গুরু নানকের আলোয় আলোকিত ইকবালের কবিতা

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 1 d ago
গুরু নানকের ভক্ত আল্লামা ইকবাল: দুই মহান চিন্তকের ভাবনার সেতুবন্ধন
গুরু নানকের ভক্ত আল্লামা ইকবাল: দুই মহান চিন্তকের ভাবনার সেতুবন্ধন
 
গৌস শিবানি/ নয়াদিল্লি

হিন্দুস্তানের মাটিতে জন্ম নিয়েছেন এমন বহু মহান সুফি, সাধক, চিন্তাবিদ ও পণ্ডিত, যাঁরা তাঁদের চিন্তা ও কর্মের মাধ্যমে বিশ্বকে শান্তি, ভ্রাতৃত্ব এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন। তাঁদেরই মধ্যে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় গুরু নানককে। সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং মানুষের মধ্যে জাগিয়ে তুলেছিলেন এক নতুন চেতনা। যুগে যুগে বিদ্বজ্জনেরা তাঁর কর্মের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।

গুরু নানকের সেই মহান ভাবনা ও কর্মে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন আল্লামা ইকবালও। গুরু নানকের মহত্ত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি রচনা করেছিলেন একটি বিখ্যাত কবিতা, যা আজও সমান জনপ্রিয় এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি, সমতা, ভ্রাতৃত্ব ও উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধের বার্তা বহন করে। তবে আল্লামা ইকবাল কেন গুরু নানকের এত বড় প্রশংসক ছিলেন, তা বুঝতে হলে প্রথমেই জানা দরকার, গুরু নানক কে ছিলেন?
 
গুরু নানক
 
গুরু নানক কে ছিলেন?
 
গুরু নানক ছিলেন হিন্দুস্তানের একজন মহান আধ্যাত্মিক গুরু, সমাজ সংস্কারক ও কবি। তাঁকে শিখ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রথম শিখ গুরু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করেছিলেন এবং মানুষকে ‘এক ওঙ্কার’, অর্থাৎ এক ঈশ্বরের উপাসনার বার্তা দিয়েছিলেন। এই চিন্তার ভিত্তিতে তিনি এমন এক আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও নৈতিক জীবনদর্শন উপস্থাপন করেছিলেন, যা সমতা, ভ্রাতৃত্ব, কল্যাণ ও উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তাঁর শিক্ষাগুলি গুরু গ্রন্থ সাহিবে সংরক্ষিত রয়েছে।
 
গুরু নানকের জন্ম পাঞ্জাবের নানকানা সাহিবে, যা দেশভাগের পর পাকিস্তানে পড়েছে। তাঁর জন্মস্থানে আজ একটি সুদৃশ্য গুরুদ্বারা রয়েছে, যেখানে বিপুল সংখ্যক ভক্ত দর্শনের জন্য আসেন। তাঁর জন্মতারিখ ১৫ এপ্রিল ১৪৬৯ বলে মনে করা হয় এবং এই দিনেই গুরু পর্ব পালিত হয়। শিখ ঐতিহ্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর ১৫৩৯ সালে ৭০ বছর, ৫ মাস ও ৭ দিন বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।
 
গুরু নানকের পরিবারের মুসলমানদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল। তাঁর বাবা কল্যাণ চন্দ দাস বেদী (মেহতা কালু) মুসলিম জমিদার রাই বুলারের অধীনে কাজ করতেন। তাঁর মায়ের দেখাশোনা করতেন দৌলত নামের এক মুসলিম ধাত্রী। তাঁর শৈশবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভাই মরদানা ছিলেন মুসলমান এবং রাবাব বাজাতেন। পরবর্তীকালে তিনি গুরু নানকের ভ্রমণ ও প্রচারকার্যের সময় সবসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
 
গুরু নানকের বয়স যখন নয় বছর, তখন তাঁর বাবা তাঁকে মুসলিম বিদ্বান মৌলভি সৈয়দ হাসানের কাছে শিক্ষার জন্য পাঠান। সেখানে তিনি ফারসি, আরবি ও ইসলামি সাহিত্য অধ্যয়ন করেন। তাঁর ভগ্নীপতি জয় রাম লাহোরের গভর্নর দৌলত খান লোদির কাছে চাকরি করতেন। এই সমস্ত বিষয় থেকে বোঝা যায় যে তাঁদের পরিবারের মুসলমানদের সঙ্গে ভালো ও সম্মানজনক সম্পর্ক ছিল।
 
গুরু নানক শৈশব থেকেই সমাজ সংস্কারের মানসিকতা পোষণ করতেন। প্রায় আট বছর বয়সে যখন তাঁর মুণ্ডন ও জেনেউ সংস্কার হওয়ার কথা ছিল, তখন তিনি জেনেউ পরা এবং মুণ্ডন করাতে অস্বীকার করেন। এই বয়স থেকেই তিনি কবিতাও লেখা শুরু করেছিলেন। তাঁর রচনাগুলি আধ্যাত্মিক ভাবনায় পরিপূর্ণ ছিল, যার মধ্যে কিছু আজও গুরু গ্রন্থ সাহিবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বড় হয়ে তাঁর বিবাহ হয় মাতা সুলখনির সঙ্গে। তিনি তাঁর ভগ্নীপতির সঙ্গে সরকারি শস্যভাণ্ডারেও চাকরি করেছিলেন। এখানেই তাঁর দুই পুত্রের জন্ম হয়।
 
নানকানা সাহিব গুরুদ্বারা

ইকবালের কবিতা ‘নানক’
 
আল্লামা ইকবাল গুরু নানকের বার্তায় গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘নানক’-এ তিনি গুরু নানকের মহান সেবার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছেন। এই কবিতায় ইকবাল গুরু নানককে হিন্দুস্তানের আধ্যাত্মিক জাগরণ ও একেশ্বরবাদের মহান প্রচারক হিসেবে তুলে ধরেছেন। কবিতায় তিনি গৌতম বুদ্ধ, তৎকালীন ভারতীয় সমাজ, জাতিভেদ ব্যবস্থা এবং গুরু নানকের সংস্কার আন্দোলনের উল্লেখ করেছেন। শেষে তিনি গুরু নানকের শিক্ষাকে ঈশ্বরের একত্বের বার্তা হিসেবে তুলে ধরেছেন।
 
কওম নে পয়গামে-গৌতম কি জরা পরওয়া ন কী
কদর পহচানি ন আপনে গওহরে-ইক-দানা কি
 
ইকবাল বলেন, হিন্দুস্তানের মানুষ গৌতম বুদ্ধের মহান শিক্ষাকে সম্মান করেনি। গৌতম বুদ্ধ ছিলেন একটি অমূল্য রত্নের মতো, কিন্তু মানুষ তাঁর মহত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারেনি। বুদ্ধের বার্তা ছিল মানবতা, সমতা, দয়া ও সৎ আচরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। যদিও পরবর্তী সময়ে বহু রাজা বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং তার প্রচারও করেছিলেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এর প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছিল।
 
আহ বদকিসমত রাহে আওয়াজে-হক সে বেখবর
গাফিল আপনে ফল কি শিরিনি সে হোতা হ্যায় শজর
 
এই শেরটিতে ইকবাল আক্ষেপ করে বলেন, মানুষ সত্যের কণ্ঠস্বরকে চিনতে পারেনি। যেমন কোনো গাছ নিজের ফলের মিষ্টত্ব সম্পর্কে অবগত থাকে না, তেমনই হিন্দুস্তান তার মহান সাধক এবং তাঁদের শিক্ষার প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারেনি। এখানে ইকবাল গৌতম বুদ্ধের শিক্ষাকে সত্যের কণ্ঠস্বর হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
 
আশকার উস নে কিয়া জো জিন্দেগি কা রাজ থা
হিন্দ কো লেকিন খেয়ালি ফালসাফা পর নাজ থা
 
ইকবালের মতে, গৌতম বুদ্ধ জীবনের প্রকৃত রহস্য এবং দুঃখের সমাধান মানুষের সামনে তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কীভাবে দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু সেই সময়ের সমাজ এই বাস্তবধর্মী শিক্ষাগুলি গ্রহণ করার পরিবর্তে কল্পনা ও দার্শনিক বিতর্কে জড়িয়ে ছিল। তাই বুদ্ধের শিক্ষার সম্পূর্ণ সুফল সমাজ পায়নি।
 
