নিজের ক্ষতকে শক্তিতে বদলে অগ্নিদগ্ধদের পাশে রাজস্থানের পরভীন খান

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 1 h ago
নিজের ক্ষতকে শক্তিতে বদলে অগ্নিদগ্ধদের পাশে রাজস্থানের পরভীন খান
নিজের ক্ষতকে শক্তিতে বদলে অগ্নিদগ্ধদের পাশে রাজস্থানের পরভীন খান
 
ফরহান ইসরাইলি / জয়পুর 

মাত্র ১৪ বছর বয়সে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল পরভীন খানের। রাজস্থানের সিকারের এই মেয়েটি তখন দশম শ্রেণির ছাত্রী। এক সকালে বাড়িতে দুধ গরম করার সময় তাঁর ওড়নায় আগুন লেগে যায়। আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে গুরুতরভাবে ঝলসে যান তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে জয়পুরের সওয়াই মানসিংহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একাধিক অস্ত্রোপচার, দীর্ঘ চিকিৎসা এবং পড়াশোনায় ছেদ, সবকিছুর মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতাই আজ পরভীনের জীবনে নতুন উদ্দেশ্যের জন্ম দিয়েছে। নিজের যন্ত্রণাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে তিনি এখন অগ্নিদগ্ধ মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি অসহায়দের সাহায্যে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন।
 
সেই সময় পরভীন হয়তো বুঝতে পারেননি যে হাসপাতালে কাটানো সেই কঠিন দিনগুলিই ভবিষ্যতে তাঁর জীবনের উদ্দেশ্য হয়ে উঠবে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি এমন অনেক রোগীকে দেখেছিলেন, যাঁদের ওষুধ কেনারও সামর্থ্য ছিল না। কারও সঙ্গে পরিবারের কোনও সদস্য ছিলেন না, আবার কেউ আর্থিক অনটনের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। এই পরিস্থিতিগুলি পরভীনের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
 
চিকিৎসা শিবিরে পারভিন খান ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবীরা
 
সেই সময়ই তিনি নিজের কাছে একটি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। যদি এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারেন, তাহলে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। আজ ৩০ বছর বয়সি পরভীন জয়পুরে থেকে সেই প্রতিজ্ঞা পূরণের চেষ্টা করছেন। নিজের মা মেহের খানের নামে তিনি ‘মেহের ফাউন্ডেশন’ পরিচালনা করেন। এই সংস্থার মাধ্যমে তিনি অগ্নিদগ্ধ মানুষের সাহায্য, অভাবীদের খাবার, মেয়েদের সেলাই প্রশিক্ষণ এবং দরিদ্র রোগীদের সহায়তার মতো কাজ করছেন। পরভীনের কাহিনি শুধু একটি দুর্ঘটনা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প নয়। এটি সেই অভিজ্ঞতারও গল্প, যা ব্যক্তিগত যন্ত্রণাকে অন্যদের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণায় রূপান্তরিত করেছে।
 
পরভীনের পরিবার প্রায় ২৫ বছর ধরে জয়পুরে বসবাস করছে। তাঁর কথায়, দুর্ঘটনার পর তাঁকে সওয়াই মানসিংহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসায় তিন থেকে চার বছর সময় লেগেছিল। এই সময় দশম শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর হাতের অস্ত্রোপচার ২০১৯ সাল পর্যন্ত চলেছিল। এখনও একটি অস্ত্রোপচার বাকি রয়েছে, যা ব্যথার ভয়ে আপাতত পিছিয়ে রেখেছেন তিনি।
 
চিকিৎসার সময় তাঁর পরিচয় হয়েছিল অ্যাসিড হামলার শিকার এক মেয়ের সঙ্গে। সেই মেয়েটির সঙ্গে ছিলেন শুধুমাত্র তাঁর বৃদ্ধ মা। হাসপাতালে তিনি ছয় মাসের একটি শিশুকেও দেখেছিলেন, যার বাবা-মা আর্থিক সমস্যার কারণে বাইরে থেকে লিখে দেওয়া ওষুধ কিনতে পারছিলেন না।
 
