মাতৃহারা হওয়ার বেদনা বুকে নিয়েই অর্জুন পুরস্কারের সম্মান পেলেন দৌড়বিদ মহম্মদ আজমল

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 17 h ago
দৌড়বিদ মহম্মদ আজমল
দৌড়বিদ মহম্মদ আজমল
 
অনিকা মাহেশ্বরী / নয়াদিল্লি

“এই খবরটা যদি সবার আগে কাউকে জানাতে হতো, তাহলে তিনি হতেন আমার মা।” মহম্মদ আজমলের কাছে অর্জুন পুরস্কারের খবরটি শুধু আনন্দের সংবাদ হয়ে আসেনি। এই খবর ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল মা আছিয়ার মুখ, যিনি তাঁর প্রতিটি সাফল্যের জন্য সবচেয়ে বেশি দোয়া করতেন। অথচ এই সম্মান পাওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগেই তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।
 
আজমল বলেন, “আমার মা আমার সাফল্যের জন্য সবচেয়ে বেশি দোয়া করতেন। কিন্তু ১৯ দিন আগে তিনি মারা গেছেন। এখন তাঁকে খুব মনে পড়ে। তিনি যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে এই খবরটা সবার আগে তাঁকেই জানাতাম।”
 
 
পালাক্কাড়ের চেরপুলাসেরির মরিয়ামঙ্গলম থেকে যাত্রা শুরু করে ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের সর্বোচ্চ মঞ্চে পৌঁছনো মহম্মদ আজমলের কাহিনি এই কারণেও বিশেষ। কারণ তাঁর জীবনে পদক ও রেকর্ড যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ তাঁর মা, যাঁর দোয়া এখন তাঁর কাছে নেই, কিন্তু তাঁর স্মৃতি আজমলের সঙ্গে চিরকাল বেঁচে রয়েছে। মহম্মদ আজমলকে ২০২৬ সালের অর্জুন পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের ৪০০ মিটারের এই দৌড়বিদ গত কয়েক বছরে ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে নিজের এক স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন।
 
ফুটবল ভালোবাসতেন, কিন্তু শিক্ষক চিনেছিলেন দৌড়ের গতি
 
আজমলের শৈশবের স্বপ্ন ট্র্যাকের চেয়ে ফুটবলের সঙ্গে বেশি জড়িত ছিল। চেরপুলাসেরির জি এইচ এস এস-এ পড়ার সময় তাঁর বেশি মনোযোগ ছিল ফুটবলের দিকে। কিন্তু স্কুলের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক নন্দন তাঁর দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা লক্ষ্য করেন। তিনি আজমলকে কল্লাড়ি হাইস্কুলে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। সেই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে। আজমল স্কুল পর্যায়ে ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার দৌড়ে রাজ্য ও জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় সোনা জিতেছিলেন। যে তরুণের যাত্রা ফুটবল দিয়ে শুরু হয়েছিল, তিনি ধীরে ধীরে ট্র্যাকেই নিজের পরিচয় তৈরি করতে শুরু করেন।
 
স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি কোঠামঙ্গলমের এম এ কলেজে ভর্তি হন। সেখানে প্রখ্যাত কোচ পিটার পল তাঁর অ্যাথলেটিক্স কেরিয়ারকে সঠিক দিশা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে আজমল কোচ জেসন ডসনের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করছেন এবং নিজের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
 
১০০ মিটার থেকে ৪০০ মিটারে যাত্রা
 
আজমল তাঁর কেরিয়ার শুরু করেছিলেন ১০০ মিটারের স্প্রিন্টার হিসেবে। কিন্তু কোচরা তাঁর সামর্থ্য লক্ষ্য করে তাঁকে ৪০০ মিটার দৌড়ের দিকে নিয়ে যান। আর ৪০০ মিটারের প্রথম দৌড়েই যেন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে এই দৌড়বিদের মধ্যে বিশেষ কিছু রয়েছে। ন্যাশনাল সার্ভিসেস চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি ৪৬.৯১ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জিতেছিলেন। নিজের ইভেন্ট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আজমল একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ভারতে ৪০০ মিটারে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি। অন্যদিকে, ১০০ মিটারে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে অসাধারণ মানের পারফরম্যান্সের প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, এটি শুধু ইভেন্ট পরিবর্তনের গল্প ছিল না। এটি ছিল নিজের জন্য সঠিক পথ বেছে নেওয়ার গল্পও।
 
দৌড়বিদ মহম্মদ আজমল
 
এরপর আজমল আর পিছনে ফিরে তাকাননি। ২০২১ সালে আন্তঃসেবা চ্যাম্পিয়নশিপে ৪৬.৯১ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জেতেন। ২০২২ সালে ইন্ডিয়ান গ্র্যান্ড প্রিক্সে ৪৬.৭৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা অর্জন করেন এবং এরপর জাতীয় আন্তঃরাজ্য সিনিয়র অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ৪৬.৪৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে রুপোর পদক জেতেন।
 
