ধ্বংসস্তূপের নীচেও আশার আলো, নেপালে উদ্ধার আরও ৩ ভারতীয়

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 1 h ago
ধ্বংসস্তূপের নীচেও আশার আলো, নেপালে উদ্ধার আরও ৩ ভারতীয়
ধ্বংসস্তূপের নীচেও আশার আলো, নেপালে উদ্ধার আরও ৩ ভারতীয়
 
কাঠমান্ডু 

বিপর্যয়ের ধাক্কায় বিধ্বস্ত নেপালে এখনও জারি রয়েছে উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপ ও কাদামাটির নীচ থেকেও একের পর এক জীবনের সন্ধান মেলায় নতুন করে জেগে উঠছে আশার আলো। গত ২৪ ঘণ্টায় নেপালের ত্রিশূলী বাজার থেকে আরও তিন ভারতীয়কে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে এক্স হ্যান্ডলে এই খবর জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মোট ১৬৯ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে নিখোঁজ রয়েছেন ২৭৫ জন। তাঁদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
 
বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, শুক্রবার ত্রিশূলী বাজার থেকে উদ্ধার হওয়া তিনজনের মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছরের একটি শিশুও। উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন অভিজিৎ সুরেশ পওয়ার, দীপিকা অভিজিৎ পওয়ার এবং সমর্থ অভিজিৎ পওয়ার। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, তাঁরা একই পরিবারের সদস্য। গত ২৬ আগস্ট হড়পা বানের ভয়াবহ স্রোতে ত্রিশূলী বাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা ভেসে গিয়েছিল। সেই বিপর্যয়ের মধ্যেও এতদিন কোনওরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে ছিলেন তাঁরা।
উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিখোঁজ ভারতীয়দের বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া গেলেই তা সংশ্লিষ্টদের জানানো হচ্ছে। শুধু উদ্ধারকাজেই নয়, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণসাহায্যও চালিয়ে যাচ্ছে নয়াদিল্লি।
 
অন্যদিকে, নেপালের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির মন্তব্যে আরও ঘনীভূত হয়েছে উদ্বেগ। শুক্রবার বিধ্বস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শনে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, নিখোঁজের সংখ্যা হয়তো কম বলে মনে হলেও হড়পা বানের প্রবল স্রোতে কারা কোথায় ভেসে গিয়েছেন, তা নির্দিষ্টভাবে বোঝা সম্ভব নয়। তাঁর আশঙ্কা, বহু মানুষই আর বেঁচে নেই।
 
ওলি জানান, চিতওয়ানে বহু মানুষের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এমনকি ভারত সীমান্তেও বেশ কয়েকজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, হড়পা বানের স্রোতে ভেসেই তাঁরা এত দূরে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং তাঁদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
 
এখনও পর্যন্ত নেপালে প্রায় ১৩০০ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতার পাশাপাশি ভবিষ্যতের বিপদ নিয়েও সতর্ক করেছেন কেপি শর্মা ওলি। তিনি জানান, হিমবাহের খুব ছোট একটি অংশ ভেঙেই এত বড় বিপর্যয় ঘটেছে। তাঁর আশঙ্কা, হিমবাহের আরও বড় কোনও অংশ যে কোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে। এখন থেকেই সতর্ক না হলে সামনে আরও বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
 
একদিকে মৃতের সংখ্যা ও নিখোঁজদের ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ, অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারের ঘটনা জোগাচ্ছে নতুন আশার সঞ্চার। নেপালের বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মধ্যেও তাই উদ্ধারকারীদের তৎপরতায় এখনও জ্বলছে প্রাণের আলো।