কুমোরটুলি থেকে বার্লিন পাড়ি শোলার লক্ষ্মীপ্যাঁচার, বাঙালির শিল্প পৌঁছল জার্মানির মাটিতে
কলকাতা:
কুমোরটুলির শিল্পকলা এবার পাড়ি দিল জার্মানির রাজধানী বার্লিনে। শোলার তৈরি এক সাদা ধবধবে লক্ষ্মীপ্যাঁচা তৈরি করে বিদেশে পাঠালেন কুমোরটুলির প্রবীণ শিল্পী শম্ভুনাথ মালাকার। নিখুঁত কারুকাজে তৈরি সেই প্যাঁচাটিকে এমন জীবন্ত করে তোলা হয়েছে যে দেখলে মনে হবে, এই বুঝি ডানা মেলে উড়ে যাবে।
বার্লিনে বসবাসকারী এক প্রবাসী বাঙালির বাড়িতে রয়েছে লক্ষ্মীপ্রতিমা। কিন্তু প্রতিমার সামনে থাকা পুরনো প্যাঁচাটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে শোলার প্যাঁচা তৈরির প্রয়োজন হয়। তাঁর পরিচিত এক ব্যক্তি কুমোরটুলিতে এসে শম্ভুনাথ মালাকারের কাছে এই বিশেষ প্যাঁচা তৈরির বরাত দেন। প্রায় ছ’দিনের পরিশ্রমে শিল্পী তৈরি করেন প্যাঁচাটি।
শুধু প্রতিমার প্যাঁচা নয়, শোলা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী ও প্রতিমার অলঙ্কার তৈরি করে আসছেন শম্ভুনাথবাবু। তবে বিদেশ থেকে শোলার লক্ষ্মীপ্যাঁচা তৈরির বরাত এই প্রথম পেলেন তিনি। প্রবীণ বয়সে এমন আন্তর্জাতিক অর্ডার পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত শিল্পী। তাঁর কথায়, কুমোরটুলির শিল্পীরা এর আগেও বিদেশে নিজেদের শিল্পের পরিচয় দিয়েছেন, যা নিয়ে তাঁরা গর্বিত।
প্যাঁচাটি যাতে বিদেশযাত্রার পথে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার জন্য কাঠের বাক্সের ভিতরে কাগজ ও বিচালি দিয়ে অত্যন্ত যত্নে প্যাক করে পাঠানো হয়েছে। সুন্দরবনের শোলা দিয়েই মূলত বাংলার ঐতিহ্যবাহী টোপর ও প্রতিমার গয়না তৈরি হয়। সেই একই শিল্প-উপকরণ এবার তৈরি করল বার্লিনের জন্য বিশেষ লক্ষ্মীপ্যাঁচা।
কুমোরটুলি মৃৎশিল্প সমিতির কর্তা বাবু পালও মনে করেন, দূরদূরান্ত থেকে এমন বরাত আসা শিল্পীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। তাঁর বক্তব্য, যতটা সম্ভব নিখুঁত ও সুন্দরভাবে কাজ করে সেই শিল্পকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।