৩১ মার্চের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফের হাতে অধিগৃহীত জমি তুলে দিতে নির্দেশ হাইকোর্টের

Story by  atv | Posted by  Sudip sharma chowdhury • 4 d ago
কলকাতা হাই কোর্ট (ফাইল চিত্র )
কলকাতা হাই কোর্ট (ফাইল চিত্র )
 
কলকাতা:
 
ইন্দো–বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গের ন’টি সীমান্তবর্তী জেলায় ইতিমধ্যেই অধিগৃহীত জমি আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর হাতে তুলে দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এই নির্দেশ দেয় আদালত।

আদালত উল্লেখ করে যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের মোট সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি অংশ পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। ২০১৬ সাল থেকে একাধিকবার রাজ্য মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত নেওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সীমান্তের বিস্তীর্ণ অংশ এখনও বেড়াবিহীন রয়ে গেছে।

প্রধান বিচারপতি সুজয় পল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, প্রশাসনিক বা নির্বাচনী কারণে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্বে বিলম্ব করা যায় না। কেন্দ্রের অর্থে অধিগৃহীত জমি দ্রুত হস্তান্তর করতেই হবে বলে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে।

চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বা নির্বাচনের প্রস্তুতির মতো কারণগুলি নির্দেশ মানতে ব্যর্থ হওয়ার যুক্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয়।

প্রাক্তন সেনা আধিকারিক সুব্রত সাহার দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিকালে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলায় তিনি দাবি করেন, জমি হস্তান্তরে রাজ্যের গাফিলতির ফলে চোরাচালান ও সীমান্ত অনুপ্রবেশ বেড়েছে।

কেন্দ্র সরকারের পক্ষে আইনজীবী আদালতকে জানান, জমি অধিগ্রহণ রাজ্যের এক্তিয়ারে পড়লেও ক্ষতিপূরণ প্রদান ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন হয়ে গেলে সংবিধান অনুযায়ী রাজ্য সরকারের দায়িত্ব বিএসএফের হাতে জমির দখল তুলে দেওয়া।

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় মোট ২৩৫ কিলোমিটার সীমান্তের তুলনায় এখনও পর্যন্ত মাত্র কিছু জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যদিও ২০২৫ সালের জুনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের চিঠিসহ একাধিকবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে তাগিদ দেওয়া হয়েছিল।

রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অভাবে যে সব এলাকায় এখনও জমি হস্তান্তর ঝুলে রয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত।

জাতীয় নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে সীমান্তবর্তী জমি জরুরি ভিত্তিতে অধিগ্রহণ করা যায় কি না, সে বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার—উভয়কেই হলফনামা দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বেঞ্চ বিষয়টিকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছে—১) অধিগৃহীত ও মূল্য পরিশোধিত হলেও এখনও হস্তান্তর না হওয়া জমি,২) যেসব জমিতে অধিগ্রহণ বা ক্রয় প্রক্রিয়া চলছে,৩) এবং যেসব জমিতে এখনও কোনও প্রক্রিয়া শুরুই হয়নি।

ইতিমধ্যেই অধিগৃহীত জমির ক্ষেত্রে আর বিলম্বের কোনও যুক্তি নেই বলে মন্তব্য করে আদালত ৩১ মার্চের মধ্যে বিএসএফের হাতে দখল তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্বাচনী কার্যক্রম কোনওভাবেই সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে না।

এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২ এপ্রিল, ২০২৬।