মরক্কো তার প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী পেল, এই ফাতিমা মনসুরি কে?

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 18 h ago
আরব দেশ মরক্কো তার প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী পেল; কে এই ফাতিমা মনসুরি?
আরব দেশ মরক্কো তার প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী পেল; কে এই ফাতিমা মনসুরি?

আওয়াজ দ্য ভয়েস/নয়াদিল্লি

আরব বিশ্বে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের এক নতুন ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। পুরোনো গতানুগতিক ধারণাগুলো ভেঙে যাচ্ছে এবং শীর্ষ নেতৃত্বের পদে নারীদের ভূমিকা শক্তিশালী হচ্ছে। উত্তর আফ্রিকার অন্যতম প্রধান দেশ মরক্কো একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে। মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ৫০ বছর বয়সী ফাতিমা জাহরা আল মনসুরিকে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ফাতিমা জাহরা মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন। আরব বিশ্বের ইতিহাসে তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত দ্বিতীয় নারী। তার আগে তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেন ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
 

সংসদীয় নির্বাচনে বিজয় এবং দায়িত্ব গ্রহণ

 
২৩শে সেপ্টেম্বর মরক্কোতে ৩৯৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদের জন্য সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজপ্রাসাদ একটি নতুন সরকার গঠনের ঘোষণা দেয়। ফাতিমার রাজনৈতিক দল, ‘অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (পিএএম), ৯৭টি আসন জিতে বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়।

ন্যাশনাল র‍্যালি অফ ইন্ডিপেনডেন্টস (আরএনআই) ৬৬টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে, অন্যদিকে ইস্তিকলাল পার্টি ৬৫টি আসন পায়। মরক্কোর সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী কোনো একক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৯৮টি আসন) অর্জন করতে না পারায়, রাজা বৃহত্তম দলের নেত্রী ফাতিমা জাহরাকে একটি জোট সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানান।

নিয়োগ পাওয়ার পর দেওয়া প্রথম ভাষণে ফাতিমা এই মুহূর্তটিকে ঐতিহাসিক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারীকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু তাঁর জন্যই নয়, মরক্কোর প্রত্যেক নারীর জন্য গর্বের বিষয়।


আইনজীবী থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে যাত্রা

১৯৭৬ সালের ৩ জানুয়ারি মারাকেশে জন্মগ্রহণকারী ফাতিমা জাহরা আল মনসুরি একটি প্রভাবশালী পরিবার থেকে এসেছেন। তার বাবা আবদুর রহমান আল মনসুরি মারাকেশের একজন শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) মরক্কোর রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ফাতিমা ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাংলো-আমেরিকান ব্যবসায়িক আইনে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। দেশে ফিরে তিনি কর্পোরেট আইন পেশায় যোগ দেন।

তিনি ২০০৮ সালে পিএএম (PAM) দল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ২০০৯ সালে, ৩৩ বছর বয়সে, তিনি মারাকেশের মেয়র নির্বাচিত হন এবং তিনিই প্রথম মহিলা যিনি এই পদে অধিষ্ঠিত হন। ২০২১ সালের নির্বাচনে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন। তিনি আজিজ আখানউচের পূর্ববর্তী সরকারে জাতীয় পরিকল্পনা, নগর উন্নয়ন এবং আবাসন মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

জোট সরকারের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ফাতিমার প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অন্যান্য দলগুলোকে একত্রিত করে একটি স্থিতিশীল জোট সরকার গঠন করা। যদিও তার দল, পিএএম, সব দলের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মধ্যপন্থী ইসলামী দল পিজেডি বিরোধী দলে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন সরকার অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি এবং সরকারি পরিষেবার উন্নতির অভাবে যুবসমাজ অসন্তুষ্ট। নির্বাচনের সময় ফাতিমার দল আগামী পাঁচ বছরে ১০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি এবং মজুরি বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
 

 
এছাড়াও, স্পেন ও পর্তুগালের সাথে যৌথভাবে মরক্কো ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চলেছে। এটিকে সমর্থন করার জন্য দেশটিতে শত শত কোটি ডলারের অবকাঠামো প্রকল্প চলমান রয়েছে। এই প্রধান প্রকল্পগুলো সময়মতো সম্পন্ন করা এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ত্বরান্বিত করা নতুন প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম অগ্রাধিকার হবে।