পরভীন জানান, তিনি নিজের বাবা গুলাম নবিকে অসহায় রোগীদের আর্থিক সাহায্য করতে দেখেছেন। তাঁর বাবা ওষুধ এবং ড্রেসিংয়ের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রীতেও সাহায্য করতেন। এই ঘটনাগুলি পরভীনকে ভাবতে বাধ্য করেছিল যে অসুস্থতা ও দুর্ঘটনার পর মানুষের শুধু চিকিৎসাই নয়, আর্থিক সহায়তা এবং মানসিক সমর্থনেরও প্রয়োজন হয়।
 
তিনি জানান, সেই সময়ই আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন এবং সুস্থ হওয়ার পর অন্যদের জন্য কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর চিকিৎসক ডা. বিকাশ কক্করও তাঁকে বলেছিলেন, সুস্থ হওয়ার পর এমন কাজ করতে, যাতে বাবা-মায়ের নাম উজ্জ্বল হয়। পরভীনের মতে, চিকিৎসকের সেই কথাটি আজও তাঁর মনে রয়েছে।
 
২০১৩ সালে জয়পুরের ইমরান খানের সঙ্গে পরভীনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি আবার পড়াশোনা শুরু করেন এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষা সম্পূর্ণ করেন। ২০১৮ সালে তিনি ট্রেডিংয়ের ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি সোনা ও রুপোর ট্রেডিং করেন। তাঁর ব্যবসা পাইকারি ও খুচরো, দুই স্তরেই পরিচালিত হয়।
 
ব্যবসা কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার পর তিনি সমাজসেবার জন্য আলাদা একটি সংস্থা তৈরির কথা ভাবেন। ২০১৯ সালে এক পরিচিতের সঙ্গে কথোপকথনের পর এনজিও শুরু করার ভাবনা এগিয়ে যায় এবং সেই বছরই মেহের ফাউন্ডেশনের নিবন্ধন করানো হয়। পরভীনের মতে, সংস্থার প্রয়োজনীয় নিবন্ধন সম্পূর্ণ রয়েছে এবং প্রতি বছর এর অডিটও করানো হয়।
 
আমের-এ মেহের ফাউন্ডেশনের সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
 
মায়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি ফাউন্ডেশনের নাম রেখেছেন মেহের খান। মায়ের প্রতি তাঁর এই ভালোবাসা ব্যবসার নামেও প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর ব্যবসা মেহের ট্রেডিং এবং মেহের জুয়েলারি নামে পরিচালিত হয়। তাঁদের বাড়ির নামও মেহের হাউস। সংস্থার কার্যালয় আমেরের কুন্ডা চৌরাস্তার কাছে দিল্লি হাইওয়ে রোডে অবস্থিত।
 
পরভীনের কাছে ব্যবসা শুধু আয়ের মাধ্যম নয়। ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ তিনি অসহায় মানুষের সাহায্যে ব্যয় করেন। তাঁর কথায়, এখনও পর্যন্ত ফাউন্ডেশনের অধিকাংশ খরচ তিনি নিজের পকেট থেকেই বহন করেছেন। কিছু সহযোগীও নিজেদের মতো করে আর্থিক ও অন্যান্য সাহায্য করেছেন।
 
মেহের ফাউন্ডেশনের কাজ শুরু হয়েছিল ছোট পরিসরে। পরভীন একটি পুরনো গাড়ি কিনে তাতে সংস্থার নাম লিখিয়ে নেন। এরপর জয়পুরের কয়েকটি রেস্তোরাঁর মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখানে অবশিষ্ট এমন খাবার, যা খাওয়ার জন্য নিরাপদ ছিল, সংগ্রহ করে হাসপাতালে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়। কখনও ৩০ জনের জন্য খাবার পাওয়া যেত, কখনও আবার ৫০ জনের জন্য। সপ্তাহে একদিন ফাউন্ডেশনের দল নিজেরাও ডাল-ভাত অথবা কড়ি-ভাত তৈরি করে অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করত।
 
২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় এই কাজের পরিসর আরও বাড়ে। পরভীনের মতে, ফাউন্ডেশন নিজেদের দলের সহযোগিতায় সকালে প্রায় ১০০ জন এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১০০ জনের খাবারের ব্যবস্থা করেছিল। এই কাজ টানা দুই মাস চলেছিল। সেই সময় আরও বেশি মানুষ সংস্থাটিকে চিনতে শুরু করেন এবং এর কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে থাকেন।
 
