পকেটে টাকা নেই, তবুও মিলল উন্নত চিকিৎসা! আয়ুষ্মান ভারত কার্ডে ধূপগুড়ির বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার, স্বস্তি দরিদ্র মুসলিম পরিবারে
তপন রায় / ধূপগুড়ি
অসুস্থতা যেন দরিদ্র পরিবারের কাছে এক বড় আর্থিক আতঙ্কের নাম। সংসার চলে দিন আনা দিন খাওয়ার উপার্জনে। তার উপর পরিবারের কারও গুরুতর অসুস্থতা মানেই চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খাওয়া। তবে এবার সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর করল কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য প্রকল্প। এই প্রকল্পের সুবিধায় ধূপগুড়ি শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পেলেন বারো ঘরিয়ার বাসিন্দা নীলিমা বেগম।
জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের বারোঘরিয়ার বাসিন্দা নীলিমা বেগম পেটে ব্যথা ও বমি ভাবের সমস্যা নিয়ে ধূপগুড়ি স্টেশন সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন। চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর পিত্ত থলিতে ১২ মিলিমিটারের পাথর বা গলব্লাডার স্টোন ধরা পড়ে।
নীলিমা বেগমের আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য প্রকল্প কার্ডের ছবি
চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরে স্বাভাবিক ভাবেই চিন্তায় পড়ে যায় তাঁর পরিবার। কারণ, আর্থিক ভাবে দুর্বল এই পরিবারের পক্ষে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার বিপুল খরচ বহন করা কার্যত অসম্ভব ছিল। ঠিক সেই সময় পরিবারের পাশে দাঁড়ায় আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য প্রকল্প। এই কার্ডের সুবিধাতেই কোনও চিকিৎসার খরচ ছাড়াই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ পান নীলিমা বেগম।
পরিবারের দাবি, চিকিৎসার জন্য কোনও টাকা খরচ করতে হয়নি। এমনকী যাতায়াতের অতিরিক্ত খরচের বোঝাও তাঁদের বহন করতে হয়নি। বাড়ির কাছেই উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে গোটা পরিবার।
চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হলেও আপাতত তাঁকে বাড়িতে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধূপগুড়ির স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দিক উঠে এসেছে। বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালে সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ায় আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের কাছে চিকিৎসার সুযোগ আরও সহজলভ্য হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে দাবি, ধূপগুড়ি শহরের কোনও বেসরকারি হাসপাতালে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় এমন বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার ঘটনা জেলায় প্রথম। যদিও এই প্রথম হওয়ার দাবির সরকারি বা স্বাস্থ্য দপ্তরের নিশ্চিতকরণ এখনও জানা যায়নি। তবে এই পরিষেবা যে দরিদ্র পরিবারের কাছে বড়সড় স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য।