ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে বাংলাদেশে বিক্ষোভ, বন্ধ ৫২৯টি পোশাক কারখানা

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 3 h ago
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
ঢাকা: 

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে উত্তাল বাংলাদেশ। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অবরোধের জেরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ৫২৯টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। পাশাপাশি শ্রমিকদের কাজে ফেরার আবেদন জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-র পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার, ১ নভেম্বর ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে উৎপাদন ব্যাহত হয়। প্রায় ৯ লক্ষ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক কর্মস্থল ছেড়ে যাওয়ায় কারখানাগুলির কাজকর্মে প্রভাব পড়ে। তবে এই সংখ্যাটি চাকরি হারানোর হিসাব নয়, বরং ওই দিনের কর্মস্থল ত্যাগের পরিসংখ্যান।

শ্রমিকদের দাবি, বর্তমানে মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। খাদ্য, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসার খরচ ক্রমশ বাড়তে থাকায় এই বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই ন্যূনতম মাসিক মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

ঢাকা-সহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সংঘর্ষ

শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে রাজধানী ঢাকার মিরপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং গাজীপুরে একাধিক রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। কয়েকটি জায়গায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। মিরপুরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ। মিরপুর-১১ এলাকায় পুলিশের একটি গাড়ি এবং গাজীপুরের কোনাবাড়িতে একটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গাজীপুরের কয়েকটি এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়।

বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে ২৭৬টি, সাভার-আশুলিয়া-জিরানি এলাকায় ১৮৫টি এবং মিরপুরে ৬৮টি কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

মজুরি পর্যালোচনায় বোর্ড গঠন

শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। এই বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের দুজন করে প্রতিনিধি, সরকারের একজন প্রতিনিধি এবং একজন নিরপেক্ষ সদস্য রয়েছেন। পোশাকশিল্পের বর্তমান মজুরি কাঠামো পর্যালোচনা করে সংশোধিত বেতনের সুপারিশ করবে বোর্ড।

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, শ্রমিক প্রতিনিধি ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তাঁর সতর্কবার্তা, দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত হলে রপ্তানির চালান পাঠানো এবং বিদেশি ক্রেতাদের অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হতে পারে।

রপ্তানি বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ

চলমান অস্থিরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষও। তাঁদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতিতে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা কমতে পারে এবং প্রতিযোগী দেশগুলিতে চলে যেতে পারে বাংলাদেশের পোশাকের বরাত।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ কর্মরত। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে এই শিল্প থেকে। ফলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি পূরণের পাশাপাশি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখাও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


শেহতীয়া খবৰ