পরিবারেও অধিকার আদায়ে প্রতি পদে লড়তে হয় নারীদের: তসলিমা নাসরিন

Story by  PTI | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 14 h ago
পরিবারেও অধিকার আদায়ে প্রতি পদে লড়তে হয় নারীদের: তসলিমা নাসরিন
পরিবারেও অধিকার আদায়ে প্রতি পদে লড়তে হয় নারীদের: তসলিমা নাসরিন

কলকাতা:

পরিবার হোক বা পরিবারের বাইরে, নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য নারীদের প্রতি পদে লড়াই করতে হয়। বৃহস্পতিবার কলকাতায় এক সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করলেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

অনুষ্ঠানে নারীর সমানাধিকারের পক্ষে নিজের লেখা কবিতা আবৃত্তি করেন তসলিমা। ‘শিকল ভাঙার গল্প’ কবিতাটি পাঠ করার সময় তিনি স্মরণ করেন তাঁর মায়ের কথা। পরিবারের সকলের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য কীভাবে নিরলস পরিশ্রম করতেন তাঁর মা, অথচ নীরবে সহ্য করে যেতেন সমস্ত কষ্ট—সেই অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তসলিমা বলেন, “পরিবারের মধ্যে হোক বা বাইরে, নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য নারীদের প্রতি পদে লড়াই করতে হয়। একজন নারী যে সেবা করেন, তার কোনও হিসাব রাখা হয় না। কিন্তু সামান্য কোনও ত্রুটি হলেই তা হিসাবের মধ্যে ধরা হয়।”

নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে তাঁকে অপদস্থ করার সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র বলে উল্লেখ করেন লেখিকা। এই ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা সাহসের সঙ্গে করার জন্য নারীদের আহ্বান জানান তিনি।

চলতি বছরের জুলাই মাসের পর এটি তসলিমার দ্বিতীয় কলকাতা সফর। ২০০৭ সালে তাঁর বিতর্কিত স্মৃতিকথা ‘দ্বিখণ্ডিত’ প্রকাশকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদের জেরে শহর ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর প্রায় ১৯ বছর কলকাতায় আসা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। বইটিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে—এই অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেটি নিষিদ্ধ করেছিল।

অনুষ্ঠানে ‘উমা সম্মান’ প্রদান করা হয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখা এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়া নারীদের। সম্মানপ্রাপকদের মধ্যে ছিলেন জাদুশিল্পী মানেকা সরকার এবং পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ধর্ষণ-খুনের শিকার চিকিৎসকের মা তিনি।

মেয়ের জন্য ন্যায়বিচারের লড়াই প্রসঙ্গে রত্না দেবনাথ বলেন, তাঁর মেয়েই তাঁকে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করতে শিখিয়েছে।

তিনি বলেন, “আগে আমি এক মেয়ের মা ছিলাম, কিন্তু এখন আমি হাজার হাজার ছেলে-মেয়ের মা।” মেয়ের জন্য ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে দেশজুড়ে মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও উৎসাহ পেয়েছেন, সেই প্রসঙ্গেই এ কথা বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অগস্টে সরকারি আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সেমিনার কক্ষে কর্তব্যরত ওই চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।