মহেশখালীতে হিন্দু গৃহবধূকে বাড়িতে ঢুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 3 h ago
বাংলাদেশের মহেশখালীতে হিন্দু গৃহবধূকে বাড়িতে ঢুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন
বাংলাদেশের মহেশখালীতে হিন্দু গৃহবধূকে বাড়িতে ঢুকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন

কক্সবাজার:

বাংলাদেশের কক্সবাজারের মহেশখালীতে নিজ বাড়িতে ঢুকে শিল্পী রানী সুশীল নামে এক হিন্দু গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় হোয়ানক ইউনিয়নের পদ্মপুকুর পাড়ার শীল পাড়ায় ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চকরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের দাবি, হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে তাঁর পেটসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে বা হত্যার উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

শিল্পী রানী সুশীলের হত্যাকাণ্ড সামনে আসতেই বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে; এর মধ্যে ৪৪টি হত্যাকাণ্ড, ৬২টি উপাসনালয়ে হামলা এবং ৪৭টি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের ঘটনা রয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানটি একটি সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠনের নথিভুক্ত তথ্য।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য, সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের অগ্রাধিকার। ৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের এক অনুষ্ঠানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি মহল থেকে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু মন্দিরে হামলার ঘটনা হয়নি।

ফলে মহেশখালীর এই হত্যাকাণ্ড সাম্প্রদায়িক হামলা নাকি সাধারণ অপরাধ—তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। তবে নিজের বাড়িতে এক হিন্দু নারীকে এভাবে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দ্রুত তদন্ত, হামলাকারীদের শনাক্তকরণ এবং প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রকাশের দাবিই এখন জোরালো হচ্ছে।