তিব্বতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত ১৬, আহত ৫৪! ধসে পড়েছে শত শত বাড়ি, চলছে উদ্ধারকাজ

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 h ago
তিব্বতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত ১৬, আহত ৫৪! ধসে পড়েছে শত শত বাড়ি, চলছে উদ্ধারকাজ
তিব্বতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত ১৬, আহত ৫৪! ধসে পড়েছে শত শত বাড়ি, চলছে উদ্ধারকাজ
 
তিব্বত: 

চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৫৪ জন। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের জেরে নাগকু শহরে শত শত বাড়িঘর ও পশু রাখার শেড ধসে পড়েছে। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভূমিকম্পে অন্তত ৩৩৯টি বাড়ি এবং গবাদিপশু রাখার ২০টি শেড ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধার ও সহায়তার কাজে ১,৬০০-র বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয় দিতে পাঠানো হয়েছে এক হাজার প্রিফ্যাব্রিকেটেড আবাসন ইউনিট এবং প্রায় তিন হাজার তাঁবু। পাশাপাশি পাঠানো হয়েছে ভাঁজ করা বিছানা, টর্চলাইট ও শীতবস্ত্র।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল নাগকু শহর থেকে প্রায় ১৯১ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে, ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৮ কিলোমিটার গভীরে। মূল ভূমিকম্পের পর ৪.৩ থেকে ৫.২ মাত্রার অন্তত সাতটি পরাঘাতও রেকর্ড করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের জেরে ওই অঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে স্থানীয় রেল কর্তৃপক্ষ ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। পাহাড় থেকে পাথর গড়িয়ে পড়ায় জাতীয় সড়ক ৩১৭-এর একটি অংশও বন্ধ রাখা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ সরানো এবং উদ্ধারকাজের সঙ্গে যুক্ত যানবাহনকেই আপাতত ওই পথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আগামী তিন দিন তুষারপাতের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির দাবি, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদ্ধার অভিযান, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে নাগকুর দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত পৌঁছনো এবং উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রাখাই এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।


শেহতীয়া খবৰ