আবৃত্তির সুরে রেকর্ডের পাতায় মেদিনীপুরের খুদে অর্কস্মিত

Story by  Sampee Chakroborty Purkayastha | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 14 h ago
আবৃত্তির সুরে রেকর্ডের পাতায় মেদিনীপুরের খুদে অর্কস্মিত
আবৃত্তির সুরে রেকর্ডের পাতায় মেদিনীপুরের খুদে অর্কস্মিত
 
শম্পি চক্রবর্তী পুরকায়স্থ 

বয়স মাত্র সাত বছর সাত মাস। কিন্তু এই ছোট্ট বয়সেই কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করে নজর কেড়েছে মেদিনীপুর শহরের নজরগঞ্জের বালক অর্কস্মিত পাখিরা। ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’-এর পাতায় নাম তুলে মেদিনীপুরের এই খুদে আবৃত্তিকার প্রমাণ করেছে, বয়স প্রতিভার পথে বাধা হতে পারে না।
 
অর্কস্মিত মেদিনীপুর শহরের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। মাত্র ২০ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে ১৪টি বাংলা কবিতা আবৃত্তি করে সে এই রেকর্ড গড়েছে। এত কম বয়সে একের পর এক কবিতা মনে রেখে সাবলীলভাবে আবৃত্তি করার দক্ষতা ইতিমধ্যেই তার পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
 
অর্কস্মিতের বাবা হীরুলাল পাখিরা এবং মা প্রীতিমা দে—দু’জনেই উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা। ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি সন্তানের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রেও পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই অর্কস্মিতের কবিতা ও আবৃত্তির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহকে ধীরে ধীরে প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের মাধ্যমে আরও পরিণত করে তুলেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
 

চার বছর ধরে আবৃত্তির প্রশিক্ষণ

 
অর্কস্মিত গত চার বছর ধরে আবৃত্তির প্রশিক্ষণ নিচ্ছে সুতনুকা মিত্র মাইতির কাছে। দীর্ঘদিনের অনুশীলনের ফলেই এত অল্প বয়সে মঞ্চে বা রেকর্ডের জন্য ধারাবাহিকভাবে কবিতা আবৃত্তি করার আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে তার। বাংলা কবিতার ছন্দ, উচ্চারণ, আবেগ এবং উপস্থাপনার দিকে বিশেষ নজর দিয়ে তার প্রশিক্ষণ চলছে।
মাত্র চার বছর বয়স থেকেই আবৃত্তির জগতে তার যাত্রা শুরু। সেই পথ পেরিয়ে এবার রেকর্ডের স্বীকৃতি তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছে পরিবার। একই সঙ্গে বাংলা ভাষা ও কবিতার প্রতি ছোটদের আগ্রহ তৈরিতেও অর্কস্মিতের এই সাফল্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।
 

খুদের সাফল্যে নতুন স্বপ্ন

 
বর্তমান সময়ে শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি নানা ধরনের সৃজনশীল কাজে যুক্ত করার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। অর্কস্মিতের সাফল্য সেই জায়গায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্র হয়েও বাংলা কবিতা ও আবৃত্তিকে ভালোবেসে নিয়মিত চর্চা করে চলেছে সে।২০ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে ১৪টি কবিতা আবৃত্তির এই সাফল্য তাই শুধু একটি রেকর্ড নয়, বাংলা ভাষা ও কবিতার প্রতি এক খুদের ভালোবাসারও পরিচয়। মেদিনীপুরের অর্কস্মিতের এই পথচলা ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাবে—এমনটাই আশা পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের।