পাটনায় নির্মিত খান স্যারের হাসপাতালে অতি-সুলভ স্বাস্থ্যসেবার নতুন দিগন্ত

Story by  atv | Posted by  Aparna Das • 22 h ago
খান স্যারের হাসপাতালে অতি-সুলভ স্বাস্থ্যসেবার নতুন দিগন্ত
খান স্যারের হাসপাতালে অতি-সুলভ স্বাস্থ্যসেবার নতুন দিগন্ত
 
আশহার আলম / নয়াদিল্লি

যখন দেশের সাধারণ মানুষ চিকিৎসা ব্যয়ের দুঃসহ ভারে নুয়ে পড়ছে, তখন ঠিক সেই সংকটের মধ্যেই এক অসাধারণ উদ্যোগ নিয়ে সামনে এলেন খান স্যার। পাটনার হৃদয়ে গড়ে ওঠা তাঁর নতুন হাসপাতালটি যেন আশার আলো, যেখানে উচ্চমূল্যের চিকিৎসা আর ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকা পরীক্ষাগুলো এখন মিলবে অতি-স্বল্প খরচে, ঠিক তাদের জন্য যারা সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত।
 
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও সাশ্রয়ী অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা ফয়সাল খান, ‘খান স্যার’ নামে পরিচিত, এই হাসপাতালটি গড়ে তুলেছেন দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য সুলভ মূল্যে চিকিৎসা ও ডায়াগনস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করতে। তাঁর মায়ের আজীবনের ইচ্ছা, অর্থনৈতিক কারণে যেন কারও চিকিৎসা আটক না যায়, এই উদ্যোগের মূল চালিকা শক্তি।
 
 
মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে খান স্যার বলেন, “এটা আমার দেশের মানুষের সুবিধার জন্য। আমার মায়ের স্বপ্ন ছিল এমন একটি হাসপাতাল, যেখানে সবাই সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা পাবে। আমার দেশের নারীদের যেন আর গয়না বন্ধক রাখতে না হয়, সেটাই আমার লক্ষ্য। লাভ নয়, চিকিৎসাখাতে থাকা দালালচক্র দূর করাই মূল লক্ষ্য।”
 
হাসপাতালটি পাটনার অশোক রাজপথে অবস্থিত এবং নির্মিত হয়েছে নিম্ন-আয়ের পরিবার, দিনমজুর, প্রবীণ নাগরিক ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের চাহিদাকে কেন্দ্র করে। খান স্যার একাধিকবার বলেছেন, এখানে সরকারি হাসপাতালের থেকেও কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া হবে।
 
শুরু থেকেই হাসপাতালটির লক্ষ্য ছিল ডায়াগনস্টিক খরচকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা। যেমন, রক্ত পরীক্ষা ৭ টাকা, ইসিজি ২৫ টাকা, যা সাধারণ ল্যাবের তুলনায় বহু গুণ কম। এক্স-রে, কিডনি পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় টেস্টও রাখা হয়েছে সাধারণের নাগালের মধ্যে।
 
খান স্যারের হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক খরচের লিস্ট
 
হাসপাতালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী: 
 
** ডিজিটাল এক্স-রে: ৩০ টাকা
 
** সিটি স্ক্যান: ১৫০ টাকা থেকে
 
** আল্ট্রাসাউন্ড: ১০০ টাকা
 
** রক্ত পরীক্ষা: ৫০ টাকা
 
** ডাক্তার দেখানো: ২০ টাকা
 
এই দাম রোগীদের জন্য ভরসার জায়গা হয়ে উঠছে, কারণ এতদিন তারা চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচের মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতেন।
 
শুধু বেসিক টেস্ট নয়, এখানে আছে ২৪/৭ ব্লাড ব্যাংক, ডায়ালাইসিস সেন্টার, জরুরি বিভাগ, সাধারণ ও বিশেষায়িত অপিডি। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত নেফ্রোলজি টিমের মাধ্যমে সেবা আরও কার্যকর হয়েছে। এছাড়া কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রাম ও রোগী সচেতনতা কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। মানবিকতার এই উদ্যোগ বিস্তারের লক্ষ্যে খান স্যার বিহারের বিভিন্ন জেলায় নতুন ডায়ালাইসিস কেন্দ্র ও ব্লাড ব্যাংক স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন, যেখানে ব্যবহার করা হবে জার্মানি ও জাপানের আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি।
 
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের রক্তদান শিবিরে ইতোমধ্যে ১৫০ ইউনিটের বেশি রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে, যা জরুরি অবস্থায় বহু মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করবে। উদ্যোগটি মানুষের মধ্যে অসীম আবেগ ও ভালোবাসা জাগিয়েছে। উত্তর প্রদেশের এক কিশোরী নিজের রক্ত দিয়ে আঁকা ছবি পাটনায় এসে খান স্যারকে উপহার দিয়েছেন, যা তাঁর কাজের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও অনুপ্রেরণার অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
 
অতি-সুলভ খরচ, আধুনিক চিকিৎসা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং মানবিকতার ওপর দাঁড়ানো এই উদ্যোগ বিহারে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবার এক নতুন দিশা খুলে দিচ্ছে। এটি এমন একটি মডেল, যার কেন্দ্রে রয়েছে, সহানুভূতি, সহজপ্রাপ্যতা এবং মানুষের প্রতি অঙ্গীকার।