Cipla-কে ভারতীয় ফার্মা থেকে বিশ্বব্র্যান্ডে পৌঁছে দেওয়ার নেপথ্যে সামিনা হামিদ

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 4 h ago
সামিনা হামিদ
সামিনা হামিদ
 
মৃদ্গন্ধা দীক্ষিত

স্বাধীনতার সময় ভারত ছিল এক গভীর স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে। সে সময় দেশের একজন সাধারণ নাগরিকের গড় আয়ু ছিল মাত্র ২৭-২৮ বছর। তাই দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল। একইসঙ্গে দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এমন একটি জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল, যা দেশের দরিদ্র মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে।
 
সেই সময়েও ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের অভিযোগ উঠত। এমন পরিস্থিতিতে দেশীয় সংস্থাগুলির বিকাশ এবং ওষুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারতের আত্মনির্ভর হয়ে ওঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইতিহাস বলে, আধুনিক ভারতের রূপকাররা এই বিষয়গুলির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
 
সামিনা হামিদ
 
এই ইতিহাসেরই একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম ‘সিপলা’ (Cipla)। তবে কোনও প্রতিষ্ঠান যখন ৮০ বছরের গণ্ডি পেরিয়ে যায়, তখন দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর নতুন বিশ্বের সঙ্গে তার ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। হামিদ পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের প্রতিনিধি সামিনা হামিদ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছেন।
 
একসময় যার বাজার মূলধন ছিল ২২৭ বিলিয়ন টাকা, সেই সংস্থাকে সম্প্রতি ১ লক্ষ কোটি টাকার বাজার মূলধনের গণ্ডি পার করা এক বিশাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ক্ষেত্রে সামিনার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘কর্পোরেট শৃঙ্খলা’ এবং ‘মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি’র মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রেখেই তিনি সংস্থার বৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।
 
বাইরের একজনের কাছে মনে হতে পারে, সামিনার যাত্রা যেন ‘সিলভার স্পুন’ নিয়ে শুরু হয়েছিল। কিন্তু তিনিই সিপলার মধ্যে একাধিক নতুন ধারণা বাস্তবায়ন করে ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায় আধুনিকতার ছোঁয়া এনেছেন। তাঁর দাদু এবং সিপলার প্রতিষ্ঠাতা খাজা আবদুল হামিদ স্বাধীনতার আগের সময়ে মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এই সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
 
পরবর্তীতে তাঁর বাবা এম. কে. হামিদ এবং কাকা ড. ওয়াই. কে. হামিদ সংস্থাটিকে শুধু ভারতেই নয়, গোটা বিশ্বে সম্প্রসারিত করেন। পশ্চিমী ওষুধ প্রস্তুতকারী বৃহৎ সংস্থাগুলির একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে তাঁরা আফ্রিকাসহ বহু উন্নয়নশীল দেশে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে HIV/AIDS-এর ওষুধ পৌঁছে দিয়েছিলেন।
 
সামিনা তাঁর শৈশব মুম্বইয়ে কাটিয়েছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি লন্ডনে পাড়ি দেন। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স (LSE) থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স’-এ মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেওয়া হয়েছিল যে তিনি সিপলায় যোগ দেবেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশাকে অগ্রাহ্য করে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন ‘গোল্ডম্যান স্যাক্স’-এ, যা বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়।
 
নির্মলা সীতারামানের সঙ্গে সামিনা হামিদ
 
লন্ডন এবং নিউ ইয়র্কের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে সামিনা বিশ্ববাজারের নিয়ম এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্কৃতি সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সেখানেই তিনি কর্পোরেট জগতে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সেই সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী কী কী প্রভাব পড়তে পারে, তা শিখেছিলেন।
 
সামিনা আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১১ সালে সিপলায় যোগ দেন। সেই সময় তাঁর সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রথমত, সংস্থার অভিজ্ঞ ও প্রবীণ কর্মীদের আস্থা অর্জন করা। দ্বিতীয়ত, ‘ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি’ হিসেবে সিপলার যে ভাবমূর্তি ছিল, তাকে একটি ‘বহুজাতিক সংস্থায়’ রূপান্তরিত করা। সংস্থায় যোগ দেওয়ার পর তিনি ‘স্ট্র্যাটেজিক প্রজেক্টস’-এর দায়িত্ব নেন এবং সিপলার প্রতিটি খুঁটিনাটি সম্পর্কে নিজেকে পরিচিত করে তোলেন।
 
