গান্ধীকে না বুঝলে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা বোঝা সম্ভব নয়।

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 15 h ago
গান্ধীকে না বুঝলে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা বোঝা সম্ভব নয়
গান্ধীকে না বুঝলে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা বোঝা সম্ভব নয়

আব্দুল্লাহ মনসুর

প্রতি বছর মহাত্মা গান্ধী জয়ন্তীতে তাঁকে স্মরণ করা হয়। তাঁর ছবি প্রদর্শন করা হয়, তাঁর উক্তি পুনরাবৃত্তি করা হয় এবং তাঁর জীবন নিয়ে আলোচনা করা হয়। কিন্তু গান্ধীকে স্মরণ করা এবং তাঁকে বোঝা দুটি ভিন্ন বিষয়। প্রশ্ন হলো: প্রযুক্তি, সোশ্যাল মিডিয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং হিংসাত্মক ও অশ্লীল ভাষার মতো নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি এই বিশ্বে গান্ধী আজ আমাদের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ? গান্ধী কি কেবল স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন নেতা ছিলেন, নাকি ব্যক্তি, সমাজ, রাজনীতি এবং উন্নয়নকে বোঝার জন্য তাঁর একটি বৃহত্তর দর্শনও ছিল?

গান্ধীর প্রাসঙ্গিকতার উত্তর তাঁর জীবন ও চিন্তাধারার মধ্যেই নিহিত। তিনি কোনো একটিমাত্র বদ্ধ তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন না। তিনি তাঁর ধারণাগুলোকে বাস্তব জীবনের সমস্যায় প্রয়োগ করেছেন এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সেগুলোকে পরিমার্জন করেছেন।

সুতরাং, গান্ধীবাদকে তাঁর জন্য একটি পৃথক 'বাদ' হিসেবে বিবেচনা করা পুরোপুরি সঠিক নয়। তিনি সত্য, অহিংসা, আত্মসংযম, ন্যায়বিচার এবং মানব মর্যাদার মতো মূল্যবোধগুলিকে দৈনন্দিন জীবন ও রাজনীতিতে প্রয়োগ করতে চেয়েছিলেন।

 

মহাত্মা গান্ধীর দর্শন সত্য দিয়েই শুরু হয়। তাঁর কাছে সত্য কেবল মিথ্যা না বলার অভ্যাস ছিল না, বরং তা ছিল জীবনের নৈতিক দিকনির্দেশক। সত্য অহিংসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। অহিংসা মানে কেবল শারীরিক সহিংসতা থেকে বিরত থাকা ছিল না। গান্ধীর ব্যাপক নৈতিক দৃষ্টিতে ঘৃণা, প্রতারণা, অসম্মান, অবিচার এবং অন্য মানুষকে কেবল শত্রু হিসেবে দেখার মানসিকতাও সমস্যাজনক ছিল।

মহাত্মা গান্ধী মানুষকে কেবল ভালো বা মন্দ হিসেবে বিবেচনা করতেন না। তিনি বিশ্বাস করতেন যে মানুষের মধ্যে উচ্চতর এবং নিম্নতর উভয় প্রবণতাই বিদ্যমান। সুতরাং, শুধুমাত্র বাহ্যিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সামাজিক পরিবর্তন সাধন করা সম্ভব নয়।

ব্যক্তির অন্তরে লোভ, ভয়, ঘৃণা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অপরিহার্য। তিনি ভগবদ্গীতার কুরুক্ষেত্রকে কেবল একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধ হিসেবেই নয়, বরং মানুষের অন্তরের নৈতিক সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেও দেখেছিলেন। এ কারণেই গান্ধীর আত্মশাসনের ধারণা রাজনৈতিক স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত।

