রাশিয়া-ইরান নিষেধাজ্ঞা আইনের আবহে মোদি-ট্রাম্পের ফোনালাপ, বাণিজ্য-প্রতিরক্ষা-জ্বালানি নিয়ে আলোচনা

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 14 h ago
রাশিয়া-ইরান নিষেধাজ্ঞা আইনের আবহে মোদি-ট্রাম্পের ফোনালাপ, বাণিজ্য-প্রতিরক্ষা-জ্বালানি নিয়ে আলোচনা
রাশিয়া-ইরান নিষেধাজ্ঞা আইনের আবহে মোদি-ট্রাম্পের ফোনালাপ, বাণিজ্য-প্রতিরক্ষা-জ্বালানি নিয়ে আলোচনা

নয়াদিল্লি:

ভারত-মার্কিন সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই নেতার আলোচনায় বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি-সহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার একাধিক ক্ষেত্র উঠে আসে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়েও মতবিনিময় করেন তাঁরা।

এই ফোনালাপ এমন এক সময়ে হল, যখন রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত নতুন আইন নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। ‘Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026’ আইনের আওতায় রুশ জ্বালানি কেনা দেশগুলির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রশাসনকে। ভারত ও চিনও এর আওতায় পড়তে পারে।

ফোনালাপের পর মোদি ‘এক্স’-এ জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। দুই নেতা বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন। ভারত-মার্কিন Comprehensive Global Strategic Partnership আরও এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার ব্যাপারেও তাঁরা একমত হয়েছেন।

রুশ তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের উদ্বেগও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে SRIA নিয়ে ভারতের স্বার্থ ও উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। ভারত রাশিয়ার তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা।

এদিকে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বর্তমানে আমেরিকায় রয়েছেন এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। দুই দেশ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপের কাঠামো চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছিল। তবে মার্কিন শুল্কনীতির পরিবর্তনের কারণে চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে।

বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের এপ্রিল-আগস্ট সময়ে আমেরিকায় ভারতের পণ্য রফতানি ৬.১৭ শতাংশ বেড়ে ৪২.৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। একই সময়ে আমদানি বেড়েছে ২৯.৬ শতাংশ, যার পরিমাণ ২৮ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১৩২.২ বিলিয়ন ডলার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ে আমেরিকাই ছিল ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার।

দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই ফোনালাপের মাধ্যমে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি রুশ জ্বালানি সংক্রান্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং চলমান বাণিজ্য চুক্তির আলোচনাও গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হয়ে উঠেছে। দুই নেতা ভবিষ্যতেও যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।


শেহতীয়া খবৰ