শময়ে-হক সে জো মুনাওয়ার হো, ইয়ে ওহ মহফিল ন থি
বারিশে-রহমত হুই, লেকিন জমিন কাবিল ন থি
 
ইকবাল বলেন, গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা ছিল সত্য ও আলোর উৎস, কিন্তু সেই সময়ের সমাজ তা গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত ছিল না। তিনি বৃষ্টি ও মাটির উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝান, কৃপা বর্ষিত হয়েছিল, কিন্তু মাটি এতটা উর্বর ছিল না যে তার সুফল গ্রহণ করতে পারে।
 
গুরু নানক
 
আহ শূদ্র কে লিয়ে হিন্দোস্তাঁ গমখানা হ্যায়
দর্দে-ইনসানি সে ইস বস্তি কা দিল বেগানা হ্যায়
 
এই শেরটিতে ইকবাল জাতিভেদ ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, শূদ্র ও সমাজের নিম্নবর্গের মানুষের জীবন দুঃখ ও অবিচারে পরিপূর্ণ ছিল। সমাজে মানবিকতা ও সহমর্মিতার অভাব ছিল এবং দুর্বল মানুষের দুঃখ-কষ্টের প্রতি কারও উদ্বেগ ছিল না।
 
বরহমন সরশার হ্যায় আব তক ময়ে-পিনদার মে
শময়ে-গৌতম জ্বল রহি হ্যায় মহফিলে-আগয়ার মে
 
ইকবাল বলেন, সমাজের উচ্চবর্গ আজও অহংকার ও উঁচু-নিচু মানসিকতায় ডুবে রয়েছে, অথচ গৌতম বুদ্ধের শিক্ষাকে অন্যান্য দেশ আরও বেশি গ্রহণ করেছে। বৌদ্ধধর্ম হিন্দুস্তান থেকে বেরিয়ে চিন, জাপান, শ্রীলঙ্কা এবং আরও বহু দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, কিন্তু নিজের দেশেই তা সেই সম্মান পায়নি।
 
বুতকদা ফির বাদ মুদ্দত কে মগর রওশন হুয়া
নূরে-ইব্রাহিম সে আজর কা ঘর রওশন হুয়া
 
এখানে ইকবাল ‘নূরে-ইব্রাহিম’ শব্দবন্ধটি একটি প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যার অর্থ এক ঈশ্বরের সত্য পথের আলো। এই শেরটিতে তিনি গুরু নানকের জন্মের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, গৌতম বুদ্ধের বার্তাকে মানুষ সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করেনি এবং হিন্দুস্তান দীর্ঘ সময় সেই আধ্যাত্মিক আলো থেকে দূরে ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে এই মাটিতেই আবার এক ঈশ্বরের বার্তা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ‘আজরের ঘর’ মূর্তিপূজার প্রতীক, যাকে হজরত ইব্রাহিমের একেশ্বরবাদের শিক্ষা আলোকিত করেছিল। একইভাবে গুরু নানকের আগমনে হিন্দুস্তানে আবার এক নতুন আধ্যাত্মিক জাগরণ সৃষ্টি হয়।
 
ফির উঠি আখির সাদা তওহিদের পাঞ্জাব সে
হিন্দ কো এক মর্দে-কামিল নে জগায়া খোয়াব সে
 
এই শেরটিই সমগ্র কবিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শের। ইকবালের মতে, পাঞ্জাবের মাটি থেকে গুরু নানক এক ঈশ্বর, সমতা, ভালোবাসা ও মানবতার বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি হিন্দুস্তানকে জাতপাত, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও আধ্যাত্মিক অজ্ঞতা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেছিলেন। ইকবাল গুরু নানককে ‘মর্দে-কামিল’ অর্থাৎ একজন মহান ও পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর আধ্যাত্মিক মহত্ত্ব এবং সমাজ সংস্কারের কাজের প্রশংসা করেছেন।
 
