বারুইপুর ধর্ষণ-খুন মামলার অভিযুক্তের এনকাউন্টারকে স্বাগত কামদুনির আন্দোলনের মুখ মৌসুমি কায়ালের, বললেন— 'এটাই অসুর বধের সূচনা'

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 2 d ago
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি
 
কলকাতা:

 বারুইপুরে ১১ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্তের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যু নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম মুখ মৌসুমি কায়াল। বুধবার তিনি এই ঘটনাকে "অসুর বধের সূচনা" বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন, নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ রুখতে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এনকাউন্টারের খবর শুনে তিনি "হৃদয় থেকে অত্যন্ত খুশি" বলে জানান। তাঁর দাবি, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।মৌসুমি কায়াল বলেন, "তদন্ত হবে, অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি নেওয়া হবে, তারপর এনকাউন্টার হবে। এটাই বিচার। ধর্ষকদের জন্য এটাই প্রকৃত শাস্তি।"

তিনি আরও বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ সম্ভাব্য অপরাধীদের মনে ভয় সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যতে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ কমাতে সহায়ক হবে। তাঁর কথায়, "ধর্ষকরা যেন এই রাজ্যে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে এবং আর কোনও নারীর ক্ষতি করতে না পারে, তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা জরুরি।"

২০১৩ সালে উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর ন্যায়বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন মৌসুমি কায়াল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই মামলায় বিচার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যান। তাঁর অভিযোগ, সে সময় সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল এবং তাঁকে 'মাওবাদী' বলেও আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।

বারুইপুর কাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি আগের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, অতীতে ধর্ষণের ঘটনাগুলিকে অনেক সময় "সাজানো" বা "মনগড়া" বলে উড়িয়ে দেওয়া হতো। তাঁর দাবি, কামদুনি থেকে আরজি কর হাসপাতালের ঘটনা— একাধিক মামলায় সরকারি আইনজীবী ও তদন্তকারী সংস্থার কিছু আধিকারিক অভিযুক্তদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন।

বর্তমান বিজেপি সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে মৌসুমি কায়াল বলেন, নারীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা আশাবাদী।

উল্লেখ্য, বুধবার ভোরে বারুইপুরের ধর্ষণ ও খুন মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল ঘটনাস্থল পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের এক আধিকারিকের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে বলে পুলিশের দাবি। এরপর পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।


শেহতীয়া খবৰ