দুশানবে:
সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর কাউন্সিল অব হেডস অব গভর্নমেন্ট বৈঠকের ফাঁকে ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে মঙ্গলবার এই সাক্ষাৎ হয়। রাজনাথ সিং নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বৈঠকের কথা জানিয়ে একে সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রকাশ্যে এই বৈঠকে কোনও নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা চুক্তি বা নতুন প্রকল্প ঘোষণার কথা জানা যায়নি। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সাক্ষাতের তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ইরান ভারতের কাছে শুধু পশ্চিম এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার নয়—মধ্য এশিয়ায় ভারতের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও কৌশলগত প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রেও তেহরানের গুরুত্ব রয়েছে।
বিশেষ করে চাবাহার বন্দর এবং ইন্টারন্যাশনাল নর্থ–সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডর (INSTC)-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত ইরানকে ব্যবহার করে মধ্য এশিয়া ও ইউরেশিয়ার বাজারে বিকল্প যোগাযোগপথ তৈরি করতে চায়। SCO-র মঞ্চে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ভারতের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ সেই বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ। SCO বৈঠকে রাজনাথ সিং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘কোনও দ্বৈত মানদণ্ড নয়’ বলে কঠোর অবস্থান জানান এবং সন্ত্রাসের অর্থায়ন, সমর্থন ও নিরাপদ আশ্রয়ের পুরো ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার আহ্বান জানান। সেই একই সময়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের সক্রিয় কূটনৈতিক অবস্থানকে সামনে আনে।
এর পাশাপাশি, ইরান–ভারত সম্পর্কের গুরুত্ব আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তার সঙ্গেও যুক্ত। আফগানিস্তানকে ঘিরে জঙ্গিবাদ, মাদক পাচার ও আঞ্চলিক অস্থিরতার মতো চ্যালেঞ্জে ভারত ও ইরানের স্বার্থের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে।
ফলে দুশানবেতে রাজনাথ সিং–মোহাম্মদ রেজা আরেফের এই সাক্ষাৎকে ভারতের ‘Act West’ এবং মধ্য এশিয়া-কেন্দ্রিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে বৈঠক থেকে কোনও নির্দিষ্ট চুক্তি বা প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্ত ঘোষণা না হওয়ায় এর প্রকৃত ফলাফল নির্ভর করবে পরবর্তী দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ওপর।
অর্থাৎ, বড় কোনও চুক্তি ঘোষণা না হলেও বার্তাটি স্পষ্ট—মধ্য এশিয়া থেকে পশ্চিম এশিয়া পর্যন্ত পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতিতে ভারত ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রেখে নিজের কৌশলগত পরিসর আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।