পাকিস্তানে নানকানা সাহিব গুরুদ্বারা
 
এই কবিতায় আল্লামা ইকবাল দুই মহান সমাজ সংস্কারক, গৌতম বুদ্ধ ও গুরু নানকের উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, গৌতম বুদ্ধ মানবতা, সৎ আচরণ ও আত্মিক পবিত্রতার বার্তা দিয়েছিলেন, কিন্তু হিন্দুস্তান তাঁর কথার যথাযথ মূল্য দেয়নি। পরবর্তীকালে গুরু নানক পাঞ্জাব থেকে এক ঈশ্বর, সমতা, ভ্রাতৃত্ব ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি জাতপাত, ধর্মীয় বৈষম্য ও সমাজে চলা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন। ইকবালের মতে, গুরু নানক হিন্দুস্তানের ঘুমন্ত চেতনাকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। তাই তিনি তাঁকে ‘মর্দে-কামিল’ বলে অভিহিত করেছেন।
 
গুরু নানক ও ইকবাল
 
আল্লামা ইকবাল গুরু নানকের বার্তাকে এক ঈশ্বরের বার্তা হিসেবে মনে করতেন। সত্যি বলতে, গুরু নানক ও ইকবাল দুই ভিন্ন ধর্মীয় ও আদর্শগত পরম্পরার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইকবাল গুরু নানকের কাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন এবং তাকে সম্মান জানিয়েছিলেন। এটিও একটি আকর্ষণীয় বিষয় যে, গুরু নানক ও ইকবাল, উভয়েরই সম্পর্ক পাঞ্জাবের সঙ্গে ছিল। তাঁদের মাতৃভাষা ছিল পাঞ্জাবি এবং দুজনেরই জন্ম নভেম্বর মাসে হয়েছিল।
 
গুরু নানক ও ইকবালের চিন্তাভাবনায় বেশ কিছু সাদৃশ্যও দেখা যায়। দুজনেই মানুষকে এক ঈশ্বরের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং সমাজের জড়িয়ে পড়া পুরনো চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলেছেন। গুরু নানক পাঞ্জাবে উঁচু-নিচু ভেদাভেদ ও অস্পৃশ্যতা দূর করার জন্য দীর্ঘ সময় কাজ করেছিলেন। অন্যদিকে, ইকবালও তাঁর কবিতার মাধ্যমে সমতা ও মানবতার বার্তা দিয়েছেন। দুজনেই সৎ চরিত্র, মানবতা ও আধ্যাত্মিক জীবনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
 
গুরু নানক এক ঈশ্বরের উপাসনা, তাঁর স্মরণ এবং সমাজসেবাকে জীবনের সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। একইভাবে ইকবালও মানুষের প্রকৃত সাফল্যকে ঈশ্বরের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, তাঁর ভালোবাসা এবং তাঁর ইবাদতের মধ্যে দেখেছিলেন।
 
প্রতীকী ছবি
 
গুরু নানক ছিলেন একজন মহান সমাজ সংস্কারক। তিনি তাঁর সময়ের বহু সামাজিক কুপ্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন। ইকবালও এসব কুপ্রথার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন এবং বিশেষ করে মুসলমানদের বলেছিলেন, তাঁরা যেন নিজেদের গৌরবময় অতীত থেকে শিক্ষা নেন, ইসলামি নৈতিকতা গ্রহণ করেন এবং একইসঙ্গে আধুনিক শিক্ষাও অর্জন করেন।
 
দুজনের ওপরই সুফি চিন্তাধারার প্রভাব ছিল। গুরু নানকের শিক্ষায় সুফি চিন্তার স্পষ্ট ছাপ পাওয়া যায় এবং তাঁর অনুসারীরাও তা গ্রহণ করেছিলেন। এই কারণেই অমৃতসরের গোল্ডেন টেম্পলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য একজন মুসলিম ফকিরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
 
আজও শিখ সমাজে লঙ্গর ও সেবার ঐতিহ্য অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, ইকবালও সুফিদের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন। তিনি খানকাহে বসবাসকারী মানুষদের বলতেন, তাঁরা যেন শুধু এক জায়গায় বসে না থাকেন, বরং সমাজের মধ্যে নেমে এসে কাজ করেন। তিনি সবসময় হৃদয়ের পবিত্রতা, সৎ নিয়ত ও ভালো কাজের ওপর জোর দিয়েছেন। তবে এই সাদৃশ্যগুলির পাশাপাশি গুরু নানক ও ইকবালের ধর্মীয় চিন্তাধারার মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যও ছিল।


শেহতীয়া খবৰ