১৫ বছর বয়সে পুরো কোরআন পড়েছিলেন চেলসি! মেয়ের মুখেই সম্প্রীতির পাঠ শিখেছিলেন বিল ক্লিনটন
ফ্লোরিডা:
ধর্মীয় বিদ্বেষ ও বিভাজনের আবহে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। নিজের মেয়ের কৈশোরের একটি স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানালেন, মাত্র ১৫ বছর বয়সে চেলসি ক্লিনটন পুরো পবিত্র কোরআন পড়েছিলেন। শুধু তাই নয়, কোরআনের একটি বিশেষ আয়াত বাবাকে পড়তে দিয়ে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, বোঝাপড়া ও সহাবস্থানের গুরুত্বও তুলে ধরেছিলেন তিনি।
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর ফ্লোরিডার ব্রাওয়ার্ড কাউন্টির Koinonia Worship Center-এ আয়োজিত ‘Multiple Faiths, One Florida’ শীর্ষক আন্তঃধর্মীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন বিল ক্লিনটন। সেখানেই ধর্মের পরিচয়ের কারণে মানুষকে হেয় করার প্রবণতা নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। মুসলিম হওয়ার কারণে কাউকে অপমানিত হতে দেখেও যে তিনি ক্লান্ত, সেই কথাও তুলে ধরেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এই প্রসঙ্গেই মেয়ের কৈশোরের স্মৃতিচারণ করেন ক্লিনটন। তাঁর কথায়, চেলসি যখন হাইস্কুলের ছাত্রী, তখন কোনও পরীক্ষা বা বাধ্যবাধকতার জন্য নয়, বরং জানার আগ্রহ থেকেই পুরো কোরআন পড়েছিলেন। বইটি শেষ করার পর বাবার হাতে একটি পৃষ্ঠা তুলে দিয়ে তাঁকে একটি আয়াত পড়তে বলেছিলেন।
আয়াতটি পবিত্র কোরআনের সুরা আল-হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াত। সেখানে বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন, যাতে তারা পরস্পরকে চিনতে ও জানতে পারে। এই আয়াতের মূল বার্তা—মানুষের বৈচিত্র্যকে বিভেদের কারণ না করে পারস্পরিক পরিচয় ও বোঝাপড়ার ভিত্তি হিসেবে দেখা।
১৯৮০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জন্ম চেলসি ক্লিনটনের। ১৯৯৫ সালে তাঁর বয়স ছিল ১৫ বছর। সেই সময় বিল ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং পরিবারটি হোয়াইট হাউসে বসবাস করত। ব্যস্ত রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও অন্য ধর্ম সম্পর্কে জানার জন্য কিশোরী চেলসির এই আগ্রহের কথাই তুলে ধরেন তাঁর বাবা।
বক্তব্যে ক্লিনটন আরও বলেন, প্রতিটি ধর্মেই খারাপ মানুষ থাকতে পারে, কারণ মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেরই সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সামগ্রিকভাবে কোনও সম্প্রদায়কে বিচার করার প্রবণতার বিরোধিতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আজ চেলসি ক্লিনটন নিজেও লেখক, জনস্বাস্থ্য গবেষক এবং তিন সন্তানের মা। বাবার স্মৃতিতে তাঁর কৈশোরের সেই ঘটনা যেন আজও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। একটি ধর্মগ্রন্থ পড়ার মধ্য দিয়ে অন্য ধর্মকে জানার আগ্রহ কীভাবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার পথ খুলে দিতে পারে, সেই বার্তাই উঠে আসে এই স্মৃতিচারণে।
ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে যখন নানা প্রান্তে বিভাজন ও বিদ্বেষের ঘটনা সামনে আসে, তখন এই গল্প মনে করিয়ে দেয়—অন্যকে বুঝতে হলে আগে তাকে জানার চেষ্টা করতে হয়। আর সেই চেষ্টার শুরু হতে পারে একটি বইয়ের পাতা থেকেই।