নয়াদিল্লি
পাঞ্জাবের সাঙ্গরুর জেলার পুনেওয়াল গ্রামে অসাধারণ সম্প্রীতির এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এক হিন্দু পণ্ডিত পরিবার। গ্রামের মুসলিমদের জন্য মসজিদ নির্মাণে তারা নিজস্ব জমির একটি অংশ দান করেছেন, যা পুরো এলাকাজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি করেছে। রবিবার পাঞ্জাবের শাহী ইমাম মৌলানা মুহাম্মদ উসমান রহমানী লুধিয়ানভি এই মসজিদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
মসজিদ খোলার দিনে হিন্দু, শিখ এবং মুসলিম, তিন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে উদযাপন করেন। প্রথমবারের মতো মসজিদে নামাজ আদায় হয়, আর সাজানো মসজিদ প্রাঙ্গণে মুসলিমদের সঙ্গে অন্য ধর্মের মানুষও প্রার্থনায় অংশ নেন। এই উদ্যোগ গ্রামজুড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাহী ইমাম বলেন, “এই মসজিদ মুসলমানরা তৈরি করেনি, আর এটি মুসলমানদের জমিতেও নির্মিত হয়নি।”
তার পাশে দাঁড়ানো দুই যুবকের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, “জমিটি দান করেছেন জসপাল রাম ও অজয় রাম পরিবারের সদস্যরা। পাঞ্জাবে একটি সুন্দর প্রথা আছে, হিন্দু-মুসলিমরা শিখদের বড় ভাই মনে করে। তাই আজ সবাই এখানে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি।”
তিনি আরও বলেন, এই মহৎ কাজে মসজিদে আসা মানুষজন পণ্ডিত পরিবারকে সবসময় দোয়া করবে, আর তিনিও তাদের জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করেন।
জমিদাতা পণ্ডিত জসপাল রাম ও পণ্ডিত অজয় কুমার জানান, গ্রামে কোনো মসজিদ না থাকায় মুসলিমদের অন্য গ্রামে গিয়ে নামাজ পড়তে হতো। মানুষের এই কষ্ট উপলব্ধি করেই তারা জমি দান করার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের মতে, মসজিদ নির্মিত হওয়ায় গ্রামেরই উপকার হয়েছে, মুসলিমদের জন্য বড় সুবিধা তৈরি হয়েছে।
গ্রামের প্রধান গোবিন্দ সিং বলেন, মসজিদের জন্য জমি দান করার এই উদ্যোগ পুরো এলাকার জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ। এমন কাজ সমাজে ভ্রাতৃত্ব আরও দৃঢ় করে। শাহী ইমাম বলেন, পাঞ্জাবের ইতিহাস গুরু নানক দেব জির সময় থেকে চলে আসছে, যেখানে সকল ধর্মের মানুষ একে অপরের সুখ-দুঃখের যত্ন করে।তিনি বলেন, আজ পুনেওয়াল গ্রাম সেই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে নতুন করে তুলে ধরেছে।
মৌলানা উসমান রহমানী লাধ্যানভি আরও বলেন, “কিছু মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা ছড়ালেও পাঞ্জাবে ঘৃণার কোনো স্থান নেই।” এই মসজিদ তাই শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্বের এক উজ্জ্বল প্রতীক।