ইছামতির পাড়ে বিরাট বদল! টাকিতে পাঁচতারা রিসর্টের কল্যাণে অর্থনৈতিক ভাগ্য বদলাতে চলেছে এলাকার হিন্দু-মুসলিম যুবক-যুবতীদের
তরুণ নন্দী, কলকাতাঃ
ইছামতির পাড়ে যেন লেগে গেল পালাবদলের হাওয়া। পুজোর আগে নতুন সাজে সেজে উঠবে পর্যটন কেন্দ্র টাকি। বদলে যাওয়ার অপেক্ষায় এই এলাকার হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। দুর্গাপুজোয় অনেকেই ঘুরতে যেতে পছন্দ করেন শহর ছাড়িয়ে সবুজের কোলে হারিয়ে যেতে। আর ঠিক এই মরশুমেই ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণের জায়গা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা পর্যটন শহর টাকি।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার ইছামতির বুকে সীমান্ত পেরিয়ে দুই দেশের মেলবন্ধনের ছবি, ঐতিহাসিক স্থাপত্য আর সেইসঙ্গে মিনি সুন্দরবনের হাতছানি, সব মিলিয়ে টাকির আকর্ষণ চিরকালীন। সবচেয়ে খুশির খবর হল, এবার পুজোর ঠিক আগে এই পর্যটন মানচিত্রে যোগ হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের।
ইছামতির পাড়েই প্রায় ১৯ বিঘা জমির উপর প্রায় ৭০ কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে উঠতে চলেছে এক পাঁচতারা মানের বিলাসবহুল রিসর্ট। 'দিভিরা প্রাইভেট লিমিটেড'-এর এই উদ্যোগ পর্যটকদের থাকার দীর্ঘদিনের আক্ষেপ মিটিয়ে ফেলবে বলে মনে করছেন ভ্রমণপিপাসুরা। আর এভাবেই বসিরহাটের আর্থ-সামাজিক চিত্রেও আসতে চলেছে এক সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন।
কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি চালু হলে এলাকার মানুষের ভোল বদলে যাবে। সরাসরি অন্তত আড়াইশো মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পরোক্ষ অর্থনৈতিক পরিকাঠামো বৃদ্ধিতে যে এই প্রকল্প নজর কাড়বে তা বলাই বাহুল্য। স্থানীয় টোটোচালক থেকে শুরু করে ফুড স্টল মালিক, মুদি দোকানদার কিংবা গাইড বসিরহাটের হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বদল এনে দেবে। এলাকার বেকার যুবক-যুবতীরা পাবেন অর্থনৈতির স্বাধীনতার স্বাদ। পুরোনো মানুষেরা বলছেন, পর্যটকদের ভিড় বাড়লে এলাকার ছোট ব্যবসাগুলো নতুন প্রাণ ফিরে পাবে। আর এর ফলে এই এলাকার সামগ্রিক অর্থনীতিকে পরিবর্তন আসবে।
প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে টাকীতে ১৯ বিঘা জমি জুড়ে পাঁচতারা মানের সুযোগ-সুবিধা যুক্ত রিসর্টকে ঘিরে বাড়ছে উন্মাদনা। ছাদ ও নিচের তলায় দুটি আলাদা সুইমিং পুল এবং আন্তর্জাতিক মানের রেস্তোরাঁ থাকছে। টাকি পুরসভার পুরপ্রধান সোমনাথ মুখোপাধ্যায়ের মতে, কলকাতার যানজট ছেড়ে প্রকৃতির কোলে শান্তি খুঁজতে আসা মানুষের জন্য এই পরিকাঠামো এক দারুণ সংযোজন।
সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে এই উদ্যোগ বাংলার পর্যটন মানচিত্রে টাকি গুরুত্ব বাড়িয়ে দিল কয়েক গুণ। বলা ভালো, পুজোর আমেজে ইছামতির দুপারের হাওয়া গায়ে মেখে টাকি এখন সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বনের এক নতুন রূপকথা লেখার অপেক্ষায়।