নয়াদিল্লি:
ভোটের মুখে থাকা পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision—SIR) নিয়ে চলা বিতর্কের মাঝেই বুধবার সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজই এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি করবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এ বিষয়ে তিনি আদালতে উপস্থিত থাকবেন।
শুনানির আগে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন থেকে রওনা হন। শুনানি উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল, তামিলনাড়ুতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় যেসব ভোটারের নাম “লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি” তালিকায় রাখা হয়েছে, সেগুলি প্রকাশ করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তামিলনাড়ুতে এসআইআর প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত অনিয়মের অভিযোগে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ মামলার শুনানির সময় এই নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, ওই তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, প্রতিটি মহকুমার তালুক অফিস এবং শহরাঞ্চলের ওয়ার্ড অফিসে টাঙিয়ে রাখতে হবে। যাদের নাম ওই তালিকায় থাকবে, তারা তালিকা প্রকাশের তারিখ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে অথবা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারবেন।
তালিকায় সংক্ষেপে অসঙ্গতির কারণও উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট সমস্ত জেলা শাসকদের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে চলতে এবং এসআইআর প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত কর্মী মোতায়েন করতে।
উল্লেখ্য, সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অন্যান্য নেতাদের নিয়ে নয়াদিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সূত্রের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও দুই নির্বাচন কমিশনার ভদ্র আচরণ করলেও তৃণমূল নেত্রী নাকি “ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলেন, অসদাচরণ করেন, টেবিলে চাপড় মারেন এবং বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান।” এক সূত্র জানায়, “সিইসি তাঁর প্রশ্নের জবাব দেন এবং স্পষ্ট করে বলেন, আইনের শাসন বজায় থাকবে এবং কেউ আইন নিজের হাতে নিলে কমিশনের হাতে থাকা ক্ষমতা ও আইনি বিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”