মাসকাট
হরমুজ প্রণালিতে একটি প্রক্ষেপণ বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত কুয়েতের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজ থেকে পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে নিরাপদে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়েছে। ওমানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এই তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার স্থানীয় সময় অনুযায়ী ‘এক্স’-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে দূতাবাস জানায়, হরমুজ প্রণালিতে প্রক্ষেপণ বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এমটি কাজিমা থার্ড নামের কুয়েতের পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারটিতে থাকা পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধারের ক্ষেত্রে দূতাবাস সমন্বয় করেছে।
উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য ওমানের কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদও জানিয়েছে দূতাবাস। পোস্টে বলা হয়েছে, জাহাজটিতে থাকা পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে ইতিমধ্যেই নিরাপদে তীরে নিয়ে আসা হয়েছে।
এমটি কাজিমা থার্ড একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ। বর্তমানে জাহাজটি কুয়েতের পতাকার অধীনে চলাচল করছে এবং টোগোর লোমে বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।
এই ঘটনার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। ভারত সরকার ওই অঞ্চলে চলাচলকারী ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে বর্তমানে ৪,৫০০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ১২টি সক্রিয় মালবাহী জাহাজে রয়েছেন ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক।
তিনি জানান, বর্তমানে পারস্য উপসাগরে ভারতের পতাকাবাহী ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ রয়েছে। এছাড়া ভারতগামী পণ্য বহনকারী বিদেশি পতাকাবাহী আরও ছয়টি জাহাজ ওই অঞ্চলে চলাচল করছে। এই ১২টি জাহাজে মোট প্রায় ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছেন।
জয়সোয়াল আরও জানান, এর পাশাপাশি ওই অঞ্চলে চলাচলকারী বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে ৪,৫০০-রও বেশি ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন।
ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়টি নজরে রাখতে ভারতের জাহাজ পরিবহণ মন্ত্রক ভারতীয় দূতাবাস এবং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। জাহাজগুলির চলাচল এবং তাতে থাকা নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জয়সোয়াল বলেন, বিদেশে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভারত সরকার দায়বদ্ধ।
এদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা বৃদ্ধির মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং কৃষ্ণ সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজগুলি সময়ে সময়ে হামলা ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যার মুখে পড়েছে।
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত সপ্তাহে রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ সভায় ভাষণ দেওয়ার সময় বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের উপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি বলেন, সামুদ্রিক ক্ষেত্রে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে লোহিত সাগর এবং কৃষ্ণ সাগর পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকরা হামলার মুখে পড়ছেন। এই ধরনের ঘটনায় ভারতীয় নাবিকদের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের নাবিকরাও প্রাণ হারিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জয়শঙ্কর বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা কোনওভাবেই বিঘ্নিত না করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন যথাযথভাবে মেনে চলার উপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ভারত, লাইবেরিয়াসহ ২৩টি সহযোগী দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক স্তরে জনমত গড়ে তোলার একটি জোটে যোগ দিয়েছে বলেও জানান বিদেশমন্ত্রী।
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে অবিলম্বে সংযম অবলম্বনের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে সমুদ্রে কর্মরত সাধারণ নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শক্তি সরবরাহ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।