 
হাসপাতালে খাবার পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ পরভীনের নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও যুক্ত। তিনি জানেন, অসুস্থতার সময় রোগীর সঙ্গে আসা পরিজনরা অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসার চিন্তায় নিজেদের প্রয়োজনের দিকে নজর দিতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে একবেলার খাবারও তাঁদের কাছে স্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
 
সমাজসেবার এই যাত্রার মধ্যেই ২০২১ সালে পরভীন ও তাঁর পরিবারকে আরও একটি গুরুতর দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়। তিনি স্বামী ইমরানের সঙ্গে অ্যাক্টিভায় করে দিল্লি হাইওয়ে দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর কথায়, ভুল দিক থেকে আসা একটি গাড়ি তাঁদের ধাক্কা মারে। 
 
পারভিন খান
 
সেই সময় তাঁদের মেয়ের বয়স ছিল পাঁচ থেকে ছয় বছর এবং ছেলে মাত্র ছয় মাসের। দুর্ঘটনায় ইমরান গুরুতর আহত হন। প্রায় ২৫ দিন কোমায় ছিলেন তিনি। তাঁর দুই পায়ে রড বসাতে হয়েছিল। পরভীনের কোমরের হাড়েও গুরুতর আঘাত লাগে। চিকিৎসকরা তাঁর পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন। এই দুর্ঘটনা পরিবারটির সামনে আবারও স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। পরভীন জানান, এখন তাঁর পরিবার সুস্থ রয়েছে। তিনি এটিকে আল্লাহর কৃপা এবং মানুষের দোয়ার ফল বলে মনে করেন।
 
স্বাস্থ্যের উন্নতির পর পরভীন মেহের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মহিলা ও মেয়েদের স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। আমেরে সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয়। এর জন্য একটি বড় জায়গা ভাড়া নেওয়া হয়েছিল, যেখানে ২৫ থেকে ৩০টি সেলাই মেশিন বসানো হয় এবং প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য শিক্ষিকা নিয়োগ করা হয়।
 
পরভীনের মতে, এই কেন্দ্রগুলিতে ৫০০-রও বেশি মেয়েকে বিনামূল্যে সেলাই শেখানো হয়েছে। যেসব মেয়েরা পরবর্তীতে এই কাজকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে চেয়েছে, তাদের বাড়িতে বসেই কাজের সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এই উদ্যোগের খরচ বহন করেছে ফাউন্ডেশন।
 
মেহের ফাউন্ডেশনের কাজের মধ্যে অগ্নিদগ্ধ মানুষের সাহায্যের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরভীন নিজেও একজন বার্ন সারভাইভার। তাই তিনি জানেন, আগুনে পুড়ে যাওয়ার দুর্ঘটনা শুধু শারীরিক আঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব আত্মবিশ্বাস, সামাজিক জীবন এবং পরিবারের আচরণের উপরও পড়তে পারে।
 
পরভীনের মতে, সওয়াই মানসিংহ হাসপাতাল এবং অন্যান্য হাসপাতাল থেকে রোগীদের তথ্য পাওয়ার পর তাঁর দল অসহায় পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করত। যাঁদের আর্থিক অথবা মানসিক সহায়তার প্রয়োজন হতো, তাঁদের সাহায্য করার চেষ্টা করা হতো।
 
তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর পরিবারও মেয়েটিকে বোঝা হিসেবে দেখতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসার খরচে সাহায্যের পাশাপাশি তার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনাও জরুরি। পরভীন নিজেই মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতেন। তাঁর মতে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১২ জন মেয়ের কাউন্সেলিং করেছেন তিনি এবং তাঁরা আজও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
 
এই কাজের জন্য তিনি কোনও বাইরের মোটিভেশনাল স্পিকারের উপর নির্ভর করতে চান না। তাঁর বিশ্বাস, একই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া একজন মানুষের কথা আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্য ধরনের ভরসা দিতে পারে। তাঁর নিজের জীবন সেই মেয়েদের কাছে একটি উদাহরণ, যারা দুর্ঘটনার পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করছে।
 