তুরস্কের আতাতুর্ক ইউনিভার্সিটি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সপ্তম আন্তর্জাতিক স্প্রিন্ট অ্যান্ড রিলে কাপে তিনি ৪৬.০৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। কিন্তু আজমলের লক্ষ্য শুধু পদক জেতা ছিল না। তাঁর চোখ ছিল কেরালার আর এক তারকা দৌড়বিদ মহম্মদ আনাস ইয়াহিয়ার ৪৫.২১ সেকেন্ডের জাতীয় রেকর্ডের দিকে।
 
“বন্দুকের শব্দ শোনো এবং শুধু দৌড়াও”
 
আজমলের একটি ছোট কিন্তু অর্থবহ মন্ত্র রয়েছে, “Hear the bang and just run।” অর্থাৎ, স্টার্টের শব্দ শোনো এবং শুধু দৌড় শুরু করো। সম্ভবত এই সরলতাই তাঁর খেলার পরিচয়ও। ট্র্যাকে কোনও অতিরিক্ত প্রদর্শন বা দেখানোর কিছু নেই, শুধু স্টার্টিং ব্লক, ৪০০ মিটারের চ্যালেঞ্জ এবং ফিনিশিং লাইনের আগে পর্যন্ত নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উজাড় করে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প। ৪০০ মিটারে তাঁর ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স ৪৫.৩৬ সেকেন্ড, যা তিনি ২০২৩ সালের এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে অর্জন করেছিলেন।
 
আজমল শুধু একজন দৌড়বিদ হয়ে থাকেননি, ইতিহাসেরও অংশ হয়ে উঠেছেন
 
আজমলের পরিচয় শুধু ৪০০ মিটারের ব্যক্তিগত দৌড়বিদ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভারতীয় ৪×৪০০ মিটার রিলে দলের অংশ হয়ে তিনি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রিলে দৌড়বিদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০২৩ সালে ভারতীয় দল মহম্মদ আনাস ইয়াহিয়া, আমোজ জ্যাকব, মহম্মদ আজমল ওয়্যারিয়াথোডি এবং রাজেশ রমেশকে নিয়ে এশিয়ান গেমসে ৪×৪০০ মিটার রিলেতে সোনা জয় করে।
 
 
ভারতীয় দল ৩:০১.৫৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করে অ্যাথলেটিক্সে ভারতের জন্য আরও একটি গৌরবময় সোনার পদক নিয়ে আসে। একই বছরে এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপেও ভারত ৪×৪০০ মিটার রিলেতে ৩:০১.৮০ সেকেন্ড সময় নিয়ে রুপোর পদক জেতে। আজমল সেই দলেরও অংশ ছিলেন। তবে তাঁর অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক সাফল্য আসে বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত ২০২৩ সালের বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে। ভারতীয় ৪×৪০০ মিটার রিলে দল সেখানে ২:৫৯.০৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করে।
 
এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলটি সেই সময়ের এশিয়ান রেকর্ড ভেঙে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস তৈরি করে। প্রথমবার ভারতীয় পুরুষদের ৪×৪০০ মিটার রিলে দল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল। ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্সের রেকর্ড অনুযায়ী, ২:৫৯.০৫ সেকেন্ডের এই পারফরম্যান্স ভারতের জাতীয় রেকর্ড হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।
 
মহম্মদ আনাস ইয়াহিয়া, আমোজ জ্যাকব, মহম্মদ আজমল ওয়্যারিয়াথোডি এবং রাজেশ রমেশের সেই ঐতিহাসিক দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন আজমল। সেই রাতে তিনি শুধু ৪০০ মিটার দৌড়াননি। ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে নিজের নাম চিরদিনের জন্য লিখে দিয়েছিলেন।
 
এশিয়ান গেমসে সোনা, তারপর এশিয়ার বড় চ্যালেঞ্জ
 
২০২৩ সাল আজমলের কেরিয়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর ছিল। তিনি এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ৪×৪০০ মিটার রিলে দলের হয়ে সোনা জিতেছিলেন। এছাড়াও আজমল মিক্সড ৪×৪০০ মিটার রিলেতেও ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করে রুপোর পদক জয় করা দলের অংশ ছিলেন। এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত বিভাগে তিনি ৪৫.৩৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। অর্থাৎ, আজমলের যাত্রা শুধু রিলের সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যক্তিগত ৪০০ মিটারেও তিনি ধারাবাহিকভাবে ভারতের শীর্ষ দৌড়বিদদের মধ্যে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে তুলেছিলেন।
 
