হয়েছিল।

এ ছাড়া, পুনাখা-গাসা জাতীয় সড়কের জোমলিংথাং অংশে পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছে। হড়পা বানের জলে গাসা ছাচু এলাকার উষ্ণ প্রস্রবণটিও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে খবর।

সংকোশের তীরে সরানো হয়েছিল প্রায় ৭,৭০০ মানুষ

ভুটানের পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর বাড়ার আশঙ্কায় জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন আগেই সতর্কতা জারি করে। বৃহস্পতিবার রাতে নদী তীরবর্তী এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের সাবধান করা হয়। জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা, বানারহাট-সহ বিভিন্ন এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ছিল আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম ব্লকের সংকোশ নদীকে ঘিরে। সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয় প্রায় ৭,৬৮৮ জনকে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৯০০ জন কুমারগ্রাম চা-বাগানের কারখানায়, ৮৫০ জন মাঝেরডাবরি হাইস্কুলে এবং প্রায় ৮০০ জন করে উত্তর হলদিবাড়ি জুনিয়র হাইস্কুল ও কুমারগ্রামদুয়ার এমএস হাইস্কুলে আশ্রয় নেন। সংকোশ নেপালি লাইন কমিউনিটি হলে ছিলেন ৬০০ জন। সাহেবপাড়া বিএফপি স্কুলে আশ্রয় দেওয়া হয় অসম থেকে আসা ৮০ জনকে।

সংকোশের জলস্তর বিপজ্জনকভাবে না বাড়ায় শুক্রবার সকাল থেকে আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দারা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। তবে পাহাড়ে বৃষ্টি বাড়লে নদীগুলির জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।



শেহতীয়া খবৰ