ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে বন্যার আশঙ্কা, উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় জারি উচ্চ সতর্কতা

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 3 h ago
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি

কলকাতা:

ভুটানে হিমবাহের হ্রদ ফেটে (GLOF) বিপুল পরিমাণ জল নেমে আসায় উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সংকোশ নদী ও তার শাখানদীগুলিতে হঠাৎ জলস্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ার জেলার নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। শুক্রবার আধিকারিকরা এ কথা জানিয়েছেন।

প্রশাসনের নির্দেশের পর আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন নদী তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের গবাদি পশু নিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যেতে দেখা গিয়েছে।

রাজ্যের জলসম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক জানিয়েছেন, ভুটানের লেমথাং এলাকায় একটি হিমবাহ হ্রদ ফেটে গিয়েছে। সেখান থেকে বেরিয়ে আসা জল মো (মোফু) নদী হয়ে সংকোশের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।

একটি ভিডিও বার্তায় মন্ত্রী বলেন, সংকোশ নদী এবং তার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত শাখানদীর অববাহিকা অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের অবিলম্বে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারের তুফানগঞ্জ এবং সংলগ্ন এলাকার নদীর ধারে বসবাসকারীদেরও দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান নিশীথ প্রামাণিক। উদ্ধার ও ত্রাণকাজের জন্য রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF) এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF)-কে সতর্ক রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন জানিয়েছেন।

সংকোশ নদীতে বাড়তে পারে জলস্তর

আধিকারিকদের তথ্য অনুযায়ী, ভুটানের শিনতাফু হ্রদের বাঁধ ভেঙে প্রায় ৭৪ লক্ষ ঘনমিটার জল মো নদীতে নেমে এসেছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের সীমান্তবর্তী সংকোশ নদীতে হঠাৎ জলস্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই সংকোশ নদী সংলগ্ন গ্রামগুলিতে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। রামপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নদী তীরবর্তী বসতিগুলিতে মাইকে ঘোষণা করে মানুষকে বাড়ি ছেড়ে নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আধিকারিকদের আশঙ্কা, আগামী ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে জলের ঢল সীমান্তবর্তী এলাকায় পৌঁছতে পারে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি অসমের কিছু নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাড়তি চিন্তা আবহাওয়ার পূর্বাভাস

এর মধ্যেই শুক্রবার আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। ভুটান থেকে নেমে আসা জলের সঙ্গে ভারী বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারত ও ভুটানের যৌথ উদ্যোগে নির্মীয়মাণ পুনাতসাংছু জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নদীর জলস্তর আচমকা অনেকটা বেড়ে গেলে জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

অসম ও পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্রের সতর্কবার্তা

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের তরফে অসম ও পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মন্ত্রকের পরামর্শে জানানো হয়েছে, ভুটানের পুনাতসাংছু নদী অববাহিকার শিনতাফু হ্রদে হিমবাহ হ্রদ ফেটে বন্যার ঘটনা ঘটেছে বলে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে।

নদীর উজানে হড়পা বানের খবরের পর অসমের ধুবড়ি এবং পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলায় সংকোশ নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

দুই জেলার স্থানীয় প্রশাসনকে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা, নদীর জলস্তর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভুটান থেকে নেমে আসা জলের ঢল শেষ পর্যন্ত কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে উত্তরবঙ্গ ও অসমের সীমান্তবর্তী এলাকায়। আপাতত প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য, সময় থাকতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো।



শেহতীয়া খবৰ