শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের বিরোধিতায় জার্মানিতে পথে নামছে তরুণ প্রজন্ম

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 1 h ago
শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের বিরোধিতায় জার্মানিতে পথে নামছে তরুণ প্রজন্ম
শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের বিরোধিতায় জার্মানিতে পথে নামছে তরুণ প্রজন্ম
 
বার্লিন: 
 
শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় সংকোচন, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের পরিকল্পনার প্রতিবাদে জার্মানিজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তরুণ প্রজন্ম। আগামী ৩১ অক্টোবর ‘জেন জেড স্টেহট আউফ’ (Gen Z steht auf) উদ্যোগের ব্যানারে অন্তত ২১টি শহরে একযোগে এই কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।  

আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর ২টোয় বার্লিন, হামবুর্গ, কোলন, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও মিউনিখ-সহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং তরুণদের উপর অর্থনৈতিক সংকটের বোঝা না চাপানোর দাবিতে সরব হবেন আন্দোলনকারীরা। পাশাপাশি, বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানানো হবে।

আয়োজকদের বক্তব্য, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁদের মতামত যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। তাঁদের দাবি, স্কুল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ কমানোর পরিবর্তে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার জন্য সরকারের কাছে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে এই উদ্যোগ। 

বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান বিষয় বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ। আয়োজকদের মতে, যে যুদ্ধ বা সামরিক নীতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তরুণদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই, তার দায় তাঁদের উপর চাপানো উচিত নয়। তাই ভবিষ্যৎ ও সামরিক পরিষেবা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে। 

বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সতর্ক রয়েছে জার্মানির বিভিন্ন এলাকার পুলিশ। বার্লিন পুলিশের মুখপাত্র ফ্লোরিয়ান নাথের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু উগ্রপন্থি গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে। বিক্ষোভের আড়ালে হিংসা, অগ্নিসংযোগ কিংবা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না নিরাপত্তা আধিকারিকরা। হ্যালোইন উৎসবের দিন হওয়ায় আতশবাজি ও দাহ্য সামগ্রীর ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। 
 
তবে আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা আকরাম সেলো স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হবে এবং কোনও ধরনের হিংসাকে তাঁরা সমর্থন করেন না। আয়োজকদের ওয়েবসাইটেও জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগ দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে তরুণদের দাবি তুলে ধরতে চায়। 
 
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামাজিক নীতি নিয়ে তরুণদের অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে জার্মানির এই কর্মসূচি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আয়োজকদের মতে, ৩১ অক্টোবরের প্রতিবাদ কেবল এক দিনের কর্মসূচি নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাশ্রয়ী জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।


শেহতীয়া খবৰ