ফাউন্ডেশন জয়পুরে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ শিবিরের আয়োজন করেছে। পরভীনের মতে, সংস্থা নিয়মিত রক্তদান শিবির আয়োজন করেনি, তবে প্রয়োজন হলে দলের সদস্যরা রক্তদান করতে পৌঁছে যান। তিনি নিজেও দু'বার এমন ব্যক্তিদের রক্ত দিয়েছেন, যাঁদের সঙ্গে তাঁর কোনও পারিবারিক সম্পর্ক ছিল না।
 
স্থানীয় শিশুদের সঙ্গে পারভিন খান
 
নাই কি থড়ি, মুরলিপুরা এবং অন্যান্য বস্তি এলাকায় শিবির আয়োজন করে মানুষকে সরকারি প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে। পরভীনের মতে, সংস্থা তিনজন ক্যানসার রোগীর চিকিৎসায় সাহায্য করেছে। চিকিৎসার পর এই রোগীদের ফল ও সবজির ঠেলা বসিয়ে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতেও সহযোগিতা করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন যুবককে জয়পুরের বেসরকারি সংস্থায় চাকরি পেতে সাহায্য করা হয়েছে।
 
পরভীনের মতে, মহারাষ্ট্রে বসবাসকারী এক সহযোগী রোগীদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য প্রায় তিন থেকে চার লক্ষ টাকা সাহায্য করেছেন। তিনি নিজের নাম প্রকাশ্যে আনতে চান না। তাই পরভীনও তাঁর পরিচয় প্রকাশ করেননি। তাঁর কথায়, দেশের বিভিন্ন শহরে প্রায় ২৫০ জন মানুষ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মুম্বাই, দিল্লি, গুরুগ্রাম, আহমেদাবাদ এবং কোলহাপুরের মানুষও রয়েছেন। পরভীন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। তাঁর স্বামী ইমরান খান সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দীপেন্দ্র সিং রাও সচিব এবং আদিল খান উপসচিব।
 
সম্প্রতি তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতেও সক্রিয়তা বাড়িয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে তিনি একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন, যেখানে রাস্তার পাশে আবর্জনার মধ্যে পড়ে থাকা মূর্তিগুলি পরিষ্কার করে সম্মানজনক জায়গায় রাখা হয়েছিল। তিনি মানুষের কাছে আবেদন জানান, পুরনো অথবা ভাঙা মূর্তি যেন আবর্জনার মধ্যে ফেলে দেওয়া না হয়, কারণ প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব বিশ্বাস রয়েছে। তাঁর মতে, এই ভিডিওটি প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার মানুষ দেখেছেন। এরপর তিনি ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, এক্স এবং ফেসবুকেও নিজের কার্যকলাপ শেয়ার করতে শুরু করেন।
 
এখন তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য ক্যানসার রোগীদের সাহায্য করা। এর পিছনে একটি ব্যক্তিগত কারণও রয়েছে। পরভীনের এক খুড়তুতো ভাই ২২ বছর বয়সে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করতে করতে মারা গিয়েছিলেন। এই ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। তিনি ভবিষ্যতে ক্যানসার রোগীদের জন্য কাজের পরিসর বাড়াতে চান। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে একটি স্কুল অথবা অ্যাকাডেমি খোলার স্বপ্নও দেখছেন। এর জন্য তাঁর জমি, জায়গা এবং সহযোগিতার প্রয়োজন।
 
পরভীনের জীবনে দুটি বড় দুর্ঘটনা এসেছিল। প্রথমে আগুন তাঁকে গুরুতরভাবে ঝলসে দিয়েছিল। এরপর সড়ক দুর্ঘটনা তাঁর পরিবারকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। এই অভিজ্ঞতাগুলির পরেও তিনি অসহায় মানুষের সাহায্য করার সংকল্প ছাড়েননি।
 
আজ মেহের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তাঁর প্রচেষ্টা হল, কোনও রোগী যেন অর্থের অভাবে ওষুধ থেকে বঞ্চিত না হন, কোনও অসহায় মানুষ যেন অভুক্ত অবস্থায় ঘুমাতে না যান এবং কোনও মেয়ে যেন দক্ষতার অভাবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ হারিয়ে না ফেলে। তাঁর সামনে সম্পদের সীমাবদ্ধতা অবশ্যই রয়েছে, কিন্তু হাসপাতালে করা সেই পুরনো প্রতিজ্ঞাই আজও তাঁর কাজের ভিত্তি হয়ে রয়েছে।


শেহতীয়া খবৰ