মায়ের মৃত্যু: সবচেয়ে বড় আনন্দের মাঝেই সবচেয়ে বড় বেদনা
 
কিন্তু ক্রীড়াজগতে রেকর্ড ও পদকই সবকিছু নয়। কখনও কখনও একটি ফোনকল পুরো জীবন বদলে দেয়। আজমলের মা আছিয়া ১৯ জুলাই মারা যান। আজমলের মতে, সেই দিন পর্যন্ত তাঁর মা সম্পূর্ণ সুস্থই ছিলেন। রাতে হঠাৎ তাঁর বুকে ব্যথা অনুভূত হয়। পরিবার তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।
 
আজমলের কাছে এটি শুধু মাকে হারানোর বেদনা ছিল না। তিনি হারিয়েছিলেন তাঁর জীবনযাত্রার সবচেয়ে বড় সমর্থককে। বাবা-মা ও ভাইদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কেরিয়ারের উত্থান-পতনের প্রতিটি সময়ে পরিবারের বিশ্বাস ও সমর্থন তাঁর শক্তির উৎস হয়ে এসেছে। আর তারপরেই এল অর্জুন পুরস্কারের সম্মান। একদিকে দেশের অন্যতম সম্মানীয় ক্রীড়া স্বীকৃতি, অন্যদিকে মায়ের অনুপস্থিতি। সেই কারণেই আজমলের কাছে এই পুরস্কার শুধু একটি ট্রফি বা শংসাপত্র নয়। এটি সেই পরিবারের বিশ্বাস ও ভালোবাসার স্বীকৃতি, যারা একটি ছোট শহরের ছেলের স্বপ্নের ওপর বিশ্বাস রেখেছিল।
 
দৌড়বিদ মহম্মদ আজমল
 
আজমল বলেন, “আমি এই সম্মান পাব বলে আশা করিনি। যখন এই খবর পেলাম, তখন আমার কাছে এটি একটি বিশেষ অনুভূতি ছিল। আমার বাবা-মা ও ভাইদের প্রতি আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। তাঁরা আমার ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। তাঁদের সমর্থন ছাড়া আমি এখানে পৌঁছতে পারতাম না।”
 
পরিবারের দোয়া থেকে দেশের প্রত্যাশায়
 
আজমলের কাহিনিকে শুধু একজন মুসলিম খেলোয়াড়ের সাফল্যের গল্প হিসেবে দেখলে হয়তো তাঁর কাহিনিকে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হবে। এটি একজন ভারতীয় খেলোয়াড়ের কাহিনি, যিনি কেরালার পালাক্কাড় থেকে নিজের যাত্রা শুরু করেছিলেন; স্কুলে ফুটবল খেলতে চেয়েছিলেন; কিন্তু একজন শিক্ষক তাঁর দৌড়ের গতি চিনতে পেরেছিলেন। ১০০ ও ২০০ মিটার দিয়ে শুরু করে পরে তিনি ৪০০ মিটার বেছে নেন এবং ধীরে ধীরে ভারতীয় রিলে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন।
 
এটি সেই খেলোয়াড়ের কাহিনি, যিনি ৪০০ মিটারে ৪৫.৩৬ সেকেন্ডের ব্যক্তিগত সেরা সময় করেছেন, এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছেন, এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে রুপোর পদক পেয়েছেন এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের ঐতিহাসিক ৪×৪০০ মিটার রিলে দলের অংশ হয়ে ইতিহাস তৈরি করেছেন। আর এটি সেই ছেলের কাহিনিও, যে নিজের জীবনের অন্যতম বড় সম্মান পাওয়ার পর সবার আগে নিজের মাকে স্মরণ করেছে।
 
এখনও লক্ষ্য অনেক দূর
 
অর্জুন পুরস্কার আজমলের যাত্রার শেষ নয়। এটি তাঁর দীর্ঘ যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক মাত্র। এখন তাঁর লক্ষ্য আরও ভালো সময়, বড় আন্তর্জাতিক পদক এবং নতুন জাতীয় রেকর্ড। তিনি মহম্মদ আনাস ইয়াহিয়ার ৪৫.২১ সেকেন্ডের জাতীয় রেকর্ড ভাঙতে চান। ট্র্যাকে তাঁর কাহিনি এখনও চলমান। কারণ, হয়তো এটাই আজমলের সমগ্র কাহিনি, দৌড়ে যেতে থাকা, যাত্রাপথে পিছনে পড়ে থাকা জিনিসগুলি যতই আপন হোক না কেন। মা এখন তাঁর পাশে নেই, কিন্তু তাঁর দোয়ার স্মৃতি আজমলের প্রতিটি পদক্ষেপে বেঁচে আছে। আর যখন তিনি পরবর্তীবার ট্র্যাকে নামবেন, তখন হয়তো সেই ৪০০ মিটারের দৌড়ে শুধু একজন অ্যাথলিটই দৌড়াবেন না, দৌড়াবে এক ছেলের স্বপ্নও, তাঁর উম্মাচির জন্য।


শেহতীয়া খবৰ