এখান থেকেই সত্যাগ্রহকে বোঝা সহজ হয়ে যায়। সত্যাগ্রহ মানে নিষ্ক্রিয়ভাবে অবিচার সহ্য করা ছিল না। এটি ছিল সত্য ও অহিংসার উপর ভিত্তি করে অবিচারের বিরুদ্ধে এক সক্রিয় সংগ্রাম। অসহযোগ, বয়কট, আইন অমান্য, অবস্থান ধর্মঘট, অনশন এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ এর হাতিয়ার হয়ে ওঠে। ১৯৩০ সালের ১২ই মার্চ শুরু হওয়া ডান্ডি মার্চ এবং ৬ই এপ্রিল লবণ আইন লঙ্ঘন এর ঐতিহাসিক উদাহরণ। গান্ধী হেরিটেজ পোর্টালে এই ঘটনাগুলোর বিস্তারিত প্রামাণ্য বিবরণ পাওয়া যায়।

সত্যাগ্রহের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, এর লক্ষ্য প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করা ছিল না। গান্ধী অন্যায়ের প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের বিবেককে নাড়া দিতে চেয়েছিলেন। এর জন্য সত্যাগ্রহীর পক্ষ থেকে আত্মসংযম, ত্যাগ এবং কষ্ট সহ্য করার মানসিকতার প্রয়োজন ছিল। এই অর্থে, অহিংসা কোনো দুর্বলতা ছিল না, বরং এটি ছিল এমন এক শক্তি যার জন্য সাহসের প্রয়োজন ছিল।

মহাত্মা গান্ধীর রাজনৈতিক দর্শন বোঝার জন্য আরেকটি কেন্দ্রীয় ধারণা হলো উপায় ও লক্ষ্য। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, একটি মহৎ লক্ষ্য অর্জনের জন্য মন্দ উপায়কে সমর্থন করা যায় না। তিনি উপায়কে একটি বীজের সাথে এবং লক্ষ্যকে একটি গাছের সাথে তুলনা করেছেন। বীজ থেকেই গাছটির জন্ম হবে।

আজকের গণতন্ত্রে এই ধারণার প্রাসঙ্গিকতা সুস্পষ্ট। সরকারি নীতি, আইন বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা গণতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক অংশ। নাগরিকরা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রশ্ন করতে, প্রতিবাদ করতে এবং তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারেন।

কিন্তু ভিন্নমতকে সহিংসতা, গুজব রটানো, ঘৃণা, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস বা কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না। গান্ধীর মানদণ্ড অনুযায়ী, আমরা যে লক্ষ্যের জন্য লড়াই করছি, শুধু তা বিবেচনা করাই যথেষ্ট নয়; সেই সংগ্রামের সময় আমাদের পন্থাগুলো আমাদেরকে কোন ধরনের সমাজের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, সেটাও বিবেচনা করা জরুরি।

আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কোনো সংবাদ বা ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও, তার ভাইরাল হওয়াটাই সেটিকে সত্য প্রমাণ করে না। একটি পুরোনো ভিডিও, সম্পাদিত কোনো বিবৃতি বা অসম্পূর্ণ তথ্য সমাজে একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করতে পারে।

গান্ধীর সত্যের প্রতি অবিচল থাকাকে আজকের দিনে ডিজিটাল দায়িত্ববোধ হিসেবে দেখা যেতে পারে: কিছু শেয়ার করার আগে যাচাই করে নেওয়া, দ্বিমত পোষণ করলেও অন্যের প্রতি সম্মান বজায় রাখা এবং নিজের বক্তব্যকে জোরালো করতে মিথ্যার আশ্রয় না নেওয়া।

 

স্বরাজ, সর্বোদয় এবং ন্যায়পরায়ণ সমাজ

মহাত্মা গান্ধীর কাছে স্বরাজ মানে শুধু ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু। গান্ধীর মতে, বিদেশি শক্তির অপসারণ ঘটলেও যদি ব্যক্তিরা লোভ, ভয়, সামাজিক কুসংস্কার এবং পরনির্ভরশীল মানসিকতার দ্বারা দাসত্বে আবদ্ধ থাকে, তবে সেই স্বাধীনতা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাই, স্বরাজের অর্থ ছিল আত্মশাসনও: ব্যক্তির আত্মসংযম এবং সমাজের নিজ বিষয়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ।

