নয়াদিল্লি:
ভারত ও ভিয়েতনামের মধ্যে কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল। ভিয়েতনামের উপপ্রধানমন্ত্রী তথা জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ফান ভান জিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের চলমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পর্যালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পারস্পরিক যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন দুই পক্ষ।
এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হল, যখন ভারত ও ভিয়েতনাম নিজেদের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার পথে এগোচ্ছে। ১ নভেম্বর রবিবার সরকারি সফরে ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে পৌঁছন অজিত ডোভাল। এই সফরের মূল লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মে মাসে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লামের ভারত সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ককে ‘এনহ্যান্সড কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা উন্নত সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত করা হয়। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ভারত-ভিয়েতনাম সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। দুই দেশের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের যৌথ রূপরেখাও রয়েছে দুই দেশের।
এর আগে ২০২৬ সালের মে মাসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ভিয়েতনাম সফরেও সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা শিল্প, সামরিক প্রশিক্ষণ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছিল। দুই দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত সংলাপ, যৌথ মহড়া এবং প্রশিক্ষণ বিনিময় বাড়ানোর বিষয়েও ঐকমত্য তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ভারত ও ভিয়েতনামের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। অজিত ডোভালের এই সফর দুই দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।