শৃঙ্খলা, দৃঢ়তা এবং দূরদর্শিতা তাঁর কাজের ধরনকে চিহ্নিত করে। তিনি সংস্থায় বিশ্বমানের বিশেষজ্ঞ ও পেশাদারদের নিয়ে আসেন এবং কঠোর ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা চালু করেন। আজ সিপলায় যে পেশাদার শৃঙ্খলা দেখা যায়, তা গত এক দশকে সামিনার করা কঠোর পরিশ্রমেরই ফল।
 
সামিনার দূরদর্শিতার অন্যতম বড় উদাহরণ হল ২০১৫-১৬ সালের দিকে ‘সিপলা হেলথ লিমিটেড’ (Cipla Health Limited)-এর প্রতিষ্ঠা। তিনি সঠিকভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন যে শুধুমাত্র চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশনের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
 
এই নতুন উদ্যোগের কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁর যে দৃষ্টিভঙ্গি সামনে এসেছিল, তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। তিনি বলেছিলেন, “কনজিউমার হেলথকেয়ারে সফল হতে হলে আমাদের মরিয়া হয়ে ‘ফার্মা ইন / FMCG আউট’ মানসিকতা গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ, পণ্য তৈরির সময় সেটিতে ‘ফার্মা’ সংস্থার বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতা ও নির্ভরযোগ্যতা থাকতে হবে। কিন্তু বাজারে বিক্রির সময় সাবান ও শ্যাম্পুর মতো সরাসরি ভোক্তাদের কাছে সেটিকে আগ্রাসীভাবে পৌঁছে দিতে হবে।”
 
এর সরাসরি ফল হিসেবে ‘নিকোটেক্স’ (ধূমপান ছাড়ার পণ্য), ‘কফসিলস’ (কাশির লজেন্স ও সিরাপ), ‘ওমনিজেল’ (ব্যথা উপশমের অয়েন্টমেন্ট/স্প্রে) এবং ‘ম্যাক্সিরিচ’ (মাল্টিভিটামিন সাপ্লিমেন্ট)-এর মতো ব্র্যান্ড আজ ভারতের প্রায় প্রতিটি ঘরে পৌঁছে গিয়েছে। OTC (ওভার দ্য কাউন্টার) পণ্যের ক্ষেত্রে সিপলাকে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করে সামিনা ‘সিপলা’ ব্র্যান্ডকে সাধারণ মানুষের ফার্স্ট-এইড বক্সের কাছেও পৌঁছে দিয়েছেন।
 
সামিনা হামিদ
 
সামিনার নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে সিপলা আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তিনি শুধু ওষুধের রফতানি বাড়াননি, বিদেশে স্থানীয় সংস্থা অধিগ্রহণের মাধ্যমেও সিপলার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছেন। ২০১৫-১৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘ইনভাজেন ফার্মাসিউটিক্যালস’ এবং ‘এক্সেলান’-এর মতো সংস্থা অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত সিপলার ইতিহাসে অন্যতম সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
 
এই সিদ্ধান্তের ফলে অত্যন্ত কঠোর নিয়ন্ত্রিত মার্কিন বাজারে সিপলার প্রবেশ আরও সহজ হয়। আজ দক্ষিণ আফ্রিকা হোক কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সিপলা একটি বিশ্বস্ত নাম হিসেবে পরিচিত। আর এই বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সামিনা হামিদের নাম অবশ্যই অগ্রভাগে রাখতে হয়।
 
সিপলার মূলমন্ত্র, ‘Caring for Life’। এই কথাটি যাতে শুধু একটি স্লোগান হয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে সামিনা গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D)-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, “গবেষণাই ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের হৃদয়।” শ্বাসযন্ত্রের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সিপলাকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলির মধ্যে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।
 
আজ সিপলার ইনহেলার বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ রোগীকে আরও স্বচ্ছন্দে শ্বাস নিতে সাহায্য করছে। বিশেষ করে ক্যানসার ও HIV-এর মতো গুরুতর রোগের ওষুধ সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার সিপলার নীতিকে সামিনা কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। “ওষুধ মুনাফা অর্জনের কোনও হাতিয়ার নয়; এটি একজন রোগীর অধিকার”, এটাই তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।
 
বিশ্বব্যাপী মহামারির সময় যখন গোটা পৃথিবী কার্যত থমকে গিয়েছিল, তখন সামিনা হামিদ এবং তাঁর দল দিন-রাত কাজ করেছিলেন। ‘রেমডেসিভির’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা ছিল তাঁদের সামনে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। সামিনা নিজে সরবরাহ ব্যবস্থা এবং লজিস্টিকসের ওপর নজর রাখতেন। মুনাফার চিন্তাকে পাশে রেখে সর্বাধিক সংখ্যক রোগীর কাছে ওষুধ পৌঁছে দেওয়াকেই তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।
 