এই চিন্তাই তাঁর বিকেন্দ্রীকরণের ধারণাকে প্রভাবিত করেছিল। গান্ধী ক্ষমতার অত্যধিক কেন্দ্রীকরণের বিষয়ে সতর্ক ছিলেন। তিনি প্রশাসনে স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ বাড়াতে চেয়েছিলেন এবং চেয়েছিলেন গ্রামগুলো যেন কেবল প্রশাসনিক একক না হয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের সক্রিয় কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এর অর্থ এই নয় যে আধুনিক রাষ্ট্রকে পুরোপুরি বিলুপ্ত করা, বরং তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করা এবং নাগরিকদের প্রশাসনে অংশগ্রহণের জন্য ক্ষমতায়ন করা।

রাষ্ট্র বিষয়ে মহাত্মা গান্ধীর চিন্তাভাবনাতেও এই একই সতর্কতা প্রতিফলিত হয়। তিনি রাষ্ট্রের সংগঠিত ক্ষমতা ও কেন্দ্রীকরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, কারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। তবে, এর অর্থ এই নয় যে তিনি নৈরাজ্য বা শাসনবিহীন সমাজের পক্ষে ছিলেন। তিনি এমন একটি গণতান্ত্রিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন যেখানে নাগরিকরা দায়িত্বশীল হবে, ক্ষমতার উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে তাদের জোরালো অংশগ্রহণ থাকবে।

সর্বোদয় ছিল এই রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিরই সামাজিক সম্প্রসারণ—সকলের উত্থান। গান্ধীর মতে, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ তখনই পূর্ণ হবে, যখন সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তিটিও সম্মান, সুযোগ এবং নিরাপত্তা পাবে।

অস্পৃশ্যতা, দারিদ্র্য, শোষণ, বেকারত্ব এবং সামাজিক বৈষম্যের মুখে শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতাই যথেষ্ট নয়। জাতিভেদ প্রথা ও অস্পৃশ্যতা বিষয়ে গান্ধীর দৃষ্টিভঙ্গির সীমাবদ্ধতা ছিল এবং ডঃ ভীমরাও আম্বেদকরের সঙ্গেও তাঁর উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য ছিল। সুতরাং, গান্ধীকে বোঝার অর্থ তাঁর সমালোচনাগুলোকে গোপন করা নয়, বরং তাঁর অবদান ও সীমাবদ্ধতা উভয়কেই একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা।

গান্ধীর প্রশ্নটি আজকের অর্থনৈতিক জীবনেও অস্বস্তিকর: মানবিক প্রয়োজন কোথায় শেষ হয় এবং লোভ কোথায় শুরু হয়? তাঁর ট্রাস্টিশিপের ধারণাটি ছিল সম্পত্তিকে নিছক একটি ব্যক্তিগত অধিকার হিসেবে না দেখে, বরং সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা।

তিনি সহিংস শ্রেণি সংঘাতের পরিবর্তে দায়িত্ববোধ, সংযম এবং সামাজিক সহযোগিতার মাধ্যমে অতিরিক্ত সম্পদ পুঞ্জীভবন ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন। তাঁর অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পুরোপুরি একমত হওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু আজকের ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের বিশ্বে, উন্নয়ন থেকে কারা লাভবান হয়—তাঁর এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষা বিষয়ে গান্ধীর দৃষ্টিভঙ্গিও ছিল ব্যাপক। শিক্ষা কেবল পড়তে ও লিখতে শেখা নয়, বরং বোধশক্তি, চরিত্র, আত্মনির্ভরশীলতা এবং দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা। বর্তমানে তথ্যের কোনো অভাব নেই; সমস্যা হলো সত্য ও মিথ্যা তথ্যের মধ্যে পার্থক্য করা। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার উদ্দেশ্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
 

পরিবর্তনশীল বিশ্বে যন্ত্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং গান্ধী

মহাত্মা গান্ধীকে প্রায়শই যন্ত্রের বিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, কিন্তু তাঁর অবস্থান সম্পর্কে এটি একটি অতি সরলীকৃত বক্তব্য। তাঁর উদ্বেগ যন্ত্রকে নিয়ে ছিল না, বরং ছিল এমন একটি যন্ত্রকেন্দ্রিক শিল্প ব্যবস্থা নিয়ে, যা উৎপাদন ও লাভের প্রতিযোগিতায় মানুষ, শ্রম এবং কর্মসংস্থানকে পেছনে ফেলে দেয়। তাঁর প্রশ্ন ছিল, প্রযুক্তির উদ্দেশ্য কি মানবজীবনকে উন্নত করা, নাকি মানুষকে প্রযুক্তি ও উৎপাদনের প্রয়োজনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া।

আজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে, এই একই প্রশ্নটি একটি নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছে। এআই শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণা, প্রশাসন এবং দৈনন্দিন কাজকে আরও সুবিধাজনক করে তুলতে পারে। কিন্তু এটি কর্মসংস্থান, গোপনীয়তা, নজরদারি, ভুল তথ্য, পক্ষপাতিত্ব এবং মানুষের সৃজনশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

আজকের কোনো প্রযুক্তি গ্রহণ করা উচিত কি না, সে বিষয়ে গান্ধী হয়তো কোনো তৈরি উত্তর দেননি, কিন্তু তাঁর মানবকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের এই প্রশ্ন করতে অনুপ্রাণিত করে যে, প্রযুক্তি থেকে চূড়ান্তভাবে লাভবান হয় কারা এবং এটি মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সুযোগ বৃদ্ধি করে কি না।

গান্ধীর স্বপ্ন শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি এমন এক বিশ্বব্যবস্থার কল্পনা করেছিলেন, যেখানে জাতিসমূহ পরস্পরকে কেবল ক্ষমতা ও প্রতিযোগিতার নিরিখে নয়, বরং সহযোগিতা ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতার নিরিখেও দেখবে।

দুটি বিশ্বযুদ্ধের পরেও বিশ্বশান্তির প্রশ্নটি অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। আজ যুদ্ধ, অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মাঝে গান্ধীর অহিংসা আমাদের এই প্রশ্ন ভাবতে বাধ্য করে যে, স্থায়ী শান্তি কি কেবল ক্ষমতার ভারসাম্যের মাধ্যমেই আসবে, নাকি সংলাপ ও সহযোগিতাও প্রয়োজন হবে।

সুতরাং, গান্ধীর প্রাসঙ্গিকতা তাঁর ছবি, চশমা, চরকা বা কয়েকটি বিখ্যাত উক্তিতে নিহিত নয়। তাঁর প্রকৃত প্রাসঙ্গিকতা নিহিত রয়েছে সেই প্রশ্নগুলিতে, যা তিনি আমাদের সামনে রেখে যান: আমাদের লক্ষ্য কি সঠিক? তা অর্জনের পথটিও কি সঠিক? মতবিরোধের মাঝেও কি আমরা অন্য মানুষের মর্যাদা রক্ষা করতে পারি? উন্নয়ন কি সবচেয়ে দুর্বলদের প্রতিফলন ঘটায়? শিক্ষা কি কেবল তথ্য প্রদান করে, নাকি প্রজ্ঞাও? এবং প্রযুক্তি কি মানবতার সেবায় নিয়োজিত?

মহাত্মা গান্ধী আধুনিক সব সমস্যার কোনো তৈরি সমাধান দেন না। তাঁর অনেক ধারণাই আজও বিতর্ক ও সমালোচনার দাবি রাখে। কিন্তু সম্ভবত এটাই তাঁর চিরস্থায়ী প্রাসঙ্গিকতা। তিনি আমাদের কোনো একটিমাত্র উত্তরকে চূড়ান্ত বলে মেনে নেওয়ার পরিবর্তে, আমাদের নিজেদের লক্ষ্য, উপায় এবং আচরণকে নৈতিকভাবে খতিয়ে দেখতে বাধ্য করেন।

গান্ধী জয়ন্তীতে তাঁকে স্মরণ করার সম্ভবত সবচেয়ে অর্থবহ উপায় হলো, তাঁকে কেবল অতীতের একজন মহাত্মা হিসেবে না দেখে, বরং বর্তমানের কঠিন প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হওয়া একজন নৈতিক প্রশ্নকর্তা হিসেবে পাঠ করা।

(আব্দুল্লাহ মনসুর মুসলিম সমাজে সামাজিক ন্যায়বিচার ও পসমন্দা বিষয় নিয়ে লেখেন।)