মোবাইলের স্ক্রিন টাইম গায়েব! ম্যাজিকেই যেন ‘ভ্যানিশ’ মোবাইল, আসক্তি কাটাতে অভিনব পাঠশালা বালুরঘাটে

Story by  Tarun Nandi | Posted by  Aparna Das • 4 h ago
মোবাইলের স্ক্রিন টাইম গায়েব! ম্যাজিকেই যেন ‘ভ্যানিশ’ মোবাইল, আসক্তি কাটাতে অভিনব পাঠশালা বালুরঘাটে
মোবাইলের স্ক্রিন টাইম গায়েব! ম্যাজিকেই যেন ‘ভ্যানিশ’ মোবাইল, আসক্তি কাটাতে অভিনব পাঠশালা বালুরঘাটে
 
তরুণ নন্দী / কলকাতা

মোবাইলের পর্দা ছেড়ে পড়ুয়ারা দেখল জাদুকরী আঙুল। বালুরঘাটে শুরু হল পড়ুয়াদের জন্য ম্যাজিক কর্মশালা। ডিজিটাল স্ক্রিনে ঘন্টার পর ঘন্টা বুঁদ থাকা পড়ুয়াদের হাত থেকে স্মার্টফোন সরিয়ে নিতে এবার জাদুকরী আঙুলের কারসাজিতে তাদের মন জয় করার অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হল দক্ষিণ দিনাজপুরে। মোবাইলের আসক্তি থেকে বের করতে সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তুলতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বালুরঘাট জেলা সংগ্রহশালায় শুরু হয়েছে তিন দিনের বিশেষ কর্মশালা 'এসো ম্যাজিক শিখি'।
 
রাজ্যের শিশু কিশোর আকাদেমি ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালায় বালুরঘাটের পাঁচটি হাই স্কুলের সপ্তম থেকে একাদশ শ্রেণির মোট ৫৩ জন পড়ুয়া অংশ নিয়েছে। সম্প্রতি একটি সভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পড়ুয়াদের ওপর মোবাইলের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে বিচার করলে এই ধরণের কর্মশালাগুলোই মোবাইল-মুক্তির এক নতুন দিশা দেখাবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞমহল।
 

কর্মশালায় অংশ নিয়ে পড়ুয়ারা তো খুবই উচ্ছ্বসিত। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ম্যাজিক অ্যাসোসিয়েটস-এর অভিজ্ঞ ম্যাজিশিয়ানরা 'ছিল রুমাল, হয়ে গেল বেড়াল'-এর মতো অবাক করা কায়দা শেখাচ্ছেন পড়ুয়াদের। পরে আসল সত্যটা বুঝতে পেরে খুশী পড়ুয়ারা।
 
ম্যাজিক দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি জাদুর নেপথ্যে থাকা বৈজ্ঞানিক কারণ ব্যাখা করে বুঝিয়ে দেওয়া হল তাদের। কর্মশালায় প্রতিটি অংশগ্রহণকারী পড়ুয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ম্যাজিক সামগ্রী। উদ্দেশ্য একটাই, মোবাইলে সময় না দিয়ে যাতে তারা বাড়িতেও এর অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারে।
 
'এসো ম্যাজিক শিখি' কর্মশালা
 
কর্মশালাতে এসে স্মার্টফোনের ভার্চুয়াল জগৎ ছেড়ে বাস্তব জাদুর দুনিয়া সামনে থেকে দেখে দারুণ উচ্ছ্বসিত পড়ুয়ারা। কর্মশালায় অংশ নেওয়া বালুরঘাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী মৌরিন রহমানের কথায়, তিন দিনের ম্যাজিক শেখার কর্মশালায় এসে খুব ভালো লাগছে। মোবাইল ঘাঁটার থেকেও ম্যাজিক শেখাটা অনেক বেশি ভালো লাগছে। সংগঠনের দাবি, ম্যাজিক কিন্তু শুধু বিনোদন জোগায় না, মানুষের বুদ্ধি ও অঙ্কের দক্ষতা বাড়াতে ভীষণভাবে সাহায্য করে।
 
আসলে জাদু খেলা মানে, বিজ্ঞান ও হাতের কারসাজি। ভালো লাগলে ভবিষ্যতে কৌতূহলী তরুণ প্রজন্ম ম্যাজিককে পেশা হিসেবেও বেছে নিতে পারে। জেলাশাসক বালা সুব্রহ্মণিয়ান টি বলেন, ‘আগামী তিন দিনের জন্য জেলা মিউজিয়াম প্রাঙ্গণে রাজ্য শিশু-কিশোর আকাদেমির পক্ষ থেকে ‘এসো ম্যাজিক শিখি’ নামে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
 
'এসো ম্যাজিক শিখি' কর্মশালা
 
শহরের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এতে অংশ নিয়েছে। আমরা সকলেই ম্যাজিক পছন্দ করি। সেই ম্যাজিক শেখানোর জন্য এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তিন দিনব্যাপী এই কর্মশালার শেষে সফল পড়ুয়াদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হবে।