এই জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে সামিনা হামিদ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সিপলার অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “এই বিশ্বব্যাপী মহামারির সময় আমাদের মূলমন্ত্র তার প্রকৃত অর্থে বাস্তবায়িত হয়েছে। COVID-19-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রত্যেক প্রয়োজনীয় রোগীর কাছে জীবনদায়ী ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” এই সময়ে সিপলার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সামিনার নেতৃত্বের জন্য একটি ‘লিটমাস টেস্ট’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যে পরীক্ষায় তিনি নিঃসন্দেহে সফল হয়েছিলেন।
 
সামিনা হামিদ
 
সামিনার কৃতিত্ব একাধিকবার সম্মানিত হয়েছে। ‘Fortune India’ এবং ‘Business Today’-এর মতো খ্যাতনামা প্রকাশনা তাঁকে বারবার ভারতের ‘Most Powerful Women in Business’-এর তালিকায় স্থান দিয়েছে। ‘Forbes’-এর এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী নারীদের তালিকাতেও তাঁর নাম উঠে এসেছে।
 
তবে এই পুরস্কার ও স্বীকৃতির থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হল ‘Indian Pharmaceutical Alliance’ (IPA)-এর মাধ্যমে সমগ্র ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের জন্য তিনি যে নীতি-নির্ধারণমূলক কাজ করে চলেছেন। ২০২১-২০২৩ মেয়াদে IPA-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর নির্বাচিত হওয়াকে তাঁর কর্মজীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
 
সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এবং রোগীদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শিল্পের সমস্ত অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” সরকারি নীতিতে রোগীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার পক্ষেও তিনি বরাবরই সোচ্চার।
 
২০১১ সালে সামিনা সিপলায় যোগ দেওয়ার প্রায় একই সময়ে ‘Cipla Foundation’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একাধিক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন। বিশেষ করে ‘Cipla Palliative Care and Training Centre’-এর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে মরণাপন্ন ক্যানসার রোগীদের বিনামূল্যে এবং মর্যাদাপূর্ণ চিকিৎসা প্রদানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
 
গ্রামীণ এলাকায় মোবাইল হেলথকেয়ার ইউনিটের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন প্রধান চালিকাশক্তি। একবার তিনি বলেছিলেন, “আমাদের সাফল্য ব্যালান্স শিট দিয়ে পরিমাপ করা যাবে না। কতগুলি জীবন আমরা বাঁচাতে পেরেছি, তার ভিত্তিতেই এর মূল্যায়ন করতে হবে।”
 
নিজের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সামিনা হামিদ বলেন, “স্বাস্থ্য পরিষেবা কোনও ব্যবসা নয়। এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার। আমাদের দায়িত্ব শুধু ওষুধ তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সবচেয়ে দরিদ্র রোগীও মর্যাদাপূর্ণ এবং সাশ্রয়ী চিকিৎসা পেতে পারেন।”
 
আজ সামিনা হামিদের নেতৃত্বে সিপলা ডিজিটাল হেলথকেয়ার এবং প্রিসিশন মেডিসিনের দিকে এগিয়ে চলেছে। ডিজিটাল হেলথকেয়ার বলতে প্রযুক্তি এবং মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও স্মার্ট করে তোলাকে বোঝায়। এর মধ্যে রয়েছে বাড়িতে বসেই ভিডিও কলের মাধ্যমে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা এবং স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ব্যান্ডের মতো পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা।
 
এই প্রযুক্তিগুলির মাধ্যমে হৃদস্পন্দন, ECG কিংবা রক্তে অক্সিজেনের মাত্রার মতো বিষয়গুলি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। এর মধ্যে ‘Electronic Health Records’-ও রয়েছে, অর্থাৎ কোনও রোগীর অসুস্থতা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য কাগজে না রেখে নিরাপদে ক্লাউডে সংরক্ষণ করা। অন্যদিকে, ‘Precision Medicine’ বলতে ‘one drug fits all’ অর্থাৎ সকলের জন্য একই ওষুধের ধারণা থেকে সরে এসে সঠিক রোগীর জন্য, সঠিক সময়ে, সঠিক ওষুধ পৌঁছে দেওয়াকে বোঝায়।
 
মুনাফা অর্জনের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে প্রবেশ করে সেই ধারণাকে ভেঙে মুনাফা এবং সামাজিক কাজের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করেছেন সামিনা হামিদ। এই মূল্যবোধ হয়তো তিনি পারিবারিক উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছিলেন, কিন্তু সেই নাম, মর্যাদা এবং কাজকে তিনি নিজের কর্মের মাধ্যমে সংরক্ষণ করেছেন। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার সংযোগ ঘটিয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার মাধ্যমে তিনি যে নতুন ভারতের জন্য একজন আদর্শ